মো. আয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ: চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশে নির্বাচনে সহিংসতার ৬ মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলা আ’লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমভাবে বিরাজ করছে। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এনে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করতে স্বতন্ত্র ও ডামি প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাদের মাঠে নামানোয় ক্ষমতাসীন আ’লীগের দলীয় কৌশল ছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে নৌকার বিপক্ষে ব্যক্তির পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও তীব্র করেছে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান দলগুলির বর্জনের পর চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী খুব সহজে নির্বাচিত হয়েছিল। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে নানান কটু কথা শুনতে হতো প্রায় সময় নানান জায়গায়।

দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ছাড় দিলেও এলাকা ভিত্তিক বিভক্ত করার জন্য জনে জনে বিদ্রোহী বিশেষণ ও প্রদক্ষেপ প্রয়োগ করছে। স্থানীয় রাজনীতিতে যথাযথভাবে ত্যাগী নেতা- কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় অবহেলিত গ্রুপটি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাদের অবস্থান জানান দিতে পক্ষে-বিপক্ষে নির্বাচনের মাঠে ব্যবহার হতে দেখা যায়।

এই নির্বাচনকে ঘিরে চন্দনাইশ পৌরসভা, দোহাজারী পৌরসভা, ধোপাছড়ি, জোয়ারা, হাশিমপুরে নির্বাচনী সহিংসতার জন্য ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাতনামা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং আরোও মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ সকল মামলার কারণে অনেকেই গ্রেপ্তার আতংকে ভুগছেন।

জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক চন্দনাইশ চৌধুরী পাড়ার শেখ টিপু চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় টিপু চৌধুরী বাদী হয়ে আবদুর রহিমসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরের দিন ৭ জানুয়ারি সকালে নৌকার সমর্থক হাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. খোরশেদ বিন ইসহাককে মারধর করার ঘটনায় মো. জসিম উদ্দীনসহ ৪ জন ও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে ৯ জানুয়ারি মামলা করেন তিনি।

ভোটের দিন ৭ জানুয়ারি বিকেলে দোহাজারী পৌরসভার সামনে দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা ও এমপির ভাগিনা আমিনুল ইসলাম কায়সারকে মারধর করার ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে উপজেলা আ্লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবর আলী ইনুসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনকে আসামি করে গত ১২ জানুয়ারি আরোও একটি মামলাটি দায়ের করা হয়। একইদিন দুপুরে বদুর পাড়া এলাকায় ভোট কেন্দ্রের সামনে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনায় পুলিশের গাড়ি চালক বাপ্পি দাশ বাদি হয়ে উপজেলা আ্লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনুসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ১২ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়।

ভোটের দিন ভোর রাতে বুলার তালুক এলাকায় ওয়ার্ড আ্লীগের সভাপতি আবদুল জলিলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে কাউন্সিলর আবু তৈয়বসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে গত ১১ জানুয়ারি মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ১’শ-দেড়শ জনকে আসামি করা হয়।

ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটের দিন সন্ধ্যায় ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোলসহ বিভিন্ন অপরাধে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও দোহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাদি হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ হাজার জনকে আসামি করে গত ১১ জানুয়ারি আরেকটি মামলা করেন। এসব মামলার কারণে গ্রেপ্তার আতংকে রয়েছেন অনেকেই। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বার চৌধুরী আ্লীগের হলেও বিভক্ত ছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ফলে মামলার আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের পদবীধারী নেতা।

নির্বাচন পরবর্তী এ সকল মামলার কারণে নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন হতাহতের রক্তের মাধ্যমে ভোট উৎসব শেষ হলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না বিভক্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতা-কর্মী আশঙ্কা করছে, এমন পরস্থিতি দীর্ঘ হলে পরাজিত প্রার্থীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এখন সরকার বিরোধী শক্তিতে রূপান্তর হওয়ার সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় দিন যাপন করবে।

মো. আয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ: চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশে নির্বাচনে সহিংসতার ৬ মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলা আ’লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমভাবে বিরাজ করছে। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এনে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করতে স্বতন্ত্র ও ডামি প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাদের মাঠে নামানোয় ক্ষমতাসীন আ’লীগের দলীয় কৌশল ছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে নৌকার বিপক্ষে ব্যক্তির পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও তীব্র করেছে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান দলগুলির বর্জনের পর চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী খুব সহজে নির্বাচিত হয়েছিল। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে নানান কটু কথা শুনতে হতো প্রায় সময় নানান জায়গায়।

দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ছাড় দিলেও এলাকা ভিত্তিক বিভক্ত করার জন্য জনে জনে বিদ্রোহী বিশেষণ ও প্রদক্ষেপ প্রয়োগ করছে। স্থানীয় রাজনীতিতে যথাযথভাবে ত্যাগী নেতা- কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় অবহেলিত গ্রুপটি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাদের অবস্থান জানান দিতে পক্ষে-বিপক্ষে নির্বাচনের মাঠে ব্যবহার হতে দেখা যায়।

এই নির্বাচনকে ঘিরে চন্দনাইশ পৌরসভা, দোহাজারী পৌরসভা, ধোপাছড়ি, জোয়ারা, হাশিমপুরে নির্বাচনী সহিংসতার জন্য ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাতনামা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং আরোও মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ সকল মামলার কারণে অনেকেই গ্রেপ্তার আতংকে ভুগছেন।

জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক চন্দনাইশ চৌধুরী পাড়ার শেখ টিপু চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় টিপু চৌধুরী বাদী হয়ে আবদুর রহিমসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরের দিন ৭ জানুয়ারি সকালে নৌকার সমর্থক হাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. খোরশেদ বিন ইসহাককে মারধর করার ঘটনায় মো. জসিম উদ্দীনসহ ৪ জন ও অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে ৯ জানুয়ারি মামলা করেন তিনি।

ভোটের দিন ৭ জানুয়ারি বিকেলে দোহাজারী পৌরসভার সামনে দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা ও এমপির ভাগিনা আমিনুল ইসলাম কায়সারকে মারধর করার ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে উপজেলা আ্লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবর আলী ইনুসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনকে আসামি করে গত ১২ জানুয়ারি আরোও একটি মামলাটি দায়ের করা হয়। একইদিন দুপুরে বদুর পাড়া এলাকায় ভোট কেন্দ্রের সামনে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনায় পুলিশের গাড়ি চালক বাপ্পি দাশ বাদি হয়ে উপজেলা আ্লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনুসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ১২ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়।

ভোটের দিন ভোর রাতে বুলার তালুক এলাকায় ওয়ার্ড আ্লীগের সভাপতি আবদুল জলিলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে কাউন্সিলর আবু তৈয়বসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে গত ১১ জানুয়ারি মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ১’শ-দেড়শ জনকে আসামি করা হয়।

ধোপাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটের দিন সন্ধ্যায় ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোলসহ বিভিন্ন অপরাধে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও দোহাজারী রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাদি হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ হাজার জনকে আসামি করে গত ১১ জানুয়ারি আরেকটি মামলা করেন। এসব মামলার কারণে গ্রেপ্তার আতংকে রয়েছেন অনেকেই। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বার চৌধুরী আ্লীগের হলেও বিভক্ত ছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ফলে মামলার আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের পদবীধারী নেতা।

নির্বাচন পরবর্তী এ সকল মামলার কারণে নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন হতাহতের রক্তের মাধ্যমে ভোট উৎসব শেষ হলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না বিভক্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতা-কর্মী আশঙ্কা করছে, এমন পরস্থিতি দীর্ঘ হলে পরাজিত প্রার্থীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এখন সরকার বিরোধী শক্তিতে রূপান্তর হওয়ার সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় দিন যাপন করবে।