নিউজ ডেস্ক: গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছাড় পেয়ে ১৪ দলের তিন শরিক জাসদের তিনজন, ওয়ার্কার্স পার্টির দু’জন এবং জাতীয় পার্টি-জেপির একজন নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। তবে জিতেছেন মাত্র দু’জন, বরিশাল-২ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং বগুড়া-৪ আসন থেকে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম তানসেন।

আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, রাজশাহী-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাসদের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন।

অন্যদিকে, নৌকায় ছাড় না পেয়ে একাদশ সংসদের এমপি জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার তাঁর ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। প্রার্থিতা জমা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ওই সংসদের অন্য দুই এমপি, চট্টগ্রাম-২ আসনের তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ, ১১ দল, জাসদ ও ন্যাপকে নিয়ে ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর পর জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে সফলতার পর থেকে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও গড়ে ১৪-১৬টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয়ী হওয়ার পর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত মহাজোট সরকারে ঠাঁই মিলেছিল শরিক নেতাদের। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ১৪ দল ও মহাজোট শরিকদের কারও স্থান হয়নি। সম্প্রতি জোট শরিকদের ‘নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর’ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে জোট শরিকদের প্রতি ‘অবমূল্যায়ন’-এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ‘একলা চলো’ নীতিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। এতে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ডেকে এবারের নির্বাচনেও জোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেন জোটনেত্রী।

শরিক নেতারা বলছেন, টানা চতুর্থবারের মতো এবারও ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন হলেও আসন ছাড়ের প্রশ্নে শুরু থেকে ‘অবমূল্যায়ন’ ও ‘অবহেলা’ করা হয়েছে শরিক দলগুলোর প্রতি। দফায় দফায় বৈঠক এবং অনেক অনুরোধের পরও মাত্র ছয়টি আসনে ছাড় মিলেছে। তবে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের না সরানোর প্রশ্নেও অনড় অবস্থান ছিল ক্ষমতাসীন দলটির। নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হলেও ছাড় দেওয়া আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীর তেমন সহযোগিতাও মেলেনি।

এ অবস্থায় জোটগত রাজনীতির প্রশ্নে শরিকদের অবস্থান কী হবে- সেটা নিয়ে নানা কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করছি শিগগির ১৪ দলের বৈঠক হবে। নতুন সরকারও তার কৌশল জানাক। নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় কিংবা জোটনেত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী নির্দেশনা কী আসে– তার ভিত্তিতেই আমরা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

জোটের ঐক্য প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তো এখনও ১৪ দলে আছি। রাজনৈতিক কারণেই ঐক্য বহাল থাকবে। কিন্তু সে জন্য আওয়ামী লীগকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা প্রথমে দলীয় সভা করে নিজেদের করণীয় ঠিক করব। এর পর ১৪ দলের বৈঠক হলে সেখানেও আমাদের কথাগুলো তুলে ধরব।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সবার আগে আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে– তারা কী করবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, ১৪ দল থাকবে কী থাকবে না– সেটা আসলে নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। এ বিষয়ে তিনি দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সূত্রঃ সমকাল

নিউজ ডেস্ক: গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছাড় পেয়ে ১৪ দলের তিন শরিক জাসদের তিনজন, ওয়ার্কার্স পার্টির দু’জন এবং জাতীয় পার্টি-জেপির একজন নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। তবে জিতেছেন মাত্র দু’জন, বরিশাল-২ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং বগুড়া-৪ আসন থেকে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম তানসেন।

আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, রাজশাহী-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাসদের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন।

অন্যদিকে, নৌকায় ছাড় না পেয়ে একাদশ সংসদের এমপি জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার তাঁর ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। প্রার্থিতা জমা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ওই সংসদের অন্য দুই এমপি, চট্টগ্রাম-২ আসনের তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ, ১১ দল, জাসদ ও ন্যাপকে নিয়ে ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর পর জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে সফলতার পর থেকে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও গড়ে ১৪-১৬টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয়ী হওয়ার পর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত মহাজোট সরকারে ঠাঁই মিলেছিল শরিক নেতাদের। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ১৪ দল ও মহাজোট শরিকদের কারও স্থান হয়নি। সম্প্রতি জোট শরিকদের ‘নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর’ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে জোট শরিকদের প্রতি ‘অবমূল্যায়ন’-এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ‘একলা চলো’ নীতিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। এতে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ডেকে এবারের নির্বাচনেও জোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেন জোটনেত্রী।

শরিক নেতারা বলছেন, টানা চতুর্থবারের মতো এবারও ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন হলেও আসন ছাড়ের প্রশ্নে শুরু থেকে ‘অবমূল্যায়ন’ ও ‘অবহেলা’ করা হয়েছে শরিক দলগুলোর প্রতি। দফায় দফায় বৈঠক এবং অনেক অনুরোধের পরও মাত্র ছয়টি আসনে ছাড় মিলেছে। তবে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের না সরানোর প্রশ্নেও অনড় অবস্থান ছিল ক্ষমতাসীন দলটির। নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হলেও ছাড় দেওয়া আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীর তেমন সহযোগিতাও মেলেনি।

এ অবস্থায় জোটগত রাজনীতির প্রশ্নে শরিকদের অবস্থান কী হবে- সেটা নিয়ে নানা কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করছি শিগগির ১৪ দলের বৈঠক হবে। নতুন সরকারও তার কৌশল জানাক। নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় কিংবা জোটনেত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী নির্দেশনা কী আসে– তার ভিত্তিতেই আমরা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

জোটের ঐক্য প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তো এখনও ১৪ দলে আছি। রাজনৈতিক কারণেই ঐক্য বহাল থাকবে। কিন্তু সে জন্য আওয়ামী লীগকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা প্রথমে দলীয় সভা করে নিজেদের করণীয় ঠিক করব। এর পর ১৪ দলের বৈঠক হলে সেখানেও আমাদের কথাগুলো তুলে ধরব।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সবার আগে আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে– তারা কী করবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, ১৪ দল থাকবে কী থাকবে না– সেটা আসলে নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। এ বিষয়ে তিনি দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সূত্রঃ সমকাল