নগর প্রতিবেদক: আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কড়া সমালোচনা করেছেন নেতারা। আজ শনিবার মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়।
সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য রোটারিয়ান ইলিয়াস বলেন, মহানগরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দু’জন। এ সময় উপস্থিত অন্য নেতারা এর প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, নির্বাচন ঘিরে ব্যক্তিস্বার্থ ও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভুলভাবে নেতাকর্মীর সামনে তুলে ধরে তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি যাকে সবচেয়ে বেশি যোগ্য মনে করেছি, তার হাতে নৌকা দিয়েছি। আপনারা তার পক্ষে কাজ করবেন। কিন্তু কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন– দুটির অর্থ ভিন্ন। কিন্তু নেত্রীর এ বক্তব্যকে ব্যক্তিস্বার্থে একটি মহল ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম-১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক সুমনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি এবার নির্বাচন করব, কল্পনাতেও ছিল না। আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু সুজন ভাই, নাছির ভাই, আলতাফ হোসেন বাচ্চু ভাই আমাকে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে বলেছেন।’ সুমন আরও বলেন, তিনি হাইকমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন।
বর্ধিত সভায় সুমনের এ বক্তব্যের বিষয়ে নাছির উদ্দীনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে নেতারা বলেন, আপনি (নাছির) নিজে একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করবেন না বলেছেন। সুজন ভাইও একই কথা বলেছেন। আপনারা নিজেরা দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন না করে এখন একজন ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদককে নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড় করালেন! আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার ওপরও কোনো হাইকমান্ড আছে কিনা, তা-ও জানতে চান তারা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সভায় ব্যাপক হট্টগোল হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সভায় জোরালো অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জালাল উদ্দিন ইকবাল, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, শফি আদনান প্রমুখ। সভার পুরো সময় নাছির উদ্দীনকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা যায়।




