খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলাতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ নেতা বিপুল চাকমাসহ চার জনের দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও ১৫-২০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পানছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার(১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার ২নং চেংগী ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের পেত্তুয়াপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা তারাবন ছড়ার পাশে ধর্মীয় কার্যাদি শেষে তাদের দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় হাজারো নেতাকর্মী ও গ্রামবাসী এ নির্মম হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে শ্লোগান দেয়।
এর আগে বুধবার(১২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়না তদন্ত শেষ হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে একে একে হন্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুুপের ৪ নেতাকর্মীর লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে পুলিশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা পর বিকেলে শিব মন্দির এলাকা হতে মরদেহটি ইউপিডিএফ’র দলীয় পতাকা ও কালো পতাকাবাহি সম্বলিত জীপ গাড়ি(চাদের গাড়ি), ফ্রিকাফ গাড়ি শোভাযাত্রায় প্রতিবাদ শ্লোগানে গার্ড অব অনারের জন্য নির্ধারিত পুজগাং ২নং চেংগী ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের পেত্তুয়া গ্রামের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে নিহত ৪ জনের লাশ ১৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পানছড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এর পরে সকালে পানছড়ি থানা থেকে মরদেহগুলো বুধবার(১৩ ডিসেম্বর) সকালে তাদের লাশ খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে আসে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না নিহতের স্বজনরা।
ঘটনায় অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামী করে পানছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহত বিপুল চাকমার চাচা নিরুপম চাকমা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: সফিউল আজম।
তিনি জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় লাশ উদ্ধারে দেরি হয়েছে।
গত সোমবার রাত ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ির দুর্গম সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি জনপদ পুজগাং এর অনিলপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়, ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুুপের অঙ্গ- সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা লিটন চাকমা ও ইউপিডিএফ সদস্য রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা। এসময় সন্ত্রাসীরা আরো ৩জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুুপ এ হত্যাকান্ডের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করলেও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক তা অস্বীকার করেছে।
এইদিকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ই্ধসঢ়;উপিডিএফ প্রসীত গ্রুুপ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোক সভা, বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত পানছড়ি বাজার বয়কট(প্রয়োজনে বয়কটের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে)।
১৭ ডিসেম্বর পানছড়ি উপজেলাব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও ১৮ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ।
উল্লেখ্য পানছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুুপের ৪ নেতাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার(১১ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত দশটার দিকে উপজেলার ১নম্বর লোগাং ইউপির ৬নম্বর ওয়ার্ডের অনিল পাড়ার অতুল চাকমার বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। বাড়িতে ঢুকে সরাসরি এই হত্যকান্ড ঘটানো হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা আরো ৩ জনকে ধরে নিয়ে যায়।




