নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ এলাকা হচ্ছে চকবাজার। সেখানে রয়েছে অসংখ্য ব্যাংক বীমা হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মার্কেট নানা ব্যবসাসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গড়ে উঠেছে বালি আর্কেডের মতো অত্যাধুনিক শপিংমলও। ফলে এই এলাকায় থাকে ২৪ ঘন্টা সাধারণ মানুষের কোলাহল। আবার চোখে পড়ে প্রচন্ড যানজটও। সরু গলির মতো সড়ক থাকায় লেগে থাকে সারাক্ষণ যানজট।

অন্যদিকে প্রতিদিন সকালে ডিসিহীলের আশপাশ এলাকায় রাস্তার উপর বসে অবৈধ দোকানপাট। এসব ভাসমান দোকান থেকে সংশ্লিষ্ঠ কাউন্সিলর তার লোকজন দিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করছে। কোতোয়ালী পুলিশ এসব চোখে দেখলেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকার অধিক চাঁদা ডিসিহীলের আশপাশ এলাকা হ’তে উত্তোলন করছে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের অনুসারীরা।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের মুঠোফোনে কল করলে ফোন সুইচ অফড থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম কলেজ পার হতেই নিশ্চিত আপনাকে জ্যামে পড়তে হবে এবং নাকানি চুবানি খেতে হবে বলে জানায় সুজেল নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

ওই শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, কলেজ প্যারেড কর্ণার পার হয়ে অলি খাঁ মসজিদ যেতে লেগে যায় ঘন্টা। পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও গাফেলতির কারণেই নিত্য যানজট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। এই অবস্থা দেখা যায় চকসুপার মার্কেট এলাকায়ও।

চকবাজার এলাকার উভয় পাশে অবৈধভাবে গাড়ির স্ট্যান্ড বাসিয়ে যানজট তৈরী করা হয়েছে। অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এই পথের যাত্রীরা। এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাঁচা বাজার, চকসুপার মার্কেট, চকভিউ সুপার মার্কেট,গুলজার টাউয়ার, মতি টাউয়ার,কেয়ারী ইলিশিয়াম, ছৈয়দ সুবসতি শপিং সেন্টার, শাহেনশাহ মার্কেট, হার্ডওয়ার মোটর পার্টস মার্কেট ও ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দোকান। আছে সিনেমা হলও। তাছাড়া আশপাশে গড়ে উঠেছে বিপুল জনগোষ্টির জনবসতিও। বিশাল আবাসিক এই ব্যবসায়ীক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা শংকা।

সুত্রটি আরো জানায়, চকবাজারে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার চিকিৎসক চেম্বারের মাঝামাঝি রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন নামকরা কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্ডেন প্রাইমারী স্কুলও আছে এই এলাকায়। আছে ছোটখাট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি কামিল (এমএ) মাদ্রাসাও আছে বলে জানা গেছে। আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। এখানে কামলাও বেঁচাবিক্রি হয় সকাল-সন্ধ্যা।

অভিযোগ আছে, প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে এই এলাকায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই বললে চলে। ফুটপাতে হাটাচলাও করা যায়না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এক শ্রেনীর ভাসমান হকাররাই অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে পুরো চকবাজার এলাকার ফুটপাত, সড়ক ও অলিগলি। চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরাই ভাসমান হকারদের সেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগিরা। সকাল সন্ধা হকাররাই নানা পসরা সাজিয়ে সড়ক দখল করে রমরমা ব্যবসা করে গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিনিয়ত। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত উচ্ছেদ অভিযানও চালাতে দেখা যায়। পরক্ষনে আবার বসে হাকাররা। ভাসমান হকার বসিয়ে প্রতিদিন আদায় করে নিচ্ছে লাখ টাকার অধিক চাঁদা। এক্ষেত্রে অনিহা প্রকাশ পেলে হকারদের মারধর করে জোরপুর্বক টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও হরহামেশা। ওই এলাকার সড়ক পথের রাজা হচ্ছে চাঁদাবাজরাই। তাদের কথায় চলে সড়কে হকারদের উঠাবসা। তাদের আছে গডফাদার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন যেন তাদের কাছে অসহায়। নাকের ডগায় সড়ক দখল যানজট তৈরী করে ছুটিয়ে ব্যবসা করে গেলেও মনে হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের কোন দায়িত্ব নেই। তারা সোজা দাঁড়িয়ে দেখে থাকেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একই অবস্থা বিরাজ করছে পাশের ইবনে সিনা ডায়াগণোষ্টিক সেন্টার পার্কভিউ হাসপাতাল থানার মোড় থেকে একেবারে মুরাদপুর ফুট ওভারব্রীজের উভয় পাশ পর্যন্ত। ভাসমান হকারদের সাথে পাল্লা দিয়ে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ডও আছে সড়কের উপর। এই পথের যাত্রীদের কষ্টের কোন সীমারেখা নেই। তারপরও সময় পার করে নিজ গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। ওই এলাকার মানুষ প্রতিবাদের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে। কেউ একটু প্রতিবাদ করতে চাইলে নেমে আসে নানা হুমকি ধমকি আর নির্যাতন।

থানা পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের, তাদের না। শুধু চকবাজার কিংবা মুরাদপুর এলাকায় নহে পুরো মহানগরজুড়েই রয়েছে ভাসমান হকারদের অধিপত্য। তারা চাঁদা দিয়েই সড়ক দখল করে ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় প্রাচীন নিউ মার্কেট ও রিয়াজউদ্দীন বাজারের আশপাশের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক এই এলাকার সড়ক দখল করে আছে ভাসমান হকাররা।

সুত্রটি আরো জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর অতি গুরুত্বপূর্ন সরগরম এলাকা হচ্ছে চকবাজার। আবাসিকসহ রয়েছে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ব্যাংক বীমা দেশের প্রাচীন নামকরা দুই সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজ হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে অসংখ্য কোচিং সেন্টারও। এই পথ দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ সহজে যাথায়ত করতে পারে। নানা পণ্য সামগ্রী কিনে ঘরে ফিরতে পারে। তবে তাদের সামনে বাঁধা হচ্ছে যানজট। প্রতিনিয়ত শ্রম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের। যানবাহনগুলো আইন কানুন মানেনা। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর নামে সাধারণ মানুষকে হরহামেশা যন্ত্রনা দিচ্ছে কষ্ট দিচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরাও যারপর নাই ক্ষুদ্ধ। ডিউটিরত পুলিশের দেখা মিললেও ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে খুব কম। দেখা গেলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনা। ফলে লেগে থাকে তীব্র যানজট। তবে থানা পুলিশকে দলবেঁধে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সুত্র আরো জানায় ,চট্টগ্রাম কলেজ, কেয়ারী, গুলজার মোড় অলি খাঁ মসজিদ,চকভিউ মার্কেট,হোটেল জামান থেকে তেলিপট্টি মোড়, চকসুপার মার্কেট,পূর্ব দিকে সিটি কর্পোরেশন কাঁচা বাজার থেকে মন্দির পার হয়ে খালপাড় পর্যন্ত অবৈধ ভাসমান হকার ও নওয়ালাদের দখলে চলে গেছে। সেখানে আবার মাছ বাজারও বসানো হয়েছে। বসে শত শত হকার। কাঁচা পণ্যসহ নানা পসরা সাজিয়ে ছুটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা ব্যবসা পরিচালনা করলেও সকাল সন্ধ্যা দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। চাঁদা না দিলে চলে মারধর বসারও কোন সুযোগ নেই। এসব চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহায় মিলেনা সামান্য সুইপারও। জুতো পালিশকারী থেকে শুরু করে সামান্য চনা পিয়াজু বিক্রেতারও রেহায় মিলেনা।

সকাল সন্ধ্যা দলবেঁধে এসব চাঁদাবাজদের দেখা যায়(প্যান্ট শার্ট পরা) চাঁদা আদায় করতে। এই এলাকা থেকে প্রতিদিন আদায় হয় লাখ টাকার অধিক চাঁদা জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

এব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তাকে পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে আবদুল জলিল নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেছেন, চকবাজারের বাতাস ও পরিবেশ আস্তে আস্তে নোংরায় পরিনত হচ্ছে। যেন সব কিছু হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তিনি রাস্তাঘাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমুহের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার আকুতি জানিয়েছেন। চকবাজারের একেবারে পাশের মুরাদপুর এলাকার উভয় পাশের যানজট এবং অবৈধ ভাসমান দখল করা হকারদের উচ্ছেদ করার দাবী ওই এলাকার সর্বমহলের। কিন্তু হবে কি প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ এলাকা হচ্ছে চকবাজার। সেখানে রয়েছে অসংখ্য ব্যাংক বীমা হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মার্কেট নানা ব্যবসাসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গড়ে উঠেছে বালি আর্কেডের মতো অত্যাধুনিক শপিংমলও। ফলে এই এলাকায় থাকে ২৪ ঘন্টা সাধারণ মানুষের কোলাহল। আবার চোখে পড়ে প্রচন্ড যানজটও। সরু গলির মতো সড়ক থাকায় লেগে থাকে সারাক্ষণ যানজট।

অন্যদিকে প্রতিদিন সকালে ডিসিহীলের আশপাশ এলাকায় রাস্তার উপর বসে অবৈধ দোকানপাট। এসব ভাসমান দোকান থেকে সংশ্লিষ্ঠ কাউন্সিলর তার লোকজন দিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করছে। কোতোয়ালী পুলিশ এসব চোখে দেখলেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকার অধিক চাঁদা ডিসিহীলের আশপাশ এলাকা হ’তে উত্তোলন করছে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের অনুসারীরা।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের মুঠোফোনে কল করলে ফোন সুইচ অফড থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম কলেজ পার হতেই নিশ্চিত আপনাকে জ্যামে পড়তে হবে এবং নাকানি চুবানি খেতে হবে বলে জানায় সুজেল নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

ওই শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, কলেজ প্যারেড কর্ণার পার হয়ে অলি খাঁ মসজিদ যেতে লেগে যায় ঘন্টা। পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও গাফেলতির কারণেই নিত্য যানজট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। এই অবস্থা দেখা যায় চকসুপার মার্কেট এলাকায়ও।

চকবাজার এলাকার উভয় পাশে অবৈধভাবে গাড়ির স্ট্যান্ড বাসিয়ে যানজট তৈরী করা হয়েছে। অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এই পথের যাত্রীরা। এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাঁচা বাজার, চকসুপার মার্কেট, চকভিউ সুপার মার্কেট,গুলজার টাউয়ার, মতি টাউয়ার,কেয়ারী ইলিশিয়াম, ছৈয়দ সুবসতি শপিং সেন্টার, শাহেনশাহ মার্কেট, হার্ডওয়ার মোটর পার্টস মার্কেট ও ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দোকান। আছে সিনেমা হলও। তাছাড়া আশপাশে গড়ে উঠেছে বিপুল জনগোষ্টির জনবসতিও। বিশাল আবাসিক এই ব্যবসায়ীক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা শংকা।

সুত্রটি আরো জানায়, চকবাজারে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার চিকিৎসক চেম্বারের মাঝামাঝি রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন নামকরা কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্ডেন প্রাইমারী স্কুলও আছে এই এলাকায়। আছে ছোটখাট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি কামিল (এমএ) মাদ্রাসাও আছে বলে জানা গেছে। আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। এখানে কামলাও বেঁচাবিক্রি হয় সকাল-সন্ধ্যা।

অভিযোগ আছে, প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে এই এলাকায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই বললে চলে। ফুটপাতে হাটাচলাও করা যায়না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এক শ্রেনীর ভাসমান হকাররাই অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে পুরো চকবাজার এলাকার ফুটপাত, সড়ক ও অলিগলি। চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরাই ভাসমান হকারদের সেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগিরা। সকাল সন্ধা হকাররাই নানা পসরা সাজিয়ে সড়ক দখল করে রমরমা ব্যবসা করে গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিনিয়ত। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত উচ্ছেদ অভিযানও চালাতে দেখা যায়। পরক্ষনে আবার বসে হাকাররা। ভাসমান হকার বসিয়ে প্রতিদিন আদায় করে নিচ্ছে লাখ টাকার অধিক চাঁদা। এক্ষেত্রে অনিহা প্রকাশ পেলে হকারদের মারধর করে জোরপুর্বক টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও হরহামেশা। ওই এলাকার সড়ক পথের রাজা হচ্ছে চাঁদাবাজরাই। তাদের কথায় চলে সড়কে হকারদের উঠাবসা। তাদের আছে গডফাদার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন যেন তাদের কাছে অসহায়। নাকের ডগায় সড়ক দখল যানজট তৈরী করে ছুটিয়ে ব্যবসা করে গেলেও মনে হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের কোন দায়িত্ব নেই। তারা সোজা দাঁড়িয়ে দেখে থাকেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একই অবস্থা বিরাজ করছে পাশের ইবনে সিনা ডায়াগণোষ্টিক সেন্টার পার্কভিউ হাসপাতাল থানার মোড় থেকে একেবারে মুরাদপুর ফুট ওভারব্রীজের উভয় পাশ পর্যন্ত। ভাসমান হকারদের সাথে পাল্লা দিয়ে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ডও আছে সড়কের উপর। এই পথের যাত্রীদের কষ্টের কোন সীমারেখা নেই। তারপরও সময় পার করে নিজ গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। ওই এলাকার মানুষ প্রতিবাদের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে। কেউ একটু প্রতিবাদ করতে চাইলে নেমে আসে নানা হুমকি ধমকি আর নির্যাতন।

থানা পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের, তাদের না। শুধু চকবাজার কিংবা মুরাদপুর এলাকায় নহে পুরো মহানগরজুড়েই রয়েছে ভাসমান হকারদের অধিপত্য। তারা চাঁদা দিয়েই সড়ক দখল করে ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় প্রাচীন নিউ মার্কেট ও রিয়াজউদ্দীন বাজারের আশপাশের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক এই এলাকার সড়ক দখল করে আছে ভাসমান হকাররা।

সুত্রটি আরো জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর অতি গুরুত্বপূর্ন সরগরম এলাকা হচ্ছে চকবাজার। আবাসিকসহ রয়েছে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ব্যাংক বীমা দেশের প্রাচীন নামকরা দুই সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজ হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে অসংখ্য কোচিং সেন্টারও। এই পথ দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ সহজে যাথায়ত করতে পারে। নানা পণ্য সামগ্রী কিনে ঘরে ফিরতে পারে। তবে তাদের সামনে বাঁধা হচ্ছে যানজট। প্রতিনিয়ত শ্রম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের। যানবাহনগুলো আইন কানুন মানেনা। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর নামে সাধারণ মানুষকে হরহামেশা যন্ত্রনা দিচ্ছে কষ্ট দিচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরাও যারপর নাই ক্ষুদ্ধ। ডিউটিরত পুলিশের দেখা মিললেও ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে খুব কম। দেখা গেলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনা। ফলে লেগে থাকে তীব্র যানজট। তবে থানা পুলিশকে দলবেঁধে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সুত্র আরো জানায় ,চট্টগ্রাম কলেজ, কেয়ারী, গুলজার মোড় অলি খাঁ মসজিদ,চকভিউ মার্কেট,হোটেল জামান থেকে তেলিপট্টি মোড়, চকসুপার মার্কেট,পূর্ব দিকে সিটি কর্পোরেশন কাঁচা বাজার থেকে মন্দির পার হয়ে খালপাড় পর্যন্ত অবৈধ ভাসমান হকার ও নওয়ালাদের দখলে চলে গেছে। সেখানে আবার মাছ বাজারও বসানো হয়েছে। বসে শত শত হকার। কাঁচা পণ্যসহ নানা পসরা সাজিয়ে ছুটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা ব্যবসা পরিচালনা করলেও সকাল সন্ধ্যা দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। চাঁদা না দিলে চলে মারধর বসারও কোন সুযোগ নেই। এসব চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহায় মিলেনা সামান্য সুইপারও। জুতো পালিশকারী থেকে শুরু করে সামান্য চনা পিয়াজু বিক্রেতারও রেহায় মিলেনা।

সকাল সন্ধ্যা দলবেঁধে এসব চাঁদাবাজদের দেখা যায়(প্যান্ট শার্ট পরা) চাঁদা আদায় করতে। এই এলাকা থেকে প্রতিদিন আদায় হয় লাখ টাকার অধিক চাঁদা জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

এব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তাকে পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে আবদুল জলিল নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেছেন, চকবাজারের বাতাস ও পরিবেশ আস্তে আস্তে নোংরায় পরিনত হচ্ছে। যেন সব কিছু হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তিনি রাস্তাঘাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমুহের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার আকুতি জানিয়েছেন। চকবাজারের একেবারে পাশের মুরাদপুর এলাকার উভয় পাশের যানজট এবং অবৈধ ভাসমান দখল করা হকারদের উচ্ছেদ করার দাবী ওই এলাকার সর্বমহলের। কিন্তু হবে কি প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।