নগর প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যেগে আজ শনিবার(০২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এর এস রহমান হলে পার্বত্য চুক্তি (শান্তি চুক্তির) অসাংবিধানিক ধারা সমূহ বাতিল ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান বলেন, গোটা বিশ্ব এখন বদলে যাচ্ছে, বদলাচ্ছে বিশ্বের নানা রীতিনীতি ও নিয়ম-কানুন। চলছে বিশ্বব্যাপী দিন বদলের পালা। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তেমনিভাবে বদলেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি সম্প্রদায়ের জীবনমান। ঠিক তার বিপরীতে একই এলাকায় বসবাস করা বাঙ্গালীদের ভাগ্য কি বদলেছে ? নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালী পরিবার সমূহ।
তিনি বলেন, একদিকে উপজাতি পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় যেসকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে অপরদিকে ঠিক তার বিপরীতে বাঙ্গালী পরিবারগুলো তা পাচ্ছেনা। একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই যুগের রক্তাক্ত বিদ্রোহের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ নামে একটি অসম চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সেই চুক্তির ফলে পার্বত্য উপত্যকায় বসবাসরত বাঙ্গালীদের সাংবিধানিক অধিকার তথা তাদের ন্যায্য মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে চরমভাবে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অনিবন্ধিত সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ (সংস্কার), মগপার্টি (এমএলপি) ও কেএনএফ সহ তাদের অন্যান্য সংগঠন প্রতিনিয়ত নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। গুম, হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ সহ বর্বরতম সব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালীদের উপর। এসব বর্বরতায় এবং অত্যাচারে বাঙ্গালীরা হারাচ্ছে তাদের ভিটেমাটি, এমনকি অনেকে হারাচ্ছে তাঁজা প্রাণ। ১৯৯৭ সালে চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এসব অত্যাচার চলে আসছে। আমাদের বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় ও পত্রপত্রিকায় যেভাবে উপজাতীয়দের অনগ্রসর, পশ্চাদপদ ও অসহায় চিহ্নিত করে একচেটিয়া সুযোগ-সুবিধা শুধুমাত্র উপজাতিদের জন্য উন্নয়ন কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। যদিও তারা বর্তমানে ততোটা পশ্চাদপদ নহে।
কাজী মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা শুধুমাত্র উপজাতিদের অধিকার, পশ্চাদপদতা, অসহায়ত্বতা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিরা অনগ্রসর। কিন্তু তার বিপরীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যেসব বাঙ্গালী পরিবার উপজাতিদের চেয়ে অনেক বেশি অনগ্রসর, পশ্চাদপদ ও বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে কোন গবেষণা নেই, নেই কোন রিপোর্ট। বাস্তবিকভাবে দেখা যায় উপজাতিরা বর্তমানে মোটেও পশ্চাদপদ নহে। প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায় নেতৃত্বে, কর্তৃত্বে, ক্ষমতায়, সুযোগ-সুবিধায় ও ধন-দৌলতে সর্বক্ষেত্র উপজাতিদের দখলে। তারা বাংলাদেশের অন্যসব জেলার মানুষের চেয়ে অনেক উন্নত জীবন-যাপন করছে। শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্যে সর্বক্ষেত্রে তারা বাঙ্গালীদের চেয়ে বহুগুণে প্রতিষ্ঠিত।
আপনারা জানেন, আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি তথা শান্তি চুক্তির ২৬তম বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিষবৃক্ষ হিসেবে পাহাড়ে অশান্তি এবং সাম্প্রদায়িক বৈষম্য সৃষ্টি করে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির মহাসচিব আলমগীর কবির, যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক এম রুহুল আমিন সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




