নগর প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যান কুওং একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল-সহ আজ রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ।
উভয় দেশের মধ্যে আন্তরিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পক অব্যাহত রয়েছে যা বিগত কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে আরো গভীর এবং দৃঢ় হয়েছে উল্লেখ করে ভিয়েতনাম রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যান কুওং বলেন, গত দু’বছরে করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাহত হলেও দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল স্থিতিশীল। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
তিনি বলেন, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উভয় দেশের ৮৮৩ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে যার মধ্যে ৯০% রপ্তানি করে ভিয়েতনাম। যদিও বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১০৮ মিলিয়ন ডলার কিন্তু গত বছরের তুলনায় তা আড়াই গুণ বেশি। উভয় দেশের মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যপূরণ এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করতে তিনি চিটাগাং চেম্বারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি চট্টগ্রামে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে চিটাগাং চেম্বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিলিটেড করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উভয়দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চিটাগাং চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহত্তর চট্টগ্রামকে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও লজিস্টিক্স এর আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এ অঞ্চলে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন সাধিত করছেন উল্লেখ করে চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, চামড়াজাত পণ্যসহ ননলেদার স্পোর্টস ফুটওয়্যার এবং মটর সাইকেল উৎপাদন খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহবান জানান। এছাড়া সম্ভাবনাময় ব্লু-ইকোনমি খাত এবং চট্টগ্রামের উপকূলীয় ও পাহাড়ী অঞ্চলভিত্তিক কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে ভিয়েতনাম যৌথ বিনিয়োগ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি উভয়দেশের সম্ভাবনাময় খাতসমূহ চিহ্নিতকরণ ও তা নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের আদান-প্রদান, দু’দেশের চেম্বারসমূহের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশীদের জন্য অন এরাইভাল ভিসা এবং সরাসরি ফ্লাইট চালু করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওমর হাজ্জাজ প্রতিনিধিদলের ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁরা বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন তা চেম্বারকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি চট্টগ্রামে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য চিটাগাং চেম্বারে “ইনভের্স্টধসঢ়;স লাইব্রেরী” স্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ উৎপাদন খাতে ভিয়েতনাম প্রযুক্তিগতভাবে অনেক সমৃদ্ধ উল্লেখ করে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও তথ্য আদান-প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগ কামনা করেন।
চেম্বার পরিচালকবৃন্দ কারিগরি ও শিক্ষা খাতসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ কামনা করে উভয়দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন এক্সপো- তে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণপূর্বক পণ্য পরিচিতি ও সম্পর্কোন্নয়ন এবং উভয়দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের উপর গুরুত্বারোপ করেন। চিটাগাং চেম্বার কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের আলাদা জোন নিয়ে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
উপস্থিত ছিলেন অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব, বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বারের পরিচালক অনিক রাশেদ খান এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে পরিচালকবৃন্দ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), বেনাজির চৌধুরী নিশান, মাহবুবুল হক মিয়া, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, ওমর মুক্তাদির, বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বারের পরিচালক মোঃ আবদুস সোবাহান, দূতাবাস এবং চেম্বারের কর্মকর্তাবৃন্দ।




