ঢাকা : বিদেশে বসে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে যেসব ষড়যন্ত্র চলছে তা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন ম্যাকানিজম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাতে একটি রাজনৈতিক দল লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার, আমরা জনগণের আস্থার উপর, জনগণের রায়ের উপর, জনগণের সমর্থনের উপর দাঁড়িয়ে আছি। আমরা সেটাতেই বিশ্বাস করি। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এন্টি লবিস্ট নিয়োগ বা অন্য কোনভাবে প্রতিকার করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল নয়। আমরা জনগণের শক্তির উপর নির্ভরশীল। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের শক্তির উপর ভর করেই দেশ পরিচালনা করেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেছে। সুতরাং বিদেশে প্রোপাগান্ডা করে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্নের বিরুদ্ধেও অবশ্যই সরকারের বিভিন্ন ম্যাকানিজম কাজ করছে। পররাষ্ট্র দপ্তরসহ সরকারের অন্যান্য ম্যাকানিজমগুলো কাজ করছে।
বিএনপি বিভিন্ন নামে ১২টিরও বেশি লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার তারা এ ক্ষেত্রে ব্যয় করছে। অর্থাৎ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে লবিষ্ট নিয়োগ করে এ কাজ করছে। আপনারা জানেন, ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া কয়েক বছর আগে নিজের নামে নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বন্ধ করার জন্য বলেছিলেন। একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী কী ভাবে একটি বিদেশি পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে বলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে কোনো আমদানি না করে? এভাবে লবিস্ট নিয়োগ করে রাষ্ট্রের, জনগণের বিরুদ্ধে তারা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে লাখ লাখ ডলার বিএনপি তাদের পেছনে ব্যয় করছে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে তাতে তো এটা উল্লেখ করেনি। ইসির উচিৎ তাদের তলব করা, এই টাকা কীভাবে খরচ করেছে তা জানতে চাওয়া। ইসি এবং রাজস্ব অফিসে তাদের তলব করা উচিৎ। এই লাখ লাখ ডলার কোথা থেকে আসে- তাও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আমি তো মনে করি এখানে দুদকেরও কিছু ভূমিকা রাখা উচিৎ। এই টাকা যে ব্যক্তি বিশেষ দিচ্ছেন তারা কোথা থেকে পেলেন সেটারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হয়েও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং তার দালিলিক প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তাদের কি দেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে? তারা প্রকৃত পক্ষে জনগণের উপর বিশ্বাস করে না। তারা মনে করছে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে কেউ তাদের কোলে করে এনে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এদেশে ক্ষমতার মালিক জনগণ।
তারা যাদের মনে করবে তাদের ক্ষমতায় বসাবে। দালিলিক প্রমাণ সাপেক্ষে আপনারা কোন ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, আমি মনে করি, তারা যে কাজটি করছে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অর্থ ব্যয় করে দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো।যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক দল, এক্ষেত্রে প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। একই সঙ্গে যে ব্যক্তি বিশেষ এখানে অর্থায়ন করছেন, সেখানে আমি মনে করি তারা কোথা থেকে এই টাকা পেল, কীভাবে টাকা ব্যয় করা হলো, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন অনুমোদন নেই। সুতরাং এখানে দুদকেরও দায়িত্ব রয়েছে। আর রাজস্ব অফিসও অবশ্যই এটির খোঁজখবর নিতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি, বিএনপি এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। প্রকৃত পক্ষে বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি রুখে দেয়ার জন্য, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ বিষয়ে পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশন (এনএসডি) হলো বিচার বিভাগের একটি দপ্তর। এই দপ্তরের কাজ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর এই দপ্তরের অধিক্ষেত্রাধীন আইন হলো ফরেন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সব বানোয়াট তথ্য দাখিল করে।
হাছান মাহমুদ বলেন, সেখানে বিএনপি এই ফার্মের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যেটি শাহরিয়ার আলম সংসদে জানিয়েছেন। অগ্রিম হিসেবে দেড়লাখ ডলার দিয়েছে। নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে চুক্তিটা হয়েছে। প্রতিমাসে ৫০ হাজার ডলার তারা এই ফার্মকে পে করেছে। অর্থাৎ প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার ৩ বছরে তারা পে করেছে। তারা যেহেতু চুক্তি করেছে এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।



