মিজবাউল হক, চকরিয়া (কক্সবাজার) : চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে ১৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছে ১,৪৯,৭৮৫ ভোট। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছে ৭৯,৭৪৩ ভোট। এতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬ ভোট। যা এ আসনে বড় ধরনের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দিনভর নানা গুজব থাকলেও দিনশেষে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। উত্তর ভেওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট বের করে দেওয়ার গুজব বের হলেও মিথ্যা্ প্রমাণিত হয়েছে। তবে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।
এদিকে সকাল থেকেই চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনের তৎপরতায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজার -০১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ছোটখাটো ঘটনা ছাড়াই আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আল রায়েদ মাদরাসা কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে জামায়াতে ইসলামি মনোনীত এমপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখের গাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মী ককটেল হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী নিজেই। এসময় হামলার ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়ে মারধরে স্থানীয় তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ পত্রিকার সাংবাদিক বশির আল মামুন (৫২), দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি এইচএম রুহুল কাদের (২৮)ও দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি কফিল উদ্দিন (৩৫)। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ঘটনাস্থলে থেকে ফিরে তাঁরা চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে ভোট গ্রহণ শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে বিকাল সাড়ে চারটার পরে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গননা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অসমর্থিত সুত্রে জানাজানি হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে ভোটের ফলাফল জানতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।
এদিকে ভোট গননা ঘিরে বিকাল পাঁচটার পর থেকে কেন্দ্রের আশেপাশের এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন।
সরেজমিনে চকরিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, সকালের দিকে ভোটকেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের উপড়ে পড়া ভিড় ছিল। নারী ভোটাররা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুপুরের দিকে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারে নগন্য।
কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা জানিয়েছে, সকালের দিকে ভোটকেন্দ্র গুলোতে ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। তবে দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি একটু কমে যায়। বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে তুলনামূলক ৬০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট ভোট প্রয়োগ হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সংসদীয় আসনের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড়ধরণের কোন গন্ডগোল হয়নি। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় কঠোর নজরদারিতে ছিল।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, কক্সবাজার-০১ সংসদীয় আসনের আওতাধীন পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের মোট ৪৭ ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গননা চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রসঙ্গতঃ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কক্সবাজার-০১ আসনে ভোটযুদ্ধে অংশ নেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ (দাঁড়িপাল্লা) ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী (হাতপাখা)।




