দি ক্রাইম ডেস্ক: আর মাত্র এক মাস পরেই বহু প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ নভেম্বর এই রেললাইন উদ্বোধন করবেন বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া রেললাইনের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার অংশ বসানোর শতভাগ কাজও শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০১ কিলোমিটার রেললাইনের সাতকানিয়া অংশে মাত্র ১০০ মিটারের কাজ বাকি ছিল। সেটিও রোববার মধ্যরাত অথবা সোমবার দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ সোমবারের মধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার ১০১ কিলোমিটার রেললাইন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১২ নভেম্বর বহু প্রত্যাশিত এ রেললাইন উদ্বোধন করবেন বলে জানতে পেরেছি। তবে তার আগেই এ রুটে কয়েক বার পরীক্ষামূলক ট্রেন চালিয়ে আমরা দেখব কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কিনা। পরীক্ষামূলক চালনার অংশ হিসেবে গতকাল কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এখন পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ৯০ শতাংশ জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, চলতি মাসেই কক্সবাজারে নির্মাণাধীন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। এখন চলছে মেঝেতে টাইলস স্থাপনের কাজ। এরপর আসবাবপত্র বসানোসহ বাদবাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য স্টেশন ও সড়কের কাজ কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. নেজাম উদ্দিন জানান, গত ১ আগস্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এর আগেই নতুন ছয়টি বগি এবং একটি ২ হাজার ২০০ সিরিজের ইঞ্জিন এনে পটিয়া স্টেশনে রাখা হয়েছে। কোরিয়া থেকে আনা আধুনিক এসব বগির প্রতিটিতে ৬০ জন করে যাত্রী বসতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ এবং সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।




