আবিদুর রহমান বাবুল: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল এদেশের আবাল বৃদ্ধ-বনিতা। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিল না। শুধুমাত্র দেশকে ভালবেসে দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ছাত্রজনতা সকলেই পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর শাসন থেকে দেশ এবং দেশের জনগনকে রক্ষা করে স্বাধীনতা অর্জনই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য এবং অভিষ্ট। এই যুদ্ধ একদিনে সংগঠিত হয়নি।

ইতিপূর্বে, দেশে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পশ্চিমা শাসকদের সাথে বাঙ্গালীদের দর-কষাকষি চলে আসছিলো। বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা শাসক গোষ্টি বাঙ্গালীদের এই সব দাবি দাওয়া নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। প্রতারণর এই সব তাল-বাহানা বুঝতে পেরে বাঙ্গালী জাতি ধীরে ধীরে ফুঁষে উঠছিলো। ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক স্থগিত ঘোষনার প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তখন সম্মিলিত ছাত্রজনতার প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। এসময়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারাদেশ ব্যাপি অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। সরকারী বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ, শরণার্থী এবং ভারতীয় চিকিৎসকদের কথা

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ জনতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য উপস্থিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক অলিখিত ভাষণে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দেন। এসময় সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তরুণ সমাজ দেশ স্বাধীনের পরিকল্পনায় উজ্জিবিত হয়ে গোপনে ট্রেনিং নিয়ে ছিল । যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতা দেওয়া পরিকল্পনা ছিল না। বঙ্গবন্ধু ভাষণে দেশ স্বাধীনের জন্য বলে ছিলেন যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকো। এ আহ্বানে দেশের সকল তরুণ, ছাত্রজনতা, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি-শোটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এবং পরিকল্পনায় লাল সবুজের মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরী করা হয়।

২৩ই মার্চ পাকিস্তান দিবসে ছাত্রলীগের তৈরী করা পতাকার নমুনা সারা দেশে পাঠানো হয়। স্বাধীনতা পিপাসু সমগ্র বাঙ্গালী জাতি পতাকার নমুনা দিয়ে পতাকা তৈরী করে উত্তোলন করেন। সারাদেশে এই পতাকা উত্তোলিত হলেও কেবলমাত্র ঢাকা গর্ভনার হাউজ, কেন্টনমেন্টে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় পূর্ব পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর অলিখিত নির্দেশে চলছিলো। সারাদেশ পাকিস্তানের হানাদারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়লে তখন উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মীমাংসার লক্ষ্যে ঢাকার গর্ভনার হাউজে বৈঠক হয়।

ইত্যবসরে, বাঙ্গালী জাতিকে নিধনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জাহাজ যোগে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসে। অথচ, বৈঠক চলবে বলে ইয়াহিয়া খান এবং ভুট্টো রাতের আধারে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। ২৫ই মার্চ রাত ১২:০১ মিনিটে ঢাকা কেন্টনমেন্ট থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অপারেশন চার্জলাইটের মাধ্যমে ১ম রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আঘাত আনে।

Bangladesh Muktijuddho : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঠিক কেনো জড়িয়ে পড়েছিল  ভারত? - India Took Part In Bangladesh Muktijuddho By Leadership Of Indira  Gandhi prb - Aaj Tak Bangla

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নির্দেশ ছিল স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ যেন চালিয়ে যায়। এরপরে সারাদেশে জ্ঞানী গুনীদের হত্যা, সাধারণ নারী-পুরুষ,শিশু হত্যাসহ, হিন্দুদের ঘর-বাড়ী পোড়ানো, নারী ধর্ষণের মতো পশ্চিমা হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতন চালায়। যুদ্ধ চলাকালীন পশ্চিমা হানাদারদের এই ধরণের মানবাধীকার বির্বজীত অত্যাচার ইতিহাস স্বীকৃত। মুক্তিযুদ্ধকে জোড়ালো করার জন্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র পরিচালনার জন্য ট্রেনিং প্রয়োজন ছিলো। এসময় এগিয়ে আসে আমাদের পাশ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত।

এদেশের ছাত্রজনতা ট্রেনিং এর জন্য ভারতে গেলে ভারত সরকার ট্রেনিং ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য সম্পূর্ণ ক্ষেত্র তৈরী করে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে পাঠায়। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করার জন্য মুক্তিবাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনীও যোগ দেয়। তখন সারাদেশে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী তুমুল যুদ্ধ করে পশ্চিমা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আসছিলো। একেক করে দেশের প্রতিটি ভুখন্ড মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী হানাদার মুক্ত করে চলছিলো।এসময় চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামেও মুক্তিযোদ্ধারা তুমুল ভাবে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলো।

উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭ টি থানা রয়েছে। বোয়ালখালী, পটিয়া(কর্ণফুলি), চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাশঁখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া। দক্ষিণ চট্টগ্রামে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ছিলো পটিয়া থানার অধিনে দোহাজারী সি এন্ড বি, ইস্পাহানি, ওয়াপদ্দা, দোহাজারী হাই স্কুল, দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন, এখান থেকে ৭ থানায় হানাদার বাহিনী মানুষ হত্যা, ঘর-বাড়ী পোড়ানো, হিন্দুদের নির্যাতন এর নির্দেশ এই ক্যাম্প থেকে দেওয়া হতো। আর আটক করে এই ৭ থানা থেকে যাদেরকে আটক করে নিয়ে আসা হতো তাদেরকে কালুরঘাট ব্রিজের নিচে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে নির্মম ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হতো।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় ভারত, রাশিয়ার ৩১ যোদ্ধাকে সংবর্ধনা | Dhaka  Tribune Bangla

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দেয়ানজিখিল, দোহাজারী ব্রিজ সংলগ্ন দুই পাড়, বসরত নগর, রশিদিয়া মাদ্রাসা, ধোপাছড়ি বাজার মুক্তিবাহিনীর সহিত হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিলো। এখানে শহিদ হয়েছিলো, মুরিদুল আলম চৌধুরী, ফরিদুল আলম,আবুল খায়ের, মাহফুজুল আলম, মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজেমী, শামসুল ইসলাম, আবদুস ছবুর খান, হাবিলদার রুসতম আলী।

চন্দনাইশে খেতাব প্রাপ্ত ২ জনের মধ্যে ১ জন হলেন ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম, অপরজন হলেন অনারারি ক্যাপ্টেন আবদুল করিম বীর বিক্রম। বর্তমান কমান্ডার জাফর আলী হিরু। লোহাগাড়ায় সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৬ টি এলাকায়। যুদ্ধে শহিদ হন মেজর নাজমুল হক, সুভাস মজুমদার, মোঃ ইউসুপ, রঞ্জিত কুমার। কমান্ডার আকতার আহমদ শিকদার।

বাশঁখালতে সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৮ টি এলাকায়। এতে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। কমান্ডার আবুল হাশেম শিকদার। আনোয়ারাতে সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৭ টি এলাকায়। এতে শহিদ হন ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম খান। বোয়ালখালি ১০ টি এলাকায় যুদ্ধ হয়। এতে শহিদ হন রেজাউল করিম, আবদুল উয়াহেদ, হাবিলদার ফজলুল হক বারী, শহিদ সিপাহী নায়েক আলী, মোঃ রফিক, আহমদ ছফা, মোজাফ্ফর আহমদ, শহিদ মোঃ ইউনুস, এখলাসুর রহমান, এম এম রফিক।

খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- অনারারি ক্যাপ্টেন নুরুল আজিম চৌধুরী বীর প্রতিক, নায়েক আবদুর রহমান বীর প্রতিক। সাতকানিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন মনজুরুল হক চৌধুরী, স্বপন কুমার চৌধুরী, জামাল উদ্দীন চৌধুরী, আবদুল মোতালেব চৌধুরীসহ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। কমান্ডার আবু তাহের এল এম জি।

পটিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয় কালারমার পুল, ইন্দ্রপুল, গৌরিলার টেক, ভট্টচার্যের দিঘির পাড়, খানমোহনা, জিরি মাদ্রাসা, জিরি কাজির হাট, ধলঘাট, রেলষ্টেশন, গিরি চৌধুরী বাজার, পটিয়া সদর, খরনার রেলষ্টেশন, মোজাফ্ফরাবাদ।

দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন ৩০ লক্ষ শহিদ এবং ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা লাভ করি। মূলত জাতির জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। তাই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র নাম আজীবন স্বরণীয় বরণীয় হয়ে থাকবে।

আবিদুর রহমান বাবুল: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল এদেশের আবাল বৃদ্ধ-বনিতা। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের চাওয়া পাওয়া কিছুই ছিল না। শুধুমাত্র দেশকে ভালবেসে দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ছাত্রজনতা সকলেই পশ্চিমা হানাদার বাহিনীর শাসন থেকে দেশ এবং দেশের জনগনকে রক্ষা করে স্বাধীনতা অর্জনই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য এবং অভিষ্ট। এই যুদ্ধ একদিনে সংগঠিত হয়নি।

ইতিপূর্বে, দেশে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পশ্চিমা শাসকদের সাথে বাঙ্গালীদের দর-কষাকষি চলে আসছিলো। বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা শাসক গোষ্টি বাঙ্গালীদের এই সব দাবি দাওয়া নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। প্রতারণর এই সব তাল-বাহানা বুঝতে পেরে বাঙ্গালী জাতি ধীরে ধীরে ফুঁষে উঠছিলো। ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক স্থগিত ঘোষনার প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তখন সম্মিলিত ছাত্রজনতার প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। এসময়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারাদেশ ব্যাপি অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। সরকারী বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ, শরণার্থী এবং ভারতীয় চিকিৎসকদের কথা

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ জনতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য উপস্থিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক অলিখিত ভাষণে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দেন। এসময় সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তরুণ সমাজ দেশ স্বাধীনের পরিকল্পনায় উজ্জিবিত হয়ে গোপনে ট্রেনিং নিয়ে ছিল । যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতা দেওয়া পরিকল্পনা ছিল না। বঙ্গবন্ধু ভাষণে দেশ স্বাধীনের জন্য বলে ছিলেন যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকো। এ আহ্বানে দেশের সকল তরুণ, ছাত্রজনতা, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি-শোটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এবং পরিকল্পনায় লাল সবুজের মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরী করা হয়।

২৩ই মার্চ পাকিস্তান দিবসে ছাত্রলীগের তৈরী করা পতাকার নমুনা সারা দেশে পাঠানো হয়। স্বাধীনতা পিপাসু সমগ্র বাঙ্গালী জাতি পতাকার নমুনা দিয়ে পতাকা তৈরী করে উত্তোলন করেন। সারাদেশে এই পতাকা উত্তোলিত হলেও কেবলমাত্র ঢাকা গর্ভনার হাউজ, কেন্টনমেন্টে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় পূর্ব পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর অলিখিত নির্দেশে চলছিলো। সারাদেশ পাকিস্তানের হানাদারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়লে তখন উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মীমাংসার লক্ষ্যে ঢাকার গর্ভনার হাউজে বৈঠক হয়।

ইত্যবসরে, বাঙ্গালী জাতিকে নিধনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জাহাজ যোগে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসে। অথচ, বৈঠক চলবে বলে ইয়াহিয়া খান এবং ভুট্টো রাতের আধারে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। ২৫ই মার্চ রাত ১২:০১ মিনিটে ঢাকা কেন্টনমেন্ট থেকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অপারেশন চার্জলাইটের মাধ্যমে ১ম রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আঘাত আনে।

Bangladesh Muktijuddho : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঠিক কেনো জড়িয়ে পড়েছিল  ভারত? - India Took Part In Bangladesh Muktijuddho By Leadership Of Indira  Gandhi prb - Aaj Tak Bangla

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নির্দেশ ছিল স্বাধীনতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ যেন চালিয়ে যায়। এরপরে সারাদেশে জ্ঞানী গুনীদের হত্যা, সাধারণ নারী-পুরুষ,শিশু হত্যাসহ, হিন্দুদের ঘর-বাড়ী পোড়ানো, নারী ধর্ষণের মতো পশ্চিমা হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতন চালায়। যুদ্ধ চলাকালীন পশ্চিমা হানাদারদের এই ধরণের মানবাধীকার বির্বজীত অত্যাচার ইতিহাস স্বীকৃত। মুক্তিযুদ্ধকে জোড়ালো করার জন্য ভারী অস্ত্রশস্ত্র পরিচালনার জন্য ট্রেনিং প্রয়োজন ছিলো। এসময় এগিয়ে আসে আমাদের পাশ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত।

এদেশের ছাত্রজনতা ট্রেনিং এর জন্য ভারতে গেলে ভারত সরকার ট্রেনিং ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য সম্পূর্ণ ক্ষেত্র তৈরী করে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে পাঠায়। পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করার জন্য মুক্তিবাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনীও যোগ দেয়। তখন সারাদেশে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী তুমুল যুদ্ধ করে পশ্চিমা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আসছিলো। একেক করে দেশের প্রতিটি ভুখন্ড মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী হানাদার মুক্ত করে চলছিলো।এসময় চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামেও মুক্তিযোদ্ধারা তুমুল ভাবে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলো।

উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭ টি থানা রয়েছে। বোয়ালখালী, পটিয়া(কর্ণফুলি), চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাশঁখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া। দক্ষিণ চট্টগ্রামে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ছিলো পটিয়া থানার অধিনে দোহাজারী সি এন্ড বি, ইস্পাহানি, ওয়াপদ্দা, দোহাজারী হাই স্কুল, দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন, এখান থেকে ৭ থানায় হানাদার বাহিনী মানুষ হত্যা, ঘর-বাড়ী পোড়ানো, হিন্দুদের নির্যাতন এর নির্দেশ এই ক্যাম্প থেকে দেওয়া হতো। আর আটক করে এই ৭ থানা থেকে যাদেরকে আটক করে নিয়ে আসা হতো তাদেরকে কালুরঘাট ব্রিজের নিচে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে নির্মম ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হতো।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় ভারত, রাশিয়ার ৩১ যোদ্ধাকে সংবর্ধনা | Dhaka  Tribune Bangla

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দেয়ানজিখিল, দোহাজারী ব্রিজ সংলগ্ন দুই পাড়, বসরত নগর, রশিদিয়া মাদ্রাসা, ধোপাছড়ি বাজার মুক্তিবাহিনীর সহিত হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিলো। এখানে শহিদ হয়েছিলো, মুরিদুল আলম চৌধুরী, ফরিদুল আলম,আবুল খায়ের, মাহফুজুল আলম, মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজেমী, শামসুল ইসলাম, আবদুস ছবুর খান, হাবিলদার রুসতম আলী।

চন্দনাইশে খেতাব প্রাপ্ত ২ জনের মধ্যে ১ জন হলেন ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম, অপরজন হলেন অনারারি ক্যাপ্টেন আবদুল করিম বীর বিক্রম। বর্তমান কমান্ডার জাফর আলী হিরু। লোহাগাড়ায় সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৬ টি এলাকায়। যুদ্ধে শহিদ হন মেজর নাজমুল হক, সুভাস মজুমদার, মোঃ ইউসুপ, রঞ্জিত কুমার। কমান্ডার আকতার আহমদ শিকদার।

বাশঁখালতে সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৮ টি এলাকায়। এতে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। কমান্ডার আবুল হাশেম শিকদার। আনোয়ারাতে সম্মুখ যুদ্ধ হয় ৭ টি এলাকায়। এতে শহিদ হন ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম খান। বোয়ালখালি ১০ টি এলাকায় যুদ্ধ হয়। এতে শহিদ হন রেজাউল করিম, আবদুল উয়াহেদ, হাবিলদার ফজলুল হক বারী, শহিদ সিপাহী নায়েক আলী, মোঃ রফিক, আহমদ ছফা, মোজাফ্ফর আহমদ, শহিদ মোঃ ইউনুস, এখলাসুর রহমান, এম এম রফিক।

খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- অনারারি ক্যাপ্টেন নুরুল আজিম চৌধুরী বীর প্রতিক, নায়েক আবদুর রহমান বীর প্রতিক। সাতকানিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন মনজুরুল হক চৌধুরী, স্বপন কুমার চৌধুরী, জামাল উদ্দীন চৌধুরী, আবদুল মোতালেব চৌধুরীসহ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। কমান্ডার আবু তাহের এল এম জি।

পটিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয় কালারমার পুল, ইন্দ্রপুল, গৌরিলার টেক, ভট্টচার্যের দিঘির পাড়, খানমোহনা, জিরি মাদ্রাসা, জিরি কাজির হাট, ধলঘাট, রেলষ্টেশন, গিরি চৌধুরী বাজার, পটিয়া সদর, খরনার রেলষ্টেশন, মোজাফ্ফরাবাদ।

দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন ৩০ লক্ষ শহিদ এবং ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা লাভ করি। মূলত জাতির জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়। তাই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র নাম আজীবন স্বরণীয় বরণীয় হয়ে থাকবে।