

মাঠের বৃত্তের কাছাকাছি সুইস মিডফিল্ডার বল পায়ে রাখতে ব্যর্থ হলে রদ্রিগো তা ধরে কাসেমিরোকে ঠেলে দেন। তিনি দ্রুতই তা ভিনিসিয়ুসকে বাড়ান বাঁ দিকে। তিনি বল ধরে সুইজারল্যান্ডের বক্সে ঢুকে গোলকিপার সোমারের পাশ দিয়ে জালে ঠেলে দেন।


গোল বাতিলের হতাশার পর ব্রাজিলকে অবশ্য স্বস্তি এনে দেন কাসেমিরো। ৮৩ মিনিটে তিনি দলকে এগিয়ে দেন ১-০ গোলে। এ গোলেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।

ইনজুরির কারণে নেইমারহীন দল নিয়ে আজ মাঠে নামে ব্রাজিল। দলে দুটি পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন তিতে। নেইমার ও দানিলোর পরিবর্তে সুযোগ পান মিলিতাও ও ফ্রেড।

দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ সোমবার (২৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয় ম্যাচটি। খেলার শুরু থেকেই সুইসদের রক্ষণভাগ আক্রমণে আক্রমণে কাঁপিয়ে তুলে রিচার্লিসন ও ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। কিন্তু ভালো খেলেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি রিচার্লিসনরা।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড এক ম্যাচ করে জেতায় দুই দলের সামনেই নকআউটে এক পা রাখার সুযোগ ছিল। ব্রাজিল ভালো আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে ফিনিশিং টাচটি দিতে পারেনি ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। যার ফলে গোলও পায়নি দল। ১৩তম মিনিটে পাকুয়েতার ক্রস থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন রিচার্লিসন।

কিন্তু তিনি একজন কাটিয়ে বক্সের মধ্যে বল ভিনিসিয়ুসকে দিলে তার আগেই ক্লিয়ার করে দেন সুইজারল্যান্ডের এক ডিফেন্ডার। এর কিছুক্ষণ পরই আরও একবার বল পেয়েছিলেন রিচার্লিসন।

কিন্তু বক্সের মধ্যে বলটিকে নিয়ন্ত্রনে নিতে ব্যর্থ হন। ১৬তম মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রি-কিক পায় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু ফ্রি-কিক কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ১৯তম মিনিটে বাম পাশ থেকে দুর্দান্ত ক্রস দেন পাকুয়েতা। কিন্তু রিচার্লিসন সেখানে পায়ে বল লাগাতে ব্যর্থ হন এবং নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হলো ব্রাজিল। ২৭ তম মিনিটে ডান পাশ থেকে অসাধারণ একটি ক্রস করেছিলেন রাফিনহা।

বাম পাশে ভিনিসিয়ুস গোলের অসাধারণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। সামনে শুধু ছিল সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের শটটি ছিল দুর্বল এবং সুইজল্যান্ড গোলরক্ষক দারুণ ক্ষিপ্রতায় নিশ্চিত গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন। ৩১তম মিনিটে বক্সের সামনে থেকে বাম পায়ের শট নেন ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়। কিন্তু গোলরক্ষকের হাতে সরাসরি বল।

গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন সুইস গোলরক্ষক। ৩৭তম মিনিটে বক্সের সামনে থেকে গোললক্ষ্যে শট করেছিলেন মার্কুইনহোস। কিন্তু সুইস ডিফেন্ডাররা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

৩৮তম মিনিটে গোলরক্ষকের কারণে রক্ষা পায় সুইজারল্যান্ড। ৩৯তম মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলো সুইজারল্যান্ড। বক্সের মধ্যে ভার্গাস বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। অ্যালিসন ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরে ফেলেন।

তবে আজকের ম্যাচে ইনজুরির কারণে নেইমার না থাকায় উদ্বিগ্ন ছিল সারা বিশ্বের ব্রাজিল ভক্তরা। ফল কি হয় তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল তারা। তবে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছেড়ে সারাবিশ্বের ব্রাজিল ভক্তদের আনন্দের বন্যায় ভসিয়েছেন তিতের শিষ্যরা।
ব্রাজিলের শুরুর একাদশ
অ্যালিসন বেকার, এদের মিলিতাও, মার্কুইনোস, থিয়াগো সিলভা, অ্যালেক্স সান্দ্রো, কাসেমিরো, ফ্রেড, পাকুয়েতা, রাফিনহা, রিচার্লিসন ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
সুইজারল্যান্ডের শুরুর একাদশ
ইয়ান সমার, সিলভান উইডমার, ম্যানুয়েল আকানজি, নিকো এলভেডি, রিকার্ডো রদ্রিগুয়েজ, রেমো ফেউলিয়র, গ্রানিথ সাকা, জিব্রির শো, ফ্যাবিয়ান রেইডার, ব্রেল এমবোলো, রুবেন ভার্গাস।




