* রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন-ইউএনএইচসিআর

* স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারীর অভাব!

*রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নিচ্ছে-শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার

বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে মানবপাচারের ভয়াবহ ও অমানবিক চিত্র উঠে এসেছে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের জবানবন্দিতে। প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ও রোহিঙ্গা নাগরিক নিয়ে যাত্রা করা ট্রলারে খাবার ও পানির সংকটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয় নির্মম নির্যাতন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ করায় অন্তত ৩৩ জনকে ট্রলারের গোপন কক্ষে আটকে রেখে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ট্রলারটি ডুবে গিয়ে শতাধিক মানুষের সলিল সমাধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২৭) জানান, কাজের প্রলোভনে তাকে টেকনাফে নিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি গুদামঘরে আটকে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে ছোট ট্রলারে করে মাঝসমুদ্রে বড় ট্রলারে তোলা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিল,যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। খাবার ও পানির চরম সংকটে কেউ প্রতিবাদ করলেই দালালরা তাদের ট্রলারের নিচে থাকা মাছ সংরক্ষণের গোপন কক্ষে ঢুকিয়ে দিত। ৭ এপ্রিল রাতে পানির দাবিতে প্রতিবাদ করলে প্রায় ৪০ জন করে যাত্রীকে চারটি গোপন কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় অন্তত ৩৩ জন মারা যান বলে দাবি করেন রফিকুল। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই আন্দামান সাগরে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা উল্টে যায়।

রফিকুল বলেন,“চারদিকে শুধু লাশ আর আর্তনাদ—বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মরদেহ ভাসতে দেখেছি।”

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই দিন এক রাত পানির ড্রাম ধরে ভেসে থাকার পর একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। মোট ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রাহেলা বেগম (২৫) জানান, “দুই দিন এক রাত সাগরে ভেসে ছিলাম। কাঠের টুকরো ধরে বেঁচে ছিলাম, পরে সেটিও হারিয়ে যায়। তার দাবি, ট্রলারে থাকা ২০ জন নারীর মধ্যে তিনিই একমাত্র জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জালিয়াপালংয়ের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, তার ভাই গোপনে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন।“উদ্ধার তালিকায় ভাইয়ের নাম নেই। দালালরা মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবপাচার চক্র সক্রিয়। এটি একটি সুসংগঠিত ব্যবসা, যেখানে প্রভাবশালী চক্র জড়িত।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নিচ্ছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন।

* রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন-ইউএনএইচসিআর

* স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারীর অভাব!

*রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নিচ্ছে-শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার

বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে মানবপাচারের ভয়াবহ ও অমানবিক চিত্র উঠে এসেছে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের জবানবন্দিতে। প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ও রোহিঙ্গা নাগরিক নিয়ে যাত্রা করা ট্রলারে খাবার ও পানির সংকটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয় নির্মম নির্যাতন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ করায় অন্তত ৩৩ জনকে ট্রলারের গোপন কক্ষে আটকে রেখে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ট্রলারটি ডুবে গিয়ে শতাধিক মানুষের সলিল সমাধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (২৭) জানান, কাজের প্রলোভনে তাকে টেকনাফে নিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি গুদামঘরে আটকে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে ছোট ট্রলারে করে মাঝসমুদ্রে বড় ট্রলারে তোলা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিল,যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। খাবার ও পানির চরম সংকটে কেউ প্রতিবাদ করলেই দালালরা তাদের ট্রলারের নিচে থাকা মাছ সংরক্ষণের গোপন কক্ষে ঢুকিয়ে দিত। ৭ এপ্রিল রাতে পানির দাবিতে প্রতিবাদ করলে প্রায় ৪০ জন করে যাত্রীকে চারটি গোপন কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় অন্তত ৩৩ জন মারা যান বলে দাবি করেন রফিকুল। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই আন্দামান সাগরে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা উল্টে যায়।

রফিকুল বলেন,“চারদিকে শুধু লাশ আর আর্তনাদ—বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মরদেহ ভাসতে দেখেছি।”

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই দিন এক রাত পানির ড্রাম ধরে ভেসে থাকার পর একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। মোট ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রাহেলা বেগম (২৫) জানান, “দুই দিন এক রাত সাগরে ভেসে ছিলাম। কাঠের টুকরো ধরে বেঁচে ছিলাম, পরে সেটিও হারিয়ে যায়। তার দাবি, ট্রলারে থাকা ২০ জন নারীর মধ্যে তিনিই একমাত্র জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জালিয়াপালংয়ের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, তার ভাই গোপনে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন।“উদ্ধার তালিকায় ভাইয়ের নাম নেই। দালালরা মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবপাচার চক্র সক্রিয়। এটি একটি সুসংগঠিত ব্যবসা, যেখানে প্রভাবশালী চক্র জড়িত।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ বেছে নিচ্ছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন।