নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নগরীর খুলশীতে গ্লোবাল কর্পোরেশন নামক একটি প্রতিষ্টান বিলাস বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি আর মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি এবং ঠিকাদারী ব্যবসায় চমক দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রায় তিনশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রিগ্যানসহ তার পরিবারের ১৬ জন সদস্য দুবাই পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার  (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারক রিগ্যানের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারক ইসমাইল হোসেন (রিগ্যান) নগরের খুলশীতে ২০১৬ সালে গ্লোবাল কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। শুরুর দিকে আমরা জানতাম কোম্পানীটি বৈধ কিন্তু বর্তমানে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই চক্রটি দেশের আনাচে কানাচে রেন্ট এ-কার, পুরোনো গাড়ী ক্রয় বিক্রয়, ঠিকাদারি ব্যবসায় অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধোকা দিয়েছে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকে গাড়ি ও বিপুল পরিমাণের অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হন। আর এই কাজে তার নিয়োজিত মার্কেটিং এর লোকজন ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, আমরা ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে তার খুলশীর সানমার রয়েল ব্রীজ এর বাসায় এবং দক্ষিণ খুলশীর ৮নং রোড এ অফিসে গিয়ে তাকে, তার পরিবার ও অফিস স্টাফদের কাউকে খুজে পাইনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়ির দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি প্রতারক রিগ্যান ২৭ই সেপ্টেম্বর ভোর ৪ টায় স্ব-পরিবার ও তার সহযোগীদের নিয়ে সটকে পড়েন। তার প্রতারণার শিকার হন ঐ ভবনের বাসিন্দা, ইমামসহ অনেকেই। প্রতারক রিগ্যান নিজের ফ্ল্যাট ও গাড়ী একাধিক মানুষের কাছে বিক্রি করেন। প্রতারক এতই দূরদর্শী যে, পাওনাদারদেরকে বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দিবে বলে বারংবার সুকৌশলে ঘুরাতে থাকে। বার বার টাকা ফেরৎ দেওয়ার সময় নেয়া আর এতে তাকে সাহায্য করে তার স্ত্রী, ভাই ও বাবা।

তারা আরো বলেন, বর্তমানে আমরা নিঃস্ব হয়ে আইন ও প্রশাসনের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি। এর মধ্যে বিভিন্ন ভুক্তভোগী থানায় গেলেও প্রতারক ও তার পরিবার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বেশ হয়রানি হচ্ছে। যদিও শুধুমাত্র সিএমপি খুলসী থানায় চারটি মামলা হয়েছে। অন্যান্য ভূক্তভোগীরা অন্যান্য থানায় গেলেও থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে ।

প্রতারক রিগ্যানের প্রতারণার শিকার হয়ে স্ট্রোক করে মারা যান নাজিম উদ্দিন নামক তার এক বন্ধু। প্রয়াত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ইসমত আরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রিগ্যানকে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। তাকে বিশ্বাস করে আমরা ১টি কার ও ১টি মাইক্রো, ১টি জেনারেটর ও ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। রিগ্যান পালিয়ে যাওয়ার কথা শুনে আমার স্বামী স্টোক করে মারা যান। এমনকি তাকে এতই বিশ্বাস করতাম তার আমাদের গাড়ির ডকুমেন্টসগুলো পর্যন্ত তাকে দিয়েছি। আমি আজ সর্বস্বান্ত হয়ে প্রশাসনের দরজায় এসেছি, প্রশাসন যেন আমার পাশে থাকেন।

জানা যায়, এমন অভিনব প্রতারণার কথা শুনলে রীতিমত যে কেউ চমকে উঠবে। বড় বড় ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মকর্তা, প্রবাসী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ রিগ্যানের প্রতারণা থেকে কেউ রেহায় পায়নি। অভিনব কায়দায় কয়েকশ’ মানুষের তিনশ’ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে এ প্রতারক।

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের খুলশীর অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাস এবং আলিশান বাড়িতে অফিস স্থাপন করে প্রতারণার ডালপালা বিস্তার করে ব্যবসায়িক পাটনার করার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ইসমাইল হোসেন রিগ্যান নামে ওই প্রতারক। সে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর পাটওয়ারী বাড়ির মফিজুল ইসলামের ছেলে। এ ভয়ংকর প্রতারক রিগ্যান চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে পরিচিতি পায়। তার চাচা হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হাজীগঞ্জ সদর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান কানু পাটওয়ারীর হাত ধরে রাজনীতিতে অংশ নিয়ে ভংয়কর প্রতারক বনে যায় রিগ্যান।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার চাচা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ৫নং সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সভাপতি অনিছুর রহমান কানু পাটওয়ারীর সান্নিধ্যে উপজেলা ও সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির কমিটিতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবীতে স্থান পায় রিগ্যান।

প্রতারক রিগ্যান তার চাচা উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আনিছুর রহমান কানু পাটওয়ারীর সহায়তায় চাঁদপুর এবং হাজীগঞ্জে যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায়িক পাটনার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বিএনপির কমিটিতে চাচার সাথে ভাতিজা প্রতারক রিগ্যানও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থান করে দেওয়া হয় বলে সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ঠিকাদারী এবং মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি শো-রুমের ব্যবসা দেখিয়ে ব্যবসায়ী মনির হোসেনের ৪ কোটি টাকা, হায়দার আলী স্বাধীনের ২০ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ধড্ডা গ্রামের ফারুকের ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলির ১৯ লক্ষ টাকা, একই উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৈয়ারপুর এলাকার রোকন তালুকদারের ৪৬ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শরীফের ৭লক্ষ টাকা, চাঁদপুরের জামাল সুমনের ৮৫ লক্ষ টাকা, হোসাইন সবুজের ৩৩ লক্ষ টাকা, সালাউদ্দিনের ৩৩ লক্ষ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং রাজনৈতিক নেতাসহ প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৪৪ জনের কাছ থেকে ব্যবসায়িক পাটনার করার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রিগ্যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছিরের সাথে সুম্পর্ক আছে এমন পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বড় বড় প্রজেক্টের ঠিকাদারী, পাহাড়ী অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ঠিকাদারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিদেশী কোম্পানিগুলোতেও গাড়ি সাপ্লাই দিতেন বলে প্রচার করেন। গ্লোবাল কর্পোরেশন নামের কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা কার্যক্রম চালু করেন।

তার এ প্রতারণার শিকার হয়ে ডাক্তার, পুলিশ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ মাসিকভিত্তিতে ভাড়ায় গাড়ি দিতে থাকে। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে ভাড়ার টাকা ব্যাংকে বা নগদে পেয়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি মালিক এক বছরেও তার গাড়ির চেহারা দেখেননি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন রিগ্যান শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪২টি কার ও জিপ গাড়ি নিয়ে ভাড়ায় পরিচালনা করছিলেন। এভাবে বিভিন্নজনের বহু গাড়ি, একাধিক মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ চক্র।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নগরীর খুলশীতে গ্লোবাল কর্পোরেশন নামক একটি প্রতিষ্টান বিলাস বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি আর মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি এবং ঠিকাদারী ব্যবসায় চমক দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রায় তিনশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রিগ্যানসহ তার পরিবারের ১৬ জন সদস্য দুবাই পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার  (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারক রিগ্যানের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রতারক ইসমাইল হোসেন (রিগ্যান) নগরের খুলশীতে ২০১৬ সালে গ্লোবাল কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। শুরুর দিকে আমরা জানতাম কোম্পানীটি বৈধ কিন্তু বর্তমানে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই চক্রটি দেশের আনাচে কানাচে রেন্ট এ-কার, পুরোনো গাড়ী ক্রয় বিক্রয়, ঠিকাদারি ব্যবসায় অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধোকা দিয়েছে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকে গাড়ি ও বিপুল পরিমাণের অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হন। আর এই কাজে তার নিয়োজিত মার্কেটিং এর লোকজন ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, আমরা ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে তার খুলশীর সানমার রয়েল ব্রীজ এর বাসায় এবং দক্ষিণ খুলশীর ৮নং রোড এ অফিসে গিয়ে তাকে, তার পরিবার ও অফিস স্টাফদের কাউকে খুজে পাইনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়ির দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি প্রতারক রিগ্যান ২৭ই সেপ্টেম্বর ভোর ৪ টায় স্ব-পরিবার ও তার সহযোগীদের নিয়ে সটকে পড়েন। তার প্রতারণার শিকার হন ঐ ভবনের বাসিন্দা, ইমামসহ অনেকেই। প্রতারক রিগ্যান নিজের ফ্ল্যাট ও গাড়ী একাধিক মানুষের কাছে বিক্রি করেন। প্রতারক এতই দূরদর্শী যে, পাওনাদারদেরকে বিভিন্ন সময় ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দিবে বলে বারংবার সুকৌশলে ঘুরাতে থাকে। বার বার টাকা ফেরৎ দেওয়ার সময় নেয়া আর এতে তাকে সাহায্য করে তার স্ত্রী, ভাই ও বাবা।

তারা আরো বলেন, বর্তমানে আমরা নিঃস্ব হয়ে আইন ও প্রশাসনের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি। এর মধ্যে বিভিন্ন ভুক্তভোগী থানায় গেলেও প্রতারক ও তার পরিবার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বেশ হয়রানি হচ্ছে। যদিও শুধুমাত্র সিএমপি খুলসী থানায় চারটি মামলা হয়েছে। অন্যান্য ভূক্তভোগীরা অন্যান্য থানায় গেলেও থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে ।

প্রতারক রিগ্যানের প্রতারণার শিকার হয়ে স্ট্রোক করে মারা যান নাজিম উদ্দিন নামক তার এক বন্ধু। প্রয়াত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ইসমত আরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রিগ্যানকে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। তাকে বিশ্বাস করে আমরা ১টি কার ও ১টি মাইক্রো, ১টি জেনারেটর ও ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। রিগ্যান পালিয়ে যাওয়ার কথা শুনে আমার স্বামী স্টোক করে মারা যান। এমনকি তাকে এতই বিশ্বাস করতাম তার আমাদের গাড়ির ডকুমেন্টসগুলো পর্যন্ত তাকে দিয়েছি। আমি আজ সর্বস্বান্ত হয়ে প্রশাসনের দরজায় এসেছি, প্রশাসন যেন আমার পাশে থাকেন।

জানা যায়, এমন অভিনব প্রতারণার কথা শুনলে রীতিমত যে কেউ চমকে উঠবে। বড় বড় ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মকর্তা, প্রবাসী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ রিগ্যানের প্রতারণা থেকে কেউ রেহায় পায়নি। অভিনব কায়দায় কয়েকশ’ মানুষের তিনশ’ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে এ প্রতারক।

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের খুলশীর অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাস এবং আলিশান বাড়িতে অফিস স্থাপন করে প্রতারণার ডালপালা বিস্তার করে ব্যবসায়িক পাটনার করার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ইসমাইল হোসেন রিগ্যান নামে ওই প্রতারক। সে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর পাটওয়ারী বাড়ির মফিজুল ইসলামের ছেলে। এ ভয়ংকর প্রতারক রিগ্যান চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে পরিচিতি পায়। তার চাচা হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হাজীগঞ্জ সদর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান কানু পাটওয়ারীর হাত ধরে রাজনীতিতে অংশ নিয়ে ভংয়কর প্রতারক বনে যায় রিগ্যান।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার চাচা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ৫নং সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সভাপতি অনিছুর রহমান কানু পাটওয়ারীর সান্নিধ্যে উপজেলা ও সদর ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির কমিটিতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবীতে স্থান পায় রিগ্যান।

প্রতারক রিগ্যান তার চাচা উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আনিছুর রহমান কানু পাটওয়ারীর সহায়তায় চাঁদপুর এবং হাজীগঞ্জে যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায়িক পাটনার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বিএনপির কমিটিতে চাচার সাথে ভাতিজা প্রতারক রিগ্যানও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থান করে দেওয়া হয় বলে সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ঠিকাদারী এবং মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি শো-রুমের ব্যবসা দেখিয়ে ব্যবসায়ী মনির হোসেনের ৪ কোটি টাকা, হায়দার আলী স্বাধীনের ২০ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১১নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ধড্ডা গ্রামের ফারুকের ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলির ১৯ লক্ষ টাকা, একই উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৈয়ারপুর এলাকার রোকন তালুকদারের ৪৬ লক্ষ টাকা, হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শরীফের ৭লক্ষ টাকা, চাঁদপুরের জামাল সুমনের ৮৫ লক্ষ টাকা, হোসাইন সবুজের ৩৩ লক্ষ টাকা, সালাউদ্দিনের ৩৩ লক্ষ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং রাজনৈতিক নেতাসহ প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী প্রায় ৪৪ জনের কাছ থেকে ব্যবসায়িক পাটনার করার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রিগ্যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছিরের সাথে সুম্পর্ক আছে এমন পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বড় বড় প্রজেক্টের ঠিকাদারী, পাহাড়ী অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ঠিকাদারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিদেশী কোম্পানিগুলোতেও গাড়ি সাপ্লাই দিতেন বলে প্রচার করেন। গ্লোবাল কর্পোরেশন নামের কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা কার্যক্রম চালু করেন।

তার এ প্রতারণার শিকার হয়ে ডাক্তার, পুলিশ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ মাসিকভিত্তিতে ভাড়ায় গাড়ি দিতে থাকে। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে ভাড়ার টাকা ব্যাংকে বা নগদে পেয়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি মালিক এক বছরেও তার গাড়ির চেহারা দেখেননি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন রিগ্যান শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪২টি কার ও জিপ গাড়ি নিয়ে ভাড়ায় পরিচালনা করছিলেন। এভাবে বিভিন্নজনের বহু গাড়ি, একাধিক মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ চক্র।