ঢাকা ব্যুরো: দেশের ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) আওতায় নিয়েছে সরকার। কিন্তু একটি মহল সিআইআই নিয়ে নানারকম অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আইসিটি বিভাগ। এতে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার (২ অক্টোবর) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (Critical Information Infrastructure-CII) ঘোষণা করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিধান মতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সিআইআই ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকার যেসব প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা আর্থিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের ফলে সাংবাদিকতার পথ আরও রুদ্ধ হলো। কারণ গণমাধ্যম এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিয়েই তা প্রকাশ করে।

জানা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ১৫ ধারার বিধান মতে এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সিআইআই ঘোষণা করা হয়। আইনের ওই ধারায় বলা আছে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনও কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করতে পারবে।

এর আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক যেমনটা বলেছেন, কোন বিবেচনায় এ তালিকা করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার। এটি নিরাপত্তার পরিবর্তে নিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হওয়ার আরেকটি উদাহরণ। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি সমর্থিত না হওয়ার পরও এই তালিকার প্রকাশ বেশকিছু মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের দাবির যৌক্তিকতা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে।

আমাদের কথা হলো, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্য অধিকার আইনের দ্বারা ক্ষমতায়িত হয়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে পুরো প্রতিষ্ঠানকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংস্কারের দাবি যখন প্রবল, তখন সংস্কার দূরের কথা, এ আইনের ১৫ ধারা ব্যবহার করে ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করেছে সরকার। আমরা মনে করি, আলোচ্য তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ ও অবিবেচনাপ্রসূত। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রসঙ্গত, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড, সেতু বিভাগ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, জাতীয় ডাটা সেন্টার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইমিগ্রেশন-বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (BTCL), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি বাংলাদেশ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

ঢাকা ব্যুরো: দেশের ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) আওতায় নিয়েছে সরকার। কিন্তু একটি মহল সিআইআই নিয়ে নানারকম অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আইসিটি বিভাগ। এতে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার (২ অক্টোবর) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (Critical Information Infrastructure-CII) ঘোষণা করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিধান মতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সিআইআই ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকার যেসব প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা আর্থিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সরকারি এ সিদ্ধান্তের ফলে সাংবাদিকতার পথ আরও রুদ্ধ হলো। কারণ গণমাধ্যম এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিয়েই তা প্রকাশ করে।

জানা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ১৫ ধারার বিধান মতে এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সিআইআই ঘোষণা করা হয়। আইনের ওই ধারায় বলা আছে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনও কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করতে পারবে।

এর আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক যেমনটা বলেছেন, কোন বিবেচনায় এ তালিকা করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার। এটি নিরাপত্তার পরিবর্তে নিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হওয়ার আরেকটি উদাহরণ। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রীয় নীতি সমর্থিত না হওয়ার পরও এই তালিকার প্রকাশ বেশকিছু মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের দাবির যৌক্তিকতা আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে।

আমাদের কথা হলো, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্য অধিকার আইনের দ্বারা ক্ষমতায়িত হয়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার নেটওয়ার্কের পরিবর্তে পুরো প্রতিষ্ঠানকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংস্কারের দাবি যখন প্রবল, তখন সংস্কার দূরের কথা, এ আইনের ১৫ ধারা ব্যবহার করে ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসাবে ঘোষণা করেছে সরকার। আমরা মনে করি, আলোচ্য তালিকাটি প্রশ্নবিদ্ধ ও অবিবেচনাপ্রসূত। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রসঙ্গত, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড, সেতু বিভাগ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, জাতীয় ডাটা সেন্টার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইমিগ্রেশন-বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (BTCL), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি বাংলাদেশ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।