আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি মনোনীত প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। ভারতের ইতিহাসে প্রথম সাঁওতাল প্রেসিডেন্ট তিনি। একইসঙ্গে, তিনি দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার যশবন্ত সিনহাকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দ্রৌপদী মুর্মু। উড়িষ্যার অধিবাসী দ্রৌপদী মুর্মু ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের গভর্নর ছিলেন।
আগামী সোমবার দিল্লিতে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল শাড়ি পড়বেন তিনি। কারণ আত্মীয়রা সাঁওতাল শাড়ি পাঠিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মুকে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রৌপদীর ভাবি সুক্রি তুদু ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে দিল্লি দিয়েছেন। সঙ্গে নিয়েছেন সাঁওতাল নারীদের বিশেষ শাড়ি।
সুক্রি তুদু বলেন, দিদির (দ্রৌপদী মুর্মু) জন্য ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল শাড়ি এনেছি। আশা করছি, শপথ গ্রহণের সময় তিনি এটি পরিধান করছেন। আমি ঠিক জানিনা ওইদিন তিনি কী পড়বেন। কারণ, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন সিদ্ধান্ত নেবে নতুন রাষ্ট্রপরি কী পরিধান করবেন।
সাবেক শিক্ষক ৬৪ বছর বয়সের দ্রৌপদী ওড়িশার মেয়ে। গত কয়েক দশক ধরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঝাড়খণ্ডের প্রাদেশিক গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতে রাষ্ট্রপতি পদটি অনেকটা অলঙ্কারিক। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ হলেও দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির তেমন কোনও ভূমিকা নেই।
দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামে বিরাঞ্চি নারায়ণ টুডুর কাছে একটি সাঁওতালি উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।
রাজ্য রাজনীতিতে আসার আগে মুর্মু একজন স্কুল শিক্ষক হিসাবে শুরু করেছিলেন। তিনি শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, রায়রঙ্গপুর এর একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ওড়িশা সরকারের সেচ বিভাগে জুনিয়র সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
মুর্মু ১৯৯৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন এবং রায়রঙ্গপুর নগর পঞ্চায়েতের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি তফসিলি উপজাতি মোর্চার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।
ওড়িশায় ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিজু জনতা দলের জোট সরকারের সময়, তিনি ৬ মার্চ, ২০০০ থেকে ৬ আগস্ট, ২০০২ পর্যন্ত বাণিজ্য ও পরিবহন এবং ৬ আগস্ট, ২০০২ থেকে ১৬ মে ২০০৪ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উন্নয়নের স্বাধীন দায়িত্বের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ওড়িশার প্রাক্তন মন্ত্রী এবং ২০০৪ এবং ২০০৪ সালে রায়রঙ্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একজন বিধায়ক। ২০০৭ সালে ওড়িশা বিধানসভা দ্বারা তিনি সেরা বিধায়কের জন্য নীলকণ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হন।
পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের (লোকসভা এবং রাজ্যসভা) সদস্য, দেশটির সবগুলো রাজ্যের বিধানসভার সদস্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে ভারতে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
প্রথম কোনও আদিবাসী নারী রাইসিনা হিলের মসনদে যাওয়ায় দেশজুড়ে এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা উল্লাস-উদযাপন শুরু করেছেন। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে রোড শোর মাধ্যমে মুর্মুর বিজয় উদযাপন শুরু হয়েছে। এছাড়াও বিজেপির অন্যান্য সব রাজ্য শাখাও বিজয় মিছিলের পরিকল্পনা করেছে।




