লিটন কুতুবী,কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজিজুল হাকিম প্রকাশ আজিজ সালিশের নামে রাতে ঘরে ডুকে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাছিমা আক্তার নামের গৃহবধুকে মারধর পূর্বক শ্লীলতাহানি করে। এক পযার্য়ে মেম্বার ইচ্ছা বিরুদ্ধে আঘাত করলে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনার সময় নাছিমা আক্তারের ঘরে কোন পুরুষ ছিল না। গৃহবধুর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাতে কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হলে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে বলে নিশ্চিত করেন আহত রোগীর মা আরজ জাহান।
ঘটনাটি ঘটেছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সইন্যার পাড়ার তারেকের স্ত্রী মৃত জাফর আলমের কন্যার সাথে।
প্রত্যক্ষদর্শী ধলু আরা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাতে পাশ্ববর্তী বাড়ি নাছিমার ঘরে চিল্লা চিল্লি শুনে আমি ঘটনা স্থলে গেলে মেম্বার আজিজ নিজে নাছিমাকে শারিরিকভাবে শ্লীলতা হানি করার দৃশ্য দেখতে পাই। এমনকি গৃহবধু নাছিমার পরিধেয় কাপড় ছিড়ে ফেলে। এলাকার লোকজন এলে মেম্বার ভিন্ন কথা বলে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মেম্বার আজিজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একই এলাকার বাইস্যার ছেলে সোহেলের সাথে দীর্ঘ এক মাস ধরে নাছিমা আক্তারের পরিবারের সাথে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছে। স্থানীয় মেম্বার হিসেবে তাকে বিচার দিলে সে সময়ে অভাবে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝগড়ার বিষয়ে খবরা খবর নেন, তার সাথে নাছিমা আক্তার বেয়াদবী করায় দুই একটা থাপ্পড় দিয়েছে।
আহত নাছিমা আক্তারের স্বামী মোঃ তারক জানান, সে রাতে ঘরে না থাকা অবস্থায় মেম্বার আজিজ তার ঘরে ডুকে তার স্ত্রীকে সালিসে কথা মারধর পূর্বক শ্লীলতাহানি করে। খবর পেয়ে সে বাড়িতে গিয়ে দেখে স্ত্রী নাছিমা আক্তারের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সাথে কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে আহত নাছিমা আক্তার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ২০০৩ সনে তাদের বাড়ির পাশের এক সংখ্যালঘু গুনধর ধূপী মেয়ে শিশুবালা ধূপীকে রাতে ঘরে ডুকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধর্ষিতা ভিকটিমের বড়ভাই অজিত ধুপীকে তাকে ধরতে চাইলে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। ঐ সময় ধর্ষণ ও ছুরিকাহত ধারায় কুতুবদিয়া থানায় মামলা হলে বিদেশে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসে। নির্মমভাবে আমাদের সমাজে অনেক মেয়েরা এইভাবে ধর্ষণ বা অত্যাচারের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই।



