কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার পানিতে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে প্রান্তিক চাষিদের শতশত বিঘার উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতশত কৃষকের ক্ষেতের পাট, আউশ ধান, আমন বীজতলা, পটল ও শাক সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা জুড়ে এবারের বন্যায় আউশ ধান ৭০০ হেক্টর, আমন বীজতলা ১৬০ হেক্টর, পাট ৬০ হেক্টর ও পটল ১৫ হেক্টরসহ বিভিন্ন শাক সবজি ১৫০ হেক্টর পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পটলচাষি জহুরুল হক জানান, টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ২০ শতক জমির পটলের গাছ মরে গেছে। তিনি ১৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন। মাত্র ২ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। এরই মধ্যে গত ১৫ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পটলক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত বছর তিনি এই ক্ষেতের পটল ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভাল ও দাম ভাল হওয়ায় তিনি ৯০ হাজার টাকা বিক্রির স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তার স্বপ্ন বাস্তব হলো না।
একই এলাকার কৃষক বাবুল মিয়া জানান, ভারীবৃষ্টিপাতে তারও ২০ শতক জমির পটল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনিও চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগের সহযোগীতা চেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সব ধরণের সহযোগী করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।




