স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে এমন নাটকীয় ম্যাচ খুব কমই দেখা যায়। একসময় ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়ে ৩–২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোলের সামনে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ান মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। এর মধ্যে লিওনেল মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন তিনি। অন্যদিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর, পরে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ফেলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল পুরোপুরি মিশরের নিয়ন্ত্রণে। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রা বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।
৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির দারুণ পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই গোলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। চার মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে নিজেই জালে বল পাঠিয়ে সমতায় ফেরান মেসি। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের আবহ, নতুন করে বিশ্বাস ফিরে আসে আর্জেন্টাইন শিবিরে।
সমতা ফেরার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রসে উড়ে এসে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলেই ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা, আর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার উদযাপন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। সতীর্থদের আলিঙ্গনে চোখ ভিজে ওঠে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। গ্যালারির দিকে তাকিয়েও আবেগাপ্লুত দেখা যায় তাঁকে। বিদায়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার আনন্দ যেন চোখের জলেই ধরা দিল।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত যে দলটি বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দলই লিখল বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি—একটি অ্যাসিস্ট, একটি গোল এবং শেষ পর্যন্ত দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেওয়ার নেতৃত্ব।




