দি ক্রাইম ডেস্ক: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নে এক জটিল রোগে আক্রান্ত নারীর অনুদানের চেকের টাকা তোলার বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমে এক প্রবীণ সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখায় বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
সংবাদকর্মীকে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান, ভিডিও বক্তব্য ধারণে নিষেধ এবং তার সাথে চরম অশালীন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই শাখার সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার একপর্যায়ে সাংবাদিককে প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাংকের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন নামের এক কিডনি রোগী তার চিকিৎসার জন্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহযোগিতার একটি চেক পান। সেই অনুদানের চেকটি তিনি প্রায় দশ দিন আগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখায় জমা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা উত্তোলন করতে পারছিলেন না। অসহায় এই নারী তার দুর্ভোগের বিষয়টি পঞ্চগড় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফ এবং সংবাদকর্মী সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে জানান।
তাদের অনুরোধে বুধবার দুপুরে ওই ব্যাংকে খোঁজ নিতে যান তারা। সেখানে প্রবেশ করে শাখার ব্যবস্থাপক জোতির্ময় রায়ের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ। একপর্যায়ে ব্যবস্থাপকের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েই তিনি তার ভিডিও বক্তব্য ধারণ শুরু করেন। ঠিক তখনই ওই ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজন আচমকা সেখানে এসে ভিডিও রেকর্ড বন্ধ করার জন্য হুমকি দেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং ব্যাংকের অন্য কর্মচারীদের ব্যাংকের প্রধান ফটকসহ সব দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। উপস্থিত সবার সামনে উসকানিমূলক কথা বলে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আসা সাধারণ গ্রাহকদের তড়িঘড়ি করে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর সাংবাদিক সাজ্জাদ ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের ব্যবস্থাপক আরিফুর রহমানকে ব্যাংকের ভেতরে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি সদস্য জুলহাস ও গোবিন্দ চন্দ্র এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ব্যাংকে এসে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারা ভেতরে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, হাজেরা খাতুন নামের এক অসহায় নারীর চেক জমা দেওয়ার পরও টাকা না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তিনি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে গিয়েছিলেন। ব্যবস্থাপক নিজেই তাকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন এবং তিনি তা ভিডিও করছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজন অতর্কিতভাবে এসে বলেন, দরজা জানালা বন্ধ করো, বেটাকে ধরো। এসময় তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। মারধরের হুমকি দেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে আমরা চলে আসি। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তার এমন আচরণ মোটেও কাম্য নয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখার ব্যবস্থাপক জোতির্ময় রায় এবং অভিযুক্ত সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন কল রিসিভ করেননি।
এদিকে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরের দিকে ব্যাংকের ভেতরে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুজন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ পাঠান। তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া একজন গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে আটকে রেখে দরজা বন্ধ করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামগ্রিক বিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পঞ্চগড় জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ মুক্তারুজ্জামান জানান, তিনি ইতিমধ্যে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য পরদিনই সরেজমিনে তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




