লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাস প্লাবণ জোয়ার ভাটায় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিলুপ্তির পথে কুতুবদিয়া উপকূলের নিম্নাঞ্চল। ভেঙে গেছে উপকূলের বিস্তৃর্ণ জনগোষ্টির বসতভিটি। বিগত শতাব্দির ১৯৬০ সন হতে এ পর্যন্ত অর্থাৎ বিগত ৬১ বছরে জোয়ারে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার পরিবারের বসতঘর। অনেকে জলের কুমিরের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে না পেরে পাড়ি জমিয়েছে অন্যত্র। সেখানেও নেই তাদের আত্নসম্মান ও মর্যাদা। সব সময় শরণার্থীদের তালিকায় নাম লিখে থাকতে হয় এসব বাস্তহারা পরিবারকে। এমন করুণ চিত্র কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া উপকূলের জনগোষ্ঠির।
স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তি মাষ্টার সিরাজদৌল্লা তালুকদার দি ক্রাইমকে বলেন,গত শতাব্দির ৬০ দশকের পর থেকে এ পর্যন্ত কুতুবদিয়া দ্বীপের ভাঙ্গা গড়ার পরিণতি ক্রমসই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়,জলোচ্ছাস,অমাবশ্যা,পূর্ণিমা এমনকি বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিনিয়তই প্লাবিত হচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপের নিম্নাঞ্চল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কয়েক বছর ধরে সাগরে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দ্বীপ রক্ষা বাঁধ ভেঙে নদীর জোয়ার লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়তই। কুতুবদিয়া দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধের মধ্যে এখনো ১২ কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত। এ পর্যন্ত তাদের পরিবার বসতঘর স্থানান্তরতি করেছে ৫বার। বর্তমানে তার চোখে দেখা বাঁধের কিনারা থেকে এক শ্রেণীর বালু খেকোরা প্রতিনিয়তই চর থেকে বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে। ডাঙ্গার বালু খেকো হায়না ও শকূন থেকে রেহায় পাচ্ছে না উপকূলের চর। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চরের বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে। ফলে বেড়িবাঁধ মারাত্নক হুমকির মুখে পড়েছে।
কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠা চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বড় বড় মালবাহি ট্রলারে বালি ভর্তি করে দৈনিক হাজার হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়ে যাচ্ছে অসাধু বালি ব্যবসায়ীরা। যে হারে বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে এতে জেগে উঠা চর বিলুপ্তি হলে দ্বীপ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তার পাশাপাশি দ্বীপের পশ্চিম উপকূলের বাঁধ রক্ষা করা দূরহ ব্যাপারে হয়ে পড়েছে।
উপকূলের জেলে শামসুল আলম দি ক্রাইমকে জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে ড্রেজারের মাধ্যমে কুতুবদিয়া চ্যানেল ও দ্বীপের পশ্চিমে জেগে উঠা চর থেকে বালি উত্তোলন করে নৌকার মাধ্যমে কিছু সংখ্যক অসাধু বালি ব্যবসায়ী বাঁশখালী, মগনামা,কুতুবদিয়া উপকূলের উন্নয়ন ভরাট কাজে ব্যবহার করার জন্য বালি নিয়ে যাচ্ছে। কুতুবদিয়া দ্বীপ রক্ষা চর থেকে বালি উত্তোলনের ফলে দ্বীপটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে কুতুবদিয়া দ্বীপের পশ্চিমে চর থেকে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যক্তি বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। কুতুবদিয়া দ্বীপের মানুষের এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে জলে কুমির, ডাঙ্গায় শকূন, অচিরেই দ্বীপের অস্তিত্ব নিয়ে জীবন মরণ লড়াই।




