লামা প্রতিনিধি: আমাদের দেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে দাঁড়িয়েছে। আর এই বিশাল অর্জনের কারিগর দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। সরকারের সু-শৃঙ্খল নীতিমালা ও শিল্প সহায়ক ভূমিকাতো রয়েছে। উন্নয়ন সূচকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন শিল্পোৎপাদন মুখি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই দেশের উন্নয়ন কারিগরদের রক্ষা এবং তাদের শ্রমে-ঘামে গড়ে উঠা ইন্ডাস্ট্রি রক্ষার দায়িদ্বও কিন্তু দেশ-সমাজ ও প্রশাসনের।পার্বত্য বান্দরবানে শিল্পের ক্রম বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাবার, হর্টিকালচার সেক্টরে এই সম্ভাবনা লক্ষণীয়। এই শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আজ সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে গনমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য জনপদে কোনো উৎপাদন মুখি শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে, প্রথমে বলতে হবে রাবার, হর্টিকালচার শিল্পের কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ে সৃজিত রাবার বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ব্যাঞ্জক চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে।দেশের অনেক উদ্দ্যােক্তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখানকার পতিত পাহাড়গুলোকে রাবার, হর্টিকালচার এর মাধ্যমে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো একটি কুচক্রি মহল যেন এই শিল্প তথা সবুজ বনায়নের প্রয়াসকে থামিয়ে দেয়ার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যেন দেশীয় শিল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত একই সাথে উদ্যােক্তাদের সকল বিনিয়োগ জলে ভাসিয়ে দেয়ার এক নীল নকশা।
বিবৃতিতে জানানো হয়,”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক বান্দরবান পার্বত্য জেলা এর নিকট থেকে তফশীল ভুক্ত জমি ৪০ বৎসরের জন্য ইজারা নেওয়ার প্রতিবেদন। পাহাড়ের এই গহিন এলাকায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামটি মানুষের মুখে এতবেশী পরিচিত যে , অনেক আগে থেকেই মানুষ প্রতিষ্ঠানটিকে চিনে । এটা একদিকে যেমন লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর উদ্যোক্তাদের গর্ব , ঠিক তেমনি প্রতিটি সদস্যদেরও গর্ব এবং দেশের অর্থনীতির একটি হাতিয়ার। ১৯৮৯ সালে  জিল্লুর রহিম চৌধুরীর তত্বাবধানে বান্দরবান জেলার লামা থানার অন্তরগত পার্বত্য এলাকার পাহাড়ী জমি ৪০ বছরের জন্য রাবার ও হর্টিকালচার এখন নতুন করে অনুমোদিত ফলজ ও বনজ বাগান করার উদ্দেশ্যে লীজ গ্রহণ করেন । তখন থেকে রাবার ও হট্টিকালচার বাগান করার মানসে ১১ / ১০ / ১৯৮৯ ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের সাথে বান্দরবান জেলা মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তারা একটি রাবার বাগান করার চুক্তি সম্পাদন করেন । বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ব্যবসার সুবিধার্থে একটি কোম্পানী গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন । এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৯০ ইং সালে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি রাবার কোম্পানীর জন্ম হয় । স্থান ভেদে কোম্পানীর নাম করণ করা হয় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ।
লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ৬৪ জন শেয়ারহোল্ডার একত্রিত হয়ে বান্দরবান জেলার লামা থানার অন্তরগত ৫ নং সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নং ডলুছড়ি মৌজা ও ৩০১ নং সরই মৌজায় ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে লীজ চুক্তির মাধ্যমে ২৫ একর করে ৬৪ টি রাবার প্লট ( ১৬০০ একর ) জমি বরাদ্ধ প্রাপ্ত হয় । উক্ত বরাদ্ধ প্রাপ্ত জমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত মানের সমন্বিত রাবার চাষ করার লক্ষ্যে , ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিবর্তে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর নামে রাবার চাষ ও হটিকালচার বাগান করার নিমিত্তে তাদের নামে বরাদ্ধ প্রাপ্ত প্লটসমূহ ভেন্ডোরস এগ্রিমেন্ট এর মাধ্যমে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে হস্তান্তর দলিল সম্পাদন পূর্বক বান্দরবান জেলা প্রশাসকের দপ্তর , বিএফআইডিসির মহাব্যবস্থাপক ঢাকা হতে স্টেন্ডিং কমিটির অনুমোদন লাভের পর যৌথভাবে কোম্পানীর কার্যাক্রম শুরু হয়।
উক্ত কোম্পানীতে চেয়ারম্যান হিসাবে এস . এম . এইচ গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক  সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন, মেরিডিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  এস . এম . কামাল পাশা, নিজামপুর এগ্রো প্রোডাক্টস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাবেক সচিব  এস . এম . আল হোসাইনী, ক্যাপ্টেন ( অবঃ )  কে . এম . রব্বানী, বান্দরবানের সাবেক জেলা প্রশাসক  আব্দুল হক চৌধুরীসহ দেশের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ সরাসরি ভাবে জড়িত ।
বর্তমানে বাগান গুলোতে রাবার উৎপাদন হচ্ছে । রাবার ছাড়াও সমন্বিত রাবার চাষের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির কিছু আমের চারা রোপন করা হয়। বর্তমানে  ১৬০০ একর বাগানে প্রায় ১ লক্ষের উপরে রাবার গাছ , ২ লক্ষের উপরে আকাশমনি ও ২ হাজার আম গাছ সৃজিত হয়,যা অক্সিজেন ভান্ডার ভাবা যায়। রয়েছে ৩ টি রাবার প্রসেসিং ফ্যাক্টরী, ৮ টি টেপার শেড এবং ১ টি বাংলো। এ সবের অনেক কিছু পাহাড়ীদের সৃষ্ট আগুনে পুড়ে যায় ।
উল্লেখ্য, সৃজনকৃত প্রায় ৩০০ একর বাগান ২০০৫ ইং সালে উক্ত ঘটনা সংঘটিত না হলে চারা গাছ গুলি বর্তমানে উৎপাদনে থাকত এবং বর্তমানে সেখানে ধাপ কাটার আলামত বিদ্যমান রয়েছে । আমাদের পরিকল্পনা মাফিক ইজারা প্রাপ্ত জমির একদিকের সীমানা ধরে পর্যায় ক্রমে প্রতি বৎসর আমরা বাগানের পরিসর বৃদ্ধি করে লোক নিয়োগের মাধ্যমে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করে যাচ্ছি ।
রাবার বাগান করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় । এর মাঝে আন্তজাতিক বাজারে রাবারের মূল্য কম হওয়ায় যেখানে , প্রতিটা মালিক রাবার বাগান করতে হিমসীম খাচ্ছে, সেখানে আমরা প্রতি বৎসর নতুন বাগান করতে গিয়ে শুধু বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছি । বাগানগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারী, কর্মকর্তা এবং টেপারসহ সর্বমোট ২০০ জন ( পাহাড়ী ও বাঙ্গালী ) শ্রমিক নিয়মিত কর্মরত আছে । তাছাড়া জঙ্গল কর্তন, ফায়ার লাইন, ব্লক লাইন পরিষ্কার ও ধাপ কাটার কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে ।
কিন্তু বিগত কিছু দিন পূর্ব হতে ডলুছড়ি মৌজায় ১২২৫ একর ইজারা প্রাপ্ত লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমির দক্ষিণ – পূর্ব ঢেঁকিরছড়া পাড়ার সীমানা সংলগ্ন এবং নয়াপাড়ার পাশের পূর্ব দিকের সীমানায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ২০০৫ ইং সালের সৃজনকৃত জায়গায় ভূমি জবরদখলকারী হেডম্যান যোহান ত্রিপুরার সহায়তায় কিছু সন্ত্রাসী উপজাতী জোর পূর্বক বিভিন্ন গাছের চারা লাগায় । এ ছাড়া ডলুছড়ি মৌজার হেডম্যান যোহান ত্রিপুরা , ঢেঁকিরছড়া পাড়ার কাইংপ্রে ম্রোং ও লংকম ম্রোঃ এর ইন্ধনে ঢেঁকিরছড়া নয়াপাড়া, মেরাইত্তা নয়াপাড়া, টঙ্ঘঝিরি পাড়ার কিছু সংখ্যাক উচ্ছৃঙ্খল স্রোং উপজাতী ও কয়েকজন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক মিলিত হয়ে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সৃজনকৃত বাগান কেটে জোর পূর্বক টং ঘর নির্মান করে।
২০১৬ সালের মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে তারা নতুন পাড়া বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে । ২০২২ ইং সালে এসে আবারো আবারো তারা এই শিল্পটি ধ্বংসের পরিকল্পনা শুরু করেছে। তারা একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করে রাবার বাগান করতে বাধা প্রদান করছে । ডিসি অফিসের পক্ষথেকে প্রচন্ড চাপে থাকা শর্তেও শান্তিতে বাগান করতে পারছে না । লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় হয়ে যাচ্ছে(!)। কে আমাদের সহযোগিতা করবে ? আমাদের টাকা মেহনতি মানুষের ঘাম ঝরানো টাকা লামা রাবার, মানুষের দানের টাকায় চলে না ।
এ দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারি উপজাতিদেরকে নিয়ে  গত ৭ মাচ লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা জামাল এর আফিসে বসে এমপি ও মাননীয় মন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়  বীর বাহাদুর উশৈসিং এর সহিত কথা বলে একটা ব্যবস্থা করার উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।যদিও তারা অবৈধ তবুও মানবতার দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে আমরা ১৫০ একর জমি ছেড়ে আমাদের প্লানটেশনের কাজ করতে থাকি । এর পরও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমি নিয়ে অবৈধতার প্রশ্ন তোলে একটি স্বার্থান্বেষী সন্ত্রাসী গ্রুপ ।
এ সব বিষয় নিয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ী , লামা থানা , লামা পুলিশ সার্কেল অফিস , লামা চম্পাতলী আর্মি ক্যাম্প ইত্যাদি জায়গায় অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাদের কাগজ – পত্র এবং উৎপাদিত রাবার ও ফলজ বাগানের কার্যক্রম দেখে সন্তুষ্ট হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর সীমানা ছেড়ে চলে যেতে বলেন । কিন্তু তারা প্রশাসনের সকল আইন ভঙ্গ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত কর্মকর্তা , কর্মচারী ও মালিকদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে ।
লামা প্রতিনিধি: আমাদের দেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে দাঁড়িয়েছে। আর এই বিশাল অর্জনের কারিগর দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। সরকারের সু-শৃঙ্খল নীতিমালা ও শিল্প সহায়ক ভূমিকাতো রয়েছে। উন্নয়ন সূচকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন শিল্পোৎপাদন মুখি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই দেশের উন্নয়ন কারিগরদের রক্ষা এবং তাদের শ্রমে-ঘামে গড়ে উঠা ইন্ডাস্ট্রি রক্ষার দায়িদ্বও কিন্তু দেশ-সমাজ ও প্রশাসনের।পার্বত্য বান্দরবানে শিল্পের ক্রম বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাবার, হর্টিকালচার সেক্টরে এই সম্ভাবনা লক্ষণীয়। এই শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আজ সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে গনমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য জনপদে কোনো উৎপাদন মুখি শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে, প্রথমে বলতে হবে রাবার, হর্টিকালচার শিল্পের কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ে সৃজিত রাবার বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ব্যাঞ্জক চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে।দেশের অনেক উদ্দ্যােক্তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখানকার পতিত পাহাড়গুলোকে রাবার, হর্টিকালচার এর মাধ্যমে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো একটি কুচক্রি মহল যেন এই শিল্প তথা সবুজ বনায়নের প্রয়াসকে থামিয়ে দেয়ার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যেন দেশীয় শিল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত একই সাথে উদ্যােক্তাদের সকল বিনিয়োগ জলে ভাসিয়ে দেয়ার এক নীল নকশা।
বিবৃতিতে জানানো হয়,”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক বান্দরবান পার্বত্য জেলা এর নিকট থেকে তফশীল ভুক্ত জমি ৪০ বৎসরের জন্য ইজারা নেওয়ার প্রতিবেদন। পাহাড়ের এই গহিন এলাকায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামটি মানুষের মুখে এতবেশী পরিচিত যে , অনেক আগে থেকেই মানুষ প্রতিষ্ঠানটিকে চিনে । এটা একদিকে যেমন লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর উদ্যোক্তাদের গর্ব , ঠিক তেমনি প্রতিটি সদস্যদেরও গর্ব এবং দেশের অর্থনীতির একটি হাতিয়ার। ১৯৮৯ সালে  জিল্লুর রহিম চৌধুরীর তত্বাবধানে বান্দরবান জেলার লামা থানার অন্তরগত পার্বত্য এলাকার পাহাড়ী জমি ৪০ বছরের জন্য রাবার ও হর্টিকালচার এখন নতুন করে অনুমোদিত ফলজ ও বনজ বাগান করার উদ্দেশ্যে লীজ গ্রহণ করেন । তখন থেকে রাবার ও হট্টিকালচার বাগান করার মানসে ১১ / ১০ / ১৯৮৯ ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের সাথে বান্দরবান জেলা মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তারা একটি রাবার বাগান করার চুক্তি সম্পাদন করেন । বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ব্যবসার সুবিধার্থে একটি কোম্পানী গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন । এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৯০ ইং সালে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি রাবার কোম্পানীর জন্ম হয় । স্থান ভেদে কোম্পানীর নাম করণ করা হয় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ।
লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ৬৪ জন শেয়ারহোল্ডার একত্রিত হয়ে বান্দরবান জেলার লামা থানার অন্তরগত ৫ নং সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নং ডলুছড়ি মৌজা ও ৩০১ নং সরই মৌজায় ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে লীজ চুক্তির মাধ্যমে ২৫ একর করে ৬৪ টি রাবার প্লট ( ১৬০০ একর ) জমি বরাদ্ধ প্রাপ্ত হয় । উক্ত বরাদ্ধ প্রাপ্ত জমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত মানের সমন্বিত রাবার চাষ করার লক্ষ্যে , ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিবর্তে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর নামে রাবার চাষ ও হটিকালচার বাগান করার নিমিত্তে তাদের নামে বরাদ্ধ প্রাপ্ত প্লটসমূহ ভেন্ডোরস এগ্রিমেন্ট এর মাধ্যমে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে হস্তান্তর দলিল সম্পাদন পূর্বক বান্দরবান জেলা প্রশাসকের দপ্তর , বিএফআইডিসির মহাব্যবস্থাপক ঢাকা হতে স্টেন্ডিং কমিটির অনুমোদন লাভের পর যৌথভাবে কোম্পানীর কার্যাক্রম শুরু হয়।
উক্ত কোম্পানীতে চেয়ারম্যান হিসাবে এস . এম . এইচ গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক  সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন, মেরিডিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  এস . এম . কামাল পাশা, নিজামপুর এগ্রো প্রোডাক্টস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাবেক সচিব  এস . এম . আল হোসাইনী, ক্যাপ্টেন ( অবঃ )  কে . এম . রব্বানী, বান্দরবানের সাবেক জেলা প্রশাসক  আব্দুল হক চৌধুরীসহ দেশের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ সরাসরি ভাবে জড়িত ।
বর্তমানে বাগান গুলোতে রাবার উৎপাদন হচ্ছে । রাবার ছাড়াও সমন্বিত রাবার চাষের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির কিছু আমের চারা রোপন করা হয়। বর্তমানে  ১৬০০ একর বাগানে প্রায় ১ লক্ষের উপরে রাবার গাছ , ২ লক্ষের উপরে আকাশমনি ও ২ হাজার আম গাছ সৃজিত হয়,যা অক্সিজেন ভান্ডার ভাবা যায়। রয়েছে ৩ টি রাবার প্রসেসিং ফ্যাক্টরী, ৮ টি টেপার শেড এবং ১ টি বাংলো। এ সবের অনেক কিছু পাহাড়ীদের সৃষ্ট আগুনে পুড়ে যায় ।
উল্লেখ্য, সৃজনকৃত প্রায় ৩০০ একর বাগান ২০০৫ ইং সালে উক্ত ঘটনা সংঘটিত না হলে চারা গাছ গুলি বর্তমানে উৎপাদনে থাকত এবং বর্তমানে সেখানে ধাপ কাটার আলামত বিদ্যমান রয়েছে । আমাদের পরিকল্পনা মাফিক ইজারা প্রাপ্ত জমির একদিকের সীমানা ধরে পর্যায় ক্রমে প্রতি বৎসর আমরা বাগানের পরিসর বৃদ্ধি করে লোক নিয়োগের মাধ্যমে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করে যাচ্ছি ।
রাবার বাগান করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় । এর মাঝে আন্তজাতিক বাজারে রাবারের মূল্য কম হওয়ায় যেখানে , প্রতিটা মালিক রাবার বাগান করতে হিমসীম খাচ্ছে, সেখানে আমরা প্রতি বৎসর নতুন বাগান করতে গিয়ে শুধু বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছি । বাগানগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারী, কর্মকর্তা এবং টেপারসহ সর্বমোট ২০০ জন ( পাহাড়ী ও বাঙ্গালী ) শ্রমিক নিয়মিত কর্মরত আছে । তাছাড়া জঙ্গল কর্তন, ফায়ার লাইন, ব্লক লাইন পরিষ্কার ও ধাপ কাটার কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে ।
কিন্তু বিগত কিছু দিন পূর্ব হতে ডলুছড়ি মৌজায় ১২২৫ একর ইজারা প্রাপ্ত লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমির দক্ষিণ – পূর্ব ঢেঁকিরছড়া পাড়ার সীমানা সংলগ্ন এবং নয়াপাড়ার পাশের পূর্ব দিকের সীমানায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ২০০৫ ইং সালের সৃজনকৃত জায়গায় ভূমি জবরদখলকারী হেডম্যান যোহান ত্রিপুরার সহায়তায় কিছু সন্ত্রাসী উপজাতী জোর পূর্বক বিভিন্ন গাছের চারা লাগায় । এ ছাড়া ডলুছড়ি মৌজার হেডম্যান যোহান ত্রিপুরা , ঢেঁকিরছড়া পাড়ার কাইংপ্রে ম্রোং ও লংকম ম্রোঃ এর ইন্ধনে ঢেঁকিরছড়া নয়াপাড়া, মেরাইত্তা নয়াপাড়া, টঙ্ঘঝিরি পাড়ার কিছু সংখ্যাক উচ্ছৃঙ্খল স্রোং উপজাতী ও কয়েকজন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক মিলিত হয়ে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সৃজনকৃত বাগান কেটে জোর পূর্বক টং ঘর নির্মান করে।
২০১৬ সালের মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে তারা নতুন পাড়া বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে । ২০২২ ইং সালে এসে আবারো আবারো তারা এই শিল্পটি ধ্বংসের পরিকল্পনা শুরু করেছে। তারা একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি করে রাবার বাগান করতে বাধা প্রদান করছে । ডিসি অফিসের পক্ষথেকে প্রচন্ড চাপে থাকা শর্তেও শান্তিতে বাগান করতে পারছে না । লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় হয়ে যাচ্ছে(!)। কে আমাদের সহযোগিতা করবে ? আমাদের টাকা মেহনতি মানুষের ঘাম ঝরানো টাকা লামা রাবার, মানুষের দানের টাকায় চলে না ।
এ দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারি উপজাতিদেরকে নিয়ে  গত ৭ মাচ লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা জামাল এর আফিসে বসে এমপি ও মাননীয় মন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়  বীর বাহাদুর উশৈসিং এর সহিত কথা বলে একটা ব্যবস্থা করার উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।যদিও তারা অবৈধ তবুও মানবতার দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে আমরা ১৫০ একর জমি ছেড়ে আমাদের প্লানটেশনের কাজ করতে থাকি । এর পরও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর জমি নিয়ে অবৈধতার প্রশ্ন তোলে একটি স্বার্থান্বেষী সন্ত্রাসী গ্রুপ ।
এ সব বিষয় নিয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ী , লামা থানা , লামা পুলিশ সার্কেল অফিস , লামা চম্পাতলী আর্মি ক্যাম্প ইত্যাদি জায়গায় অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাদের কাগজ – পত্র এবং উৎপাদিত রাবার ও ফলজ বাগানের কার্যক্রম দেখে সন্তুষ্ট হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর সীমানা ছেড়ে চলে যেতে বলেন । কিন্তু তারা প্রশাসনের সকল আইন ভঙ্গ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত কর্মকর্তা , কর্মচারী ও মালিকদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে ।