নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং রেলক্রসিং এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আজ সোমবার (০২ নভেম্বর) ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আয়োজনে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ৩৮টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এরমধ্যে ২১টির কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ২১টির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে দুটি স্থানে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চসিক প্রশাসক বলেন, সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিজের পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার প্রতিও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই রয়েছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়ক। বিশেষ করে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ডানে-বাঁয়ে ভালোভাবে দেখে এবং যানবাহনের গতিবিধি বুঝে নিরাপদ স্থানে রাস্তা পার হতে হবে। ইসলামে রাস্তার হক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক নাগরিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনের অসতর্ক ব্যবহার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে কিংবা ভিডিও দেখে। আবার অনেকে দলবেঁধে গল্প করতে করতে রাস্তা পার হয়। এতে আশপাশের যানবাহনের প্রতি মনোযোগ থাকে না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সড়কে চলাচলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনচালকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই সাহস ও দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কাজে লাগাতে হবে। কোথাও ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি কিংবা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখলে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।
নগরের পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাস্তায় পড়ে থাকা ডাবের খোসায় বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। আবার কলার খোসায় পিছলে পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।




