ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকাশ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা না দেখা গেলেও পর্দার আড়ালে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, প্রাথমিক ফলাফলেই স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এবং তাদের পক্ষে আর সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।
লাপিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার প্রকাশ্যে সম্পন্ন হলেও সরকার গঠনের মূল দরকষাকষি হয় ছোট ছোট কক্ষে এবং ক্যামেরার অন্তরালে। রাজনৈতিক এই অনিশ্চয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, নীরবতার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটছে তা জানতে চাইলে উত্তর হবে—হ্যাঁ, প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে কোনো জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও পয়েন্টের ব্যবধানে বিরোধী ‘চেঞ্জ ব্লক’ বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। লাপিদের ভাষায়, “এটি কোনো নকআউট জয় ছিল না, বরং পয়েন্টের ব্যবধানে পাওয়া জয়। তবে পয়েন্টও তো গণনা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত জয় তো জয়ই।”
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। লাপিদের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে সর্বসাকুল্যে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে অতি-কট্টরপন্থী দুই দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ ৭টি এবং ‘শাস’ ৬টি আসন পেয়েছে। এই দুটি দলকে জায়নবাদবিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে লাপিদ বলেন, ফলে নেতানিয়াহুর নিজস্ব শিবিরের হাতে রয়েছে মাত্র ৪০টি আসন। এই সীমিত আসন নিয়ে তার পক্ষে নতুন সরকার তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী সব দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৬৭টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি। তবে এই হিসাবের ভেতর আরব ব্লকের দুটি দল রয়েছে—যার মধ্যে ‘রাআম’ পেয়েছে ৮টি এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পেয়েছে ১১টি আসন। অপরদিকে মূল চেঞ্জ ব্লকের চারটি দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন।
তবে নতুন জোট গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আরব দলগুলোর ভূমিকা। লাপিদের ‘টুগেদার পার্টি’, ‘ইয়াশার’ এবং ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী নয়। এই বিষয়ে একমাত্র বামপন্থী দল ‘ডেমোক্র্যাটস’ কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। লাপিদ জানান, ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে চেঞ্জ ব্লক বিকল্প সরকার গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিষয়টি বেশ জটিল এবং সফলতার শতভাগ নিশ্চয়তা নেই, তবুও এই অনিশ্চিত সময়ে ইসরায়েলি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।




