পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক বিরোধের কারণে পর্যটন শিল্প, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাজেকের বর্তমান সংকট কেবল একটি নির্দিষ্ট অবরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা এবং চাঁদা আদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ। পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধের ফলে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট থেকে সাজেকের মাচালং এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের অস্ত্রধারীরা অবস্থান করছে। তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও চাষাবাদ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার দাবি, গত প্রায় দুই মাস ধরে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অবস্থান করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাড়াপ্রধানদের মারধর, হুমকি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই পরিস্থিতির কারণে কয়েক শ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত অস্ত্রধারী গোষ্ঠী এলাকা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তারা এই পরিবারগুলোকে নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা এবং সাজেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




