পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত দিনে এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারটিও এখনো প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় জাহাজমালিকেরা ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জাহাজের ফিটনেস নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই পর্যটকদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। এই ঘোষণায় সেন্ট মার্টিনের কয়েক হাজার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে অনুমোদনের এই জটিলতায় পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই হোঁচট খেলেন স্থানীয়রা।
নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।
পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়।.জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়।




