মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সমস্যা ও সংকট সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে দুই শীর্ষ নেতা এই বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই আমরা আমাদের অঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম।” এসময় তিনি রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বহুমুখী সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দুই দেশের মধ্যবর্তী বাণিজ্য প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরানি প্রেসিডেন্টের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ইরান, রাশিয়া এবং একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ সহজ করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা ও সামরিক খাতে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রসারে উভয় দেশের সরকারেরই আন্তরিক সদিচ্ছা রয়েছে বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।
বৈঠক চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে জানান, ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করেছে। তবে এই সংকট থেকে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুতিন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই সংঘাত বন্ধে মস্কো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যবর্তী আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ায় কূটনৈতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। এই সংঘাত শুরুর পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ইরান সফর করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সফরকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অঞ্চলে যাতে বড় ধরনের যুদ্ধ নতুন করে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই রাশিয়ার মূল লক্ষ্য।
রাশিয়ার এই মধ্যস্থতা এবং সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেন, রাশিয়া ও ইরান এর আগে কখনো এত ঘনিষ্ঠভাবে একযোগে কাজ করেনি। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে ইরানকে লক্ষ্য করে পুনরায় সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের বাড়তি ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে আঞ্চলিক সংকট সমাধানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করছে।




