ঢাকা অফিস: রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে পিটিয়ে ও লাথি মেরে হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কোনো বিচার হয়নি। নিহত মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া নামের ওই যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও পরে চাপের মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ার দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
২০১১ সালের ৩০ মে কড়াইল বস্তিতে একদল লোক স্লোগান দিতে দিতে মোশাররফকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো ও লাথি মারা হয়। পরিবারের ভাষ্য, একসময় মোশাররফের মৃত্যু হলেও হামলাকারীরা তখনও তাঁকে মারধর করতে থাকে।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও ইউটিউবে ছড়িয়ে আছে বলে জানা গেছে। ওই ফুটেজে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে একদল লোকের মারধরের দৃশ্য দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
তৎকালীন গুলশান থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছিল। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে চাপের মুখে তাঁদের মামলা বা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচারিক অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
মোশাররফকে কেন হত্যা করা হয়েছিল, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। সে সময় স্থানীয় লোকজনের একটি অংশ তাঁকে অপরাধী মনে করেছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়। তবে মোশাররফের পরিবারের দাবি, কড়াইল বস্তিতে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। সেই প্রভাব ও আধিপত্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিরোধী একটি পক্ষ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মোশাররফকে হত্যার পরও তাঁর স্মৃতি কড়াইল থেকে মুছে যায়নি। তাঁর নামেই এলাকায় ‘মোশাররফ বাজার’ পরিচিতি পেয়েছে একটি বাজার। অথচ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ ও কষ্ট এখনো কাটেনি।
মোশাররফের ছোট ভাই এতো বছর পরও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “আমার ভাইয়ের ছয়-সম্পত্তি খাওয়ার লোক আছে। তার হত্যার বিচার চাওয়ার কোন লোক নাই।”
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোশাররফকে যারা প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের কেউ কেউ এখনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে বিচার না পাওয়ার বেদনা নিয়ে দিন কাটছে পরিবারটির।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মানুষকে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার পরও যদি দীর্ঘ বছর বিচার না হয়, তাহলে তা আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁদের দাবি, পুরোনো মামলার নথি ও ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
মোশাররফের পরিবারের কাছে ১৫ বছর পরও প্রশ্ন একটাই, প্রকাশ্যে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যার বিচার কি কখনো হবে?




