নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার দক্ষিন খান থানাধীন ফাদাবাদ অঞ্চলের খন্দকার স্কুল সংলগ্ন কোপা মসজিদ রোড মায়ের আশির্বাদ নামক একটি ভবনের গেইটে গত শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর) দি ক্রাইম পত্রিকার উত্তরা প্রতিনিধি ইজাজুল হক এর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দক্ষিণ খান থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
গত ১৬ আগষ্ট আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় ভবনটির ৩ তলায় ওই সাংবাদিক এর ফ্লাটে বাসার মালিকের দু’ছেলে লিমন, ইমরান, ও ভাড়াটে এলাকার মাস্তান হজর এমদাদ ইমরান সহ আরো কয়েকজন ফ্লাটে অতর্কিত প্রবেশ করে তার স্ত্রী ফাতেহা ও গণমাধ্যম কর্মীকে মারধর করে টেনে জবরদস্তিভাবে বাসা থেকে বের করে তার ভাড়া বাসায় তালা লাগাতে চায়। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক পরিবারকে ফ্লাটের বাহিরে এমদাদ নামক জনৈক স্থানীয় গুন্ডা মারধর করে ও বাসার মালিক এর ছেলে লিমন, ভাড়াটিয়া গুন্ডা হজরত আলী ফ্লাটে ঢুকে ওই সাংবাদিক এর স্ত্রীর স্বর্ণের একটি চেইন ও কানের দুল এবং নগদ ১৭,৫০০ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এহেন পরিস্থিতে ওই সাংবাদিক পরিবার দক্ষিন খান থানায় হাজির হয়ে তার পূর্বের আর একটি অভিযোগ তদন্তের তদন্তকারী এস আই ওমর ফারুককে বিষয়টি জানালে তিনি ডিউটি অফিসার সোহেলকে ফোন করে এস আই জাহাঙ্গীরকে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পাঠায়। পুলিশ নিয়ে গেলেও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই বাসার মালিক এর ফ্লাটে চা নাস্তা করে সাংবাদিক ইজাজুলকে বাসা ছেড়ে দিতে কড়া হুশিয়ারী দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
এই ঘটনা এস আই ওমর ফারুককে জানালে তিনি বলেন, আমার কাছে যে অভিযোগ দেওয়া আছে তার ব্যবস্থা নিবো। আপনি আইনি সহযোগিতা পাবেন।
উল্লেখ, গত ২৬ জুলাই ভবনটির ছাদে বাড়ির মালিকের ছেলে জাহিদ বহিরাগত কয়েক জন মাদক সেবীদের নিয়ে মাদক সেবন অবস্থায় দেখে ফেললে ওই সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে। পরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ না করে সাধারণ ডায়রী করেন।
সাংবাদিক ইজাজুল জানান,গত ৫ সেপ্টেম্বর সে বিষয় তদন্ত করতে এস আই ওমর ফারুক আসলে বাদি সাংবাদিক ইজাজুলকে ডাকা হয়। তাৎক্ষনিক হাজির হয়ে সাংবাদিক ইজাজুল তার স্ত্রীকে কিছুটা দুরে নিরাপদে রেখে পুলিশের ডাকে উপস্থিত হলে পরে পুলিশের সামনেই গণমাধ্যমকর্মীকে টেনে হেচড়ে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে সেভ করে পাঠিয়ে দেয়। বাসা মালিক এর ভাড়াটিয়া গুন্ডা হজর আলী সে সময় আমাকে বেদমভাবে মারধর করে।এর ফলস্রুতিতে তিনি গত ০৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয় গুন্ডা হজরত আলীর বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। যার জিডি ট্রাকিং নং U88PFE জিডি নং ৩৫৬।
এ বিষয় দক্ষিণ খান থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, সাংবাদিক ভাইয়ের উপর এহেন হামলা আমরা মেনে নিতে পারিনা দ্রুত জিডি করে কোর্টে পাঠানো হবে। তারপর আইনি ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঘটনার সত্যতায় এস আই ওমর ফারুক বলেন,আমার সামনে সাংবাদিককে আটকে রাখতে ধস্তাধস্তি ও মারধর করতে লাগলে আমি শক্ত হস্তে তাকে সেভ করি। ওসি স্যারকে বিষটি জানিয়েছি, স্যার আমাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।




