রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য, উন্নয়ন বার্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, এর মাধ্যমে তথ্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি সদরে মুজাদ্দেদ -ই- আলফেসানী একাডেমী প্রাঙ্গণে ২৬ জেলার আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মানরে অংশ হিসাবে রাঙ্গামাটি জেলার আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গামাটিতে যে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটিকে শুধু একটি ভবন হিসেবে দেখলে চলবে না। এই কমপ্লেক্সের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক উদ্দেশ্য।এখান থেকে তথ্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। চলচ্চিত্র ও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কমপ্লেক্সে প্রায় ১৬০ আসনের মিনি সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা রাঙ্গামাটির মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সাইবার অপরাধ ও গুজব প্রতিরোধে তথ্য ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য, মানুষের চরিত্রহনন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় তথ্য ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজকে সহজ করবে না; বরং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধেও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে পার্বত্য এলাকার তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে দেশের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফ্রি ল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে উঠলে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য এলাকার তরুণদেরও এ সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের সমস্যা সরেজমিনে চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো অনুভব করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সরকার

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা সমস্যা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ঝিরি থেকে সৌরশক্তির মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আরো আধুনিক হতে হবে বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা ও সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিশ্বপরিসরে ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আধুনিক ও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ তারই অংশ। দেশের জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগটি সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ; এর আওতায় জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সম্ভব হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নতমানের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের জন্য কমপ্লেক্সটি উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাজের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। জনগণের অর্থে নির্মিত স্থাপনা যেন দীর্ঘদিন মানুষের সেবা দিতে পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উন্নয়ন মোঃ শাহ আলম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ শাহ আলম আরো বলেন, একসময় দেশে তথ্যের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে তথ্যের ঘাটতি নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্যের কারণে মানুষ নানা ধরনের বিভ্রান্তির মুখোমুখি হচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। অপতথ্য, গুজব, ভুয়া তথ্য এবং মানহানিকর তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এসব মোকাবিলায় জনগণের কাছে সঠিক ও যাচাই করা তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এ ধরনের অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর অবকাঠামো তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির ২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরানুল ভূঞাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য, উন্নয়ন বার্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, এর মাধ্যমে তথ্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি সদরে মুজাদ্দেদ -ই- আলফেসানী একাডেমী প্রাঙ্গণে ২৬ জেলার আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মানরে অংশ হিসাবে রাঙ্গামাটি জেলার আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গামাটিতে যে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটিকে শুধু একটি ভবন হিসেবে দেখলে চলবে না। এই কমপ্লেক্সের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক উদ্দেশ্য।এখান থেকে তথ্য ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। চলচ্চিত্র ও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কমপ্লেক্সে প্রায় ১৬০ আসনের মিনি সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা রাঙ্গামাটির মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সাইবার অপরাধ ও গুজব প্রতিরোধে তথ্য ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য, মানুষের চরিত্রহনন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় তথ্য ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজকে সহজ করবে না; বরং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধেও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে পার্বত্য এলাকার তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে দেশের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফ্রি ল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে উঠলে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য এলাকার তরুণদেরও এ সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের সমস্যা সরেজমিনে চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো অনুভব করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সরকার

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা সমস্যা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ঝিরি থেকে সৌরশক্তির মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন বুঝে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার খাতকে আরো আধুনিক হতে হবে বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা ও সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিশ্বপরিসরে ব্র্যান্ডিং করার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আধুনিক ও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ তারই অংশ। দেশের জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগটি সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ; এর আওতায় জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সম্ভব হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নতমানের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের জন্য কমপ্লেক্সটি উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাজের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। জনগণের অর্থে নির্মিত স্থাপনা যেন দীর্ঘদিন মানুষের সেবা দিতে পারে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উন্নয়ন মোঃ শাহ আলম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ শাহ আলম আরো বলেন, একসময় দেশে তথ্যের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে তথ্যের ঘাটতি নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্যের কারণে মানুষ নানা ধরনের বিভ্রান্তির মুখোমুখি হচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। অপতথ্য, গুজব, ভুয়া তথ্য এবং মানহানিকর তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এসব মোকাবিলায় জনগণের কাছে সঠিক ও যাচাই করা তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এ ধরনের অপতথ্য মোকাবিলায় কার্যকর অবকাঠামো তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির ২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরানুল ভূঞাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।