ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক: জীবন বাঁচানোর জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স মানুষের জন্য আশীর্বাদ। দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা হাসপাতাল থেকে গুরুতর রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন পথের যানবাহন ও পথচারীদের সতর্ক করে দ্রুত রাস্তা করে দেওয়ার বার্তা দেয়। তবে সেই জরুরি সাইরেনের শব্দ যখন অতিরিক্ত তীব্র ও দীর্ঘসময় ধরে বাজতে থাকে, তখন তা অনেকের জন্য আতঙ্ক ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সময় অনেক অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজাতে দেখা যায়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত তীব্র শব্দে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষ অস্বস্তিতে পড়তে পারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরবাসীর প্রশ্ন—জরুরি প্রয়োজনে সাইরেন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এর শব্দের মাত্রা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি কোনো নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ নেই?

আইনে কী বলা আছে?

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় মোটরযানের শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সরকারি গেজেটের মাধ্যমে মোটরযানের শব্দমাত্রার সীমা নির্ধারণ করতে পারে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ। তবে একই ধারায় অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক যান, জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত যানসহ জরুরি দায়িত্বে ব্যবহৃত মোটরযানে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত শব্দমাত্রার হর্ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ জরুরি সেবার প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ব্যবহার করার বৈধতা থাকলেও সেটি যেন অনুমোদিত সীমা ও প্রয়োজনের মধ্যে থাকে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

নগরবাসীর অভিযোগ, কখনো কখনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী না থাকা অবস্থাতেও দীর্ঘসময় সাইরেন বাজানো হয়। চালকদের কেউ কেউ জানান, তারা রোগী আনতে যাচ্ছেন। তবে রোগী বহন করা এবং রোগী আনার উদ্দেশ্যে খালি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রে কখন, কতক্ষণ এবং কী মাত্রায় সাইরেন ব্যবহার করা যাবে—এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা রোগী নিজেই যখন তীব্র সাইরেনের শব্দের মধ্যে থাকেন, তখন সেই শব্দ তাঁর জন্য কতটা সহনীয় এবং কোন মাত্রার শব্দ নিরাপদ—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ, শিশু, বয়স্ক কিংবা শব্দে সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।

নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার দাবি

অ্যাম্বুলেন্স একটি জরুরি সেবামূলক যান। তাই সাইরেন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রশ্ন নয়; বরং জরুরি পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত ব্যবহার—দুটির মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি।

নগরবাসীর দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দমাত্রা, ব্যবহারের পরিস্থিতি ও সময়সীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে অনুমোদিত শব্দমাত্রার বাইরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

জরুরি সেবার সংকেত হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন মানুষের পথ করে দেওয়ার বার্তা দেবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সাইরেন যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে এবং রোগীর জন্যও অপ্রয়োজনীয় শব্দদূষণের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক: জীবন বাঁচানোর জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স মানুষের জন্য আশীর্বাদ। দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা হাসপাতাল থেকে গুরুতর রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন পথের যানবাহন ও পথচারীদের সতর্ক করে দ্রুত রাস্তা করে দেওয়ার বার্তা দেয়। তবে সেই জরুরি সাইরেনের শব্দ যখন অতিরিক্ত তীব্র ও দীর্ঘসময় ধরে বাজতে থাকে, তখন তা অনেকের জন্য আতঙ্ক ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সময় অনেক অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজাতে দেখা যায়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত তীব্র শব্দে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষ অস্বস্তিতে পড়তে পারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরবাসীর প্রশ্ন—জরুরি প্রয়োজনে সাইরেন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এর শব্দের মাত্রা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি কোনো নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ নেই?

আইনে কী বলা আছে?

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় মোটরযানের শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে। সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সরকারি গেজেটের মাধ্যমে মোটরযানের শব্দমাত্রার সীমা নির্ধারণ করতে পারে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ। তবে একই ধারায় অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক যান, জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত যানসহ জরুরি দায়িত্বে ব্যবহৃত মোটরযানে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত শব্দমাত্রার হর্ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ জরুরি সেবার প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ব্যবহার করার বৈধতা থাকলেও সেটি যেন অনুমোদিত সীমা ও প্রয়োজনের মধ্যে থাকে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

নগরবাসীর অভিযোগ, কখনো কখনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী না থাকা অবস্থাতেও দীর্ঘসময় সাইরেন বাজানো হয়। চালকদের কেউ কেউ জানান, তারা রোগী আনতে যাচ্ছেন। তবে রোগী বহন করা এবং রোগী আনার উদ্দেশ্যে খালি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রে কখন, কতক্ষণ এবং কী মাত্রায় সাইরেন ব্যবহার করা যাবে—এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা রোগী নিজেই যখন তীব্র সাইরেনের শব্দের মধ্যে থাকেন, তখন সেই শব্দ তাঁর জন্য কতটা সহনীয় এবং কোন মাত্রার শব্দ নিরাপদ—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ, শিশু, বয়স্ক কিংবা শব্দে সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।

নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার দাবি

অ্যাম্বুলেন্স একটি জরুরি সেবামূলক যান। তাই সাইরেন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রশ্ন নয়; বরং জরুরি পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত ব্যবহার—দুটির মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি।

নগরবাসীর দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দমাত্রা, ব্যবহারের পরিস্থিতি ও সময়সীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে অনুমোদিত শব্দমাত্রার বাইরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

জরুরি সেবার সংকেত হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন মানুষের পথ করে দেওয়ার বার্তা দেবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সাইরেন যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে এবং রোগীর জন্যও অপ্রয়োজনীয় শব্দদূষণের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।