নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরের দেওয়ানবাজার সি অ্যান্ড বি কলোনি। সরকারি আবাসিক এলাকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এখানে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, কলোনিটির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে—এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কার্যকর কোন তদারকি ব্যবস্থা নেই। যে যার মতো করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সরকারি আবাসিক এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার ভেতরে গড়ে উঠেছে গরুর ফার্ম, বিভিন্ন স্থানে বখাটে যুবকদের আড্ডা, পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ পাওয়া বাসা অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া ও সাবলেট দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, অবৈধ পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে যথাযথ নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
সরকারি আবাসিক ভবনগুলো সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজে বসবাস না করে অন্যের কাছে বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিতে পারেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একইভাবে সরকারি আবাসিক এলাকায় গবাদিপশুর খামার পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না, থাকলে কী শর্তে রয়েছে—সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, অনুমোদন ছাড়া পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ সব সংযোগ কীভাবে নেওয়া হলো, সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

কলোনির বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি সরকারি আবাসিক এলাকায় বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন থাকার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, নিরাপত্তাহীনতা এবং পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত বা বিভিন্ন ধরনের অননুমোদিত কার্যক্রম চললে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ অবস্থায় দেওয়ানবাজার সি অ্যান্ড বি কলোনির বরাদ্দকৃত বাসাগুলোর বর্তমান ব্যবহার, ভাড়া ও সাবলেটের অভিযোগ, গবাদিপশুর খামার পরিচালনা, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং কলোনির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দাদের প্রশ্ন—সরকারি আবাসিক কলোনিতে যদি নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি থাকে, তাহলে দিনের পর দিন এসব অভিযোগ কীভাবে চলতে পারে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা কলোনির বাসিন্দাদের।




