নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশাল ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর চরম সাংগঠনিক অদক্ষতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি সামনে এসেছে। গুলশান-বনানী এলাকার বিরোধী বলয় হিসেবে বিবেচিত নেতাদের এমন নীরবতা ও অনৈক্যের কারণে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বনানী থানা বিএনপিতে একতা ও সমন্বয়হীনতা চরমে পৌঁছেছে। বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা একাধিক ধাপে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও রয়েছে এই বিভক্তি। কর্মসূচির ডাক এলে কর্মীরা কোন নেতার বলয়ে থাকবেন, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আওয়ামী কর্মীরা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বিএনপির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা এখন হুমকিতে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা আত্মগোপনে বা জেলে থাকলেও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগে তারা মূল দলে ভিড়ে গেলেও মূলত আওয়ামী লীগের গোপন তথ্য সরবরাহকারী বা ‘গুপ্তচর’ হিসেবে কাজ করছেন বলে অনেকের আশঙ্কা। গুলশানের সুরক্ষিত এলাকায় ঝটিকা মিছিলের পেছনে এমন সুনির্দিষ্ট সমন্বয়হীনতা ও সুবিধাবাদী রাজনীতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুলশানের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বনানী থানা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা সমন্বিত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন খান। তিনি বলেন, “বনানী থানা বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাকও দেখতে পেলাম না। বর্তমান নেতৃত্বের এই দুর্বলতা দলের জন্য লজ্জাজনক।”

অনুরূপ সুর পাওয়া গেছে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায়। তিনি জানান, “ছাত্রদলকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার কারণেই সংগঠন আজ দুর্বল হচ্ছে। আমরা যখন সক্রিয় ছিলাম, তখন ছোটখাটো পদক্ষেপের আগেই প্রশাসন অবগত থাকত। এখন সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিছুদিন আগে চিহ্নিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হলে বিএনপিরই এক প্রভাবশালী নেতার ফোন পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।”

স্থানীয় রাজনীতির আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুবিধাবাদী আওয়ামী নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং ফুটপাত-বস্তি কেন্দ্রিক অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। বনানী থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন নেতাকর্মীরা। তাঁর আধিপত্যের কারণে অনেক সিনিয়র ও ক্লিন ইমেজের নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় আওয়ামী কর্মীদের একটি বড় অংশ আজাদের ছায়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঝটিকা মিছিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আবুল কালাম আজাদ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, “দলের দুর্দিনে কর্মীদের কোনো সময় না দিয়ে বহিষ্কার করা হচ্ছে। আজ প্রশাসন কী করল? প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকায় কীভাবে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করার সুযোগ পায়?”

এদিকে বেলতলা বস্তি এলাকা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে অনৈতিক সুবিধার আদান-প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জোনায়েদ মনিরের ভাই ‘খররুম’ বর্তমানে বস্তির ময়লা ব্যবস্থাপনা ও বাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর পেছনে স্থানীয় কয়েকজন যুবদল ও বিএনপি নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিস রহমান আনিসের মাধ্যমেও বিতর্কিত আওয়ামী স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে বস্তির কয়েকটি পয়েন্টে অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল বিএনপির একটি অংশ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বনানী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ হবির ক্লিন ইমেজ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক বলয়ের কারণে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথা ব্যক্ত করেছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিএনপির রাজনীতি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বনানী ও গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ঐতিহ্যবাহী এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশাল ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর চরম সাংগঠনিক অদক্ষতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি সামনে এসেছে। গুলশান-বনানী এলাকার বিরোধী বলয় হিসেবে বিবেচিত নেতাদের এমন নীরবতা ও অনৈক্যের কারণে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বনানী থানা বিএনপিতে একতা ও সমন্বয়হীনতা চরমে পৌঁছেছে। বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা একাধিক ধাপে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও রয়েছে এই বিভক্তি। কর্মসূচির ডাক এলে কর্মীরা কোন নেতার বলয়ে থাকবেন, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আওয়ামী কর্মীরা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বিএনপির নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা এখন হুমকিতে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা আত্মগোপনে বা জেলে থাকলেও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগে তারা মূল দলে ভিড়ে গেলেও মূলত আওয়ামী লীগের গোপন তথ্য সরবরাহকারী বা ‘গুপ্তচর’ হিসেবে কাজ করছেন বলে অনেকের আশঙ্কা। গুলশানের সুরক্ষিত এলাকায় ঝটিকা মিছিলের পেছনে এমন সুনির্দিষ্ট সমন্বয়হীনতা ও সুবিধাবাদী রাজনীতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুলশানের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বনানী থানা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা সমন্বিত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন খান। তিনি বলেন, “বনানী থানা বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাকও দেখতে পেলাম না। বর্তমান নেতৃত্বের এই দুর্বলতা দলের জন্য লজ্জাজনক।”

অনুরূপ সুর পাওয়া গেছে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায়। তিনি জানান, “ছাত্রদলকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার কারণেই সংগঠন আজ দুর্বল হচ্ছে। আমরা যখন সক্রিয় ছিলাম, তখন ছোটখাটো পদক্ষেপের আগেই প্রশাসন অবগত থাকত। এখন সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিছুদিন আগে চিহ্নিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হলে বিএনপিরই এক প্রভাবশালী নেতার ফোন পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়।”

স্থানীয় রাজনীতির আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুবিধাবাদী আওয়ামী নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং ফুটপাত-বস্তি কেন্দ্রিক অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। বনানী থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন নেতাকর্মীরা। তাঁর আধিপত্যের কারণে অনেক সিনিয়র ও ক্লিন ইমেজের নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় আওয়ামী কর্মীদের একটি বড় অংশ আজাদের ছায়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঝটিকা মিছিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আবুল কালাম আজাদ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, “দলের দুর্দিনে কর্মীদের কোনো সময় না দিয়ে বহিষ্কার করা হচ্ছে। আজ প্রশাসন কী করল? প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকায় কীভাবে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করার সুযোগ পায়?”

এদিকে বেলতলা বস্তি এলাকা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে অনৈতিক সুবিধার আদান-প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জোনায়েদ মনিরের ভাই ‘খররুম’ বর্তমানে বস্তির ময়লা ব্যবস্থাপনা ও বাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর পেছনে স্থানীয় কয়েকজন যুবদল ও বিএনপি নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিস রহমান আনিসের মাধ্যমেও বিতর্কিত আওয়ামী স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে বস্তির কয়েকটি পয়েন্টে অনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল বিএনপির একটি অংশ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বনানী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ হবির ক্লিন ইমেজ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক বলয়ের কারণে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথা ব্যক্ত করেছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিএনপির রাজনীতি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বনানী ও গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ঐতিহ্যবাহী এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।