ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক:চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে দেখা যাচ্ছে একাধিক আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ড। অনেক প্রতিষ্ঠানে একটি নয়, তিন থেকে চারটি পর্যন্ত বড় আকারের সাইনবোর্ডে দিন-রাত জ্বলছে বিভিন্ন ধরনের বাতি। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নগরীর সৌন্দর্য ও সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অপচয় রোধে বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায় থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ ও নির্দেশনার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা নজরদারি রয়েছে—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
নগরীর ব্যস্ত সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক বাতি জ্বলছে। কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের সামনে পাশাপাশি একাধিক আলোকসজ্জিত বোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সাইনবোর্ডের বিদ্যুৎ ব্যবহার কতটুকু এবং এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা বা সময়সীমা থাকলে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের সচেতন করা হলেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত আলোকসজ্জার বিষয়ে নিয়মিত তদারকি চোখে পড়ে না। ফলে বিদ্যুৎ সংকট বা জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার সময়ে এ ধরনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার কতটা যৌক্তিক—সেটিও আলোচনায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু বাসাবাড়ির গ্রাহকদের দায়িত্ব নয়; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমানো গেলে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর পাশাপাশি নগরীর আলোকদূষণও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ অবস্থায় নগরীর দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ড ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সরকারি নীতিমালা, অনুমোদন বা নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে কি না, থাকলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।
একই সঙ্গে নিয়ম থাকলে তা বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি এবং অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




