দি ক্রাইম ডেস্ক: দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে বন্দির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৭৬টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেখানে বন্দি ছিলেন এক লাখ চার হাজার ৬১৭ জন। অর্থাৎ কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বন্দি রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি চাপ রয়েছে শেরপুর জেলা কারাগারে। ১০০ জনের ধারণক্ষমতার এই কারাগারে গত ১৫সেপ্টেম্বর বন্দি ছিলেন ৭৪৬ জন। অর্থাৎ সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে সাত গুণ বন্দি রাখা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় অংশকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় বন্দির সংখ্যাও বেড়েছে। আগে মোট বন্দির ২০ থেকে ২২ শতাংশ মাদক মামলার আসামি থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে কারাগারগুলোতে বন্দির চাপ বেড়েছে।

কারা অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে সর্বোচ্চ ৮৩ হাজার ৭১৯ জন বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বন্দির সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৯৫৮। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৮৬ হাজার ৩০৬, ২০২২ সালের অক্টোবরে ৮৭ হাজার ১৭৩ এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৮৯ হাজার ৯১৪ জন বন্দি ছিলেন। চলতি সেপ্টেম্বরের সংখ্যা এসব বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতা চলতি বছরেও রয়েছে।

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির ঘটনায় গুলি চালানোর পর গত ০১ মার্চ ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। রাজধানীর মোহাম্মদপুরেও বিভিন্ন অপরাধের পর বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’, সুন্দরবনে দু’টি বিশেষ অভিযান, পদ্মার চরাঞ্চলে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ এবং বছরের শেষ দিকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ১লা মে সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এ অভিযানে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর কারণে বন্দির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শেরপুরে ধারণক্ষমতার সাড়ে সাত গুণ বন্দির চাপ সবচেয়ে বেশি কয়েকটি জেলা কারাগারে। শেরপুর জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ১০০ জন। সেখানে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর বন্দি ছিলেন ৭৪৬ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত গুণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে ১৫৩ জনের জায়গায় বন্দি ছিলেন ৯৩৬ জন। ভোলা জেলা কারাগারে ১০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ৬৬৮ জন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ৫৪০ জনের জায়গায় বন্দি ছিলেন ৩ হাজার ২২২ জন।

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩০৪ জন। সেখানে বন্দি ছিলেন ১ হাজার ৫৬০ জন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও চাঁদপুর জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় পাঁচ গুণ বন্দি রয়েছেন।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দির চাপ উল্লেখযোগ্য। ৪ হাজার ৫৯০ জনের ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বন্দি ছিলেন ১৩ হাজার ৯৮৭ জন—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ। তিন থেকে চার গুণ বন্দি অন্তত ২০ কারাগারে

দেশের অন্তত ২০টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর-৩ মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০ জনের জায়গায় বন্দি ৮০০ জন। গাজীপুর জেলা কারাগারে ৩০৭ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ১ হাজার ৩৯০ জন। নাটোর জেলা কারাগারে ২০০ জনের জায়গায় বন্দি রয়েছেন ৯৬৯ জন। বরগুনা, নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ ও বান্দরবান জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি রয়েছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ৫৪৮ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ১ হাজার ৯৬২ জন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার বন্দির জায়গায় রাখা হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ জনকে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, নরসিংদী, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ বন্দি রয়েছেন।

কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে ২২ কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। আরও ২২টি কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বা তার বেশি বন্দি রয়েছেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ২ হাজার জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ৪ হাজার ৭২৪ জন। এ ছাড়া ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ-১, বরিশাল কেন্দ্রীয়, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয়, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মাদারীপুর-১, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী-২, লক্ষ্মীপুর ও কুষ্টিয়া জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রয়েছেন।

দেশের সব কারাগারে অবশ্য একই ধরনের চাপ নেই। কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিচারপতিসহ বিশেষ বন্দি রয়েছেন ২৩০ জন। কারাগারটির ধারণক্ষমতা ২৭০ জন। এ ছাড়া যশোর জেলা কারাগার, খুলনা জেলা কারাগার-১ ও ২, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম বন্দি রয়েছেন। সেনা সাব জেলে বন্দি আছেন ১৭ জন।

কারাগারে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় অপরাধীদের বেশি গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় বন্দির সংখ্যাও বেড়েছে। এসব কারণে কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ছে। তার দাবি, বন্দিদের থাকার জায়গার সংকট ছাড়া অন্য কোনো বড় অসুবিধা হচ্ছে না।

তবে কারাগারের মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা আড়াই গুণে পৌঁছানো এবং একাধিক কারাগারে পাঁচ থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বন্দি থাকার তথ্য কারাগার ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপের চিত্রই তুলে ধরছে। সুত্রঃ বিডিডাইজেস্ট

দি ক্রাইম ডেস্ক: দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে বন্দির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৭৬টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর সেখানে বন্দি ছিলেন এক লাখ চার হাজার ৬১৭ জন। অর্থাৎ কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বন্দি রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি চাপ রয়েছে শেরপুর জেলা কারাগারে। ১০০ জনের ধারণক্ষমতার এই কারাগারে গত ১৫সেপ্টেম্বর বন্দি ছিলেন ৭৪৬ জন। অর্থাৎ সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে সাত গুণ বন্দি রাখা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় অংশকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় বন্দির সংখ্যাও বেড়েছে। আগে মোট বন্দির ২০ থেকে ২২ শতাংশ মাদক মামলার আসামি থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে কারাগারগুলোতে বন্দির চাপ বেড়েছে।

কারা অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে সর্বোচ্চ ৮৩ হাজার ৭১৯ জন বন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বন্দির সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৯৫৮। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৮৬ হাজার ৩০৬, ২০২২ সালের অক্টোবরে ৮৭ হাজার ১৭৩ এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৮৯ হাজার ৯১৪ জন বন্দি ছিলেন। চলতি সেপ্টেম্বরের সংখ্যা এসব বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, গুমসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতা চলতি বছরেও রয়েছে।

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির ঘটনায় গুলি চালানোর পর গত ০১ মার্চ ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। রাজধানীর মোহাম্মদপুরেও বিভিন্ন অপরাধের পর বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’, সুন্দরবনে দু’টি বিশেষ অভিযান, পদ্মার চরাঞ্চলে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ এবং বছরের শেষ দিকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ১লা মে সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এ অভিযানে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর কারণে বন্দির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শেরপুরে ধারণক্ষমতার সাড়ে সাত গুণ বন্দির চাপ সবচেয়ে বেশি কয়েকটি জেলা কারাগারে। শেরপুর জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র ১০০ জন। সেখানে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর বন্দি ছিলেন ৭৪৬ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত গুণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে ১৫৩ জনের জায়গায় বন্দি ছিলেন ৯৩৬ জন। ভোলা জেলা কারাগারে ১০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ৬৬৮ জন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ৫৪০ জনের জায়গায় বন্দি ছিলেন ৩ হাজার ২২২ জন।

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩০৪ জন। সেখানে বন্দি ছিলেন ১ হাজার ৫৬০ জন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও চাঁদপুর জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় পাঁচ গুণ বন্দি রয়েছেন।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দির চাপ উল্লেখযোগ্য। ৪ হাজার ৫৯০ জনের ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বন্দি ছিলেন ১৩ হাজার ৯৮৭ জন—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ। তিন থেকে চার গুণ বন্দি অন্তত ২০ কারাগারে

দেশের অন্তত ২০টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর-৩ মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০০ জনের জায়গায় বন্দি ৮০০ জন। গাজীপুর জেলা কারাগারে ৩০৭ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ১ হাজার ৩৯০ জন। নাটোর জেলা কারাগারে ২০০ জনের জায়গায় বন্দি রয়েছেন ৯৬৯ জন। বরগুনা, নেত্রকোনা, মুন্সীগঞ্জ ও বান্দরবান জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি রয়েছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ৫৪৮ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ১ হাজার ৯৬২ জন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার বন্দির জায়গায় রাখা হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ জনকে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, নরসিংদী, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ বন্দি রয়েছেন।

কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে ২২ কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। আরও ২২টি কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বা তার বেশি বন্দি রয়েছেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ২ হাজার জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ৪ হাজার ৭২৪ জন। এ ছাড়া ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ-১, বরিশাল কেন্দ্রীয়, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয়, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মাদারীপুর-১, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী-২, লক্ষ্মীপুর ও কুষ্টিয়া জেলা কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রয়েছেন।

দেশের সব কারাগারে অবশ্য একই ধরনের চাপ নেই। কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিচারপতিসহ বিশেষ বন্দি রয়েছেন ২৩০ জন। কারাগারটির ধারণক্ষমতা ২৭০ জন। এ ছাড়া যশোর জেলা কারাগার, খুলনা জেলা কারাগার-১ ও ২, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম বন্দি রয়েছেন। সেনা সাব জেলে বন্দি আছেন ১৭ জন।

কারাগারে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় অপরাধীদের বেশি গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় বন্দির সংখ্যাও বেড়েছে। এসব কারণে কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ছে। তার দাবি, বন্দিদের থাকার জায়গার সংকট ছাড়া অন্য কোনো বড় অসুবিধা হচ্ছে না।

তবে কারাগারের মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা আড়াই গুণে পৌঁছানো এবং একাধিক কারাগারে পাঁচ থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বন্দি থাকার তথ্য কারাগার ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপের চিত্রই তুলে ধরছে। সুত্রঃ বিডিডাইজেস্ট