নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কান্দিরপাড়া-কালিন্দাপাড়া এলাকায় কথিত গুলিবর্ষণ, হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি লায়ন শাকিল বর্তমানে কান্দিরপাড়ায় তাঁর চাচার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, লায়ন শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৯টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন। তবে এতগুলো মামলার একজন আসামি প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা নম্বর-৩০, জিআর-১৭০ হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালিন্দাপাড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের টি.এন. রোড থেকে কালিন্দাপাড়া মাদ্রাসা রোডে জামিয়া উসমানিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের সড়কে হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৪/৩৪২/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১৪৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অস্ত্র ব্যবহার হলেও উদ্ধার হয়নি সেই শর্টগান
মামলার অভিযোগে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় একটি শর্টগান ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই অস্ত্রের মাধ্যমে গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার হয়নি বলে অভিযোগ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একটি অস্ত্র মামলায় লায়ন শাকিল জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রটিও এখন পর্যন্ত প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রশ্ন উঠেছে, অস্ত্রটি যদি সত্যিই ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোথায়? কার কাছে রয়েছে? তদন্তকারী সংস্থা কি অস্ত্রটির অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছে? দীর্ঘ সময়েও কেন অস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি?

ভুক্তভোগীদের হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গুলির ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁদের প্রাণনাশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, লায়ন শাকিল বিভিন্ন সময় তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় শোডাউন করছেন। কখনো কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়েও তাঁর কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাঁদের প্রশ্ন, কোনো আসামি মামলায় পলাতক থাকলে বা তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলে তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান ও চলাফেরা করছেন কীভাবে?
প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
মামলার অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দাবি, আহত ব্যক্তিদের নিরাপত্তাহীনতা এবং আসামিদের প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগ, সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসন যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে লায়ন শাকিলসহ মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে অভিযোগে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে লায়ন শাকিলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও মামলার সংখ্যা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত বিষয় নয়। তাঁর বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য, ভুক্তভোগী এবং অভিযোগে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতাকারী হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্বে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন, মামলার আসামি যদি সত্যিই আইনের আওতায় গ্রেপ্তারযোগ্য হন, তাহলে তিনি প্রকাশ্যে কীভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আর গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রই বা এখনো উদ্ধার হলো না কেন?




