*মোটরসাইকেলর গতিরোধ করে যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জাহেদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ভাঙারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহেদুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালীনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ সর্বহারা নুরুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

এ ছাড়াও নিহত জাহেদুল এর মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা মোহাম্মদ ওয়াহিদ (২৮) আহত হয়েছেন। তিনি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুরুল আবছারের ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে গেছেন।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের সামনে থেকে ২টি আকাশমণি গাছ চুরির ঘটনা ঘটে। পরে গাছগুলো বাজালিয়া ইউনিয়নের শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নিলামের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর কয়েকদিন পর রাতের আঁধারে ওই গাছগুলো কাটার মুহুর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিহত জাহেদকে দেখা না গেলেও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন মানিক গাছ চুরির সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেন৷

আরও জানা গেছে, রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নতুনহাটে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমের নেতৃত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সময় রাত ৮টার দিকে জাহেদ নতুনহাটে গেলে মানিককে দেখতে পেয়ে গাছ চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল, এমন মিথ্যা অভিযোগে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর মানিকসহ সেখানে থাকা অন্যান্যরা জাহেদকে ধাওয়া দিলে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়ার দিকে পালিয়ে যান। একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ ও তার বন্ধু মোহাম্মদ ওয়াহিদ বাজালিয়া থেকে

মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ পুরানগড় ভাঙ্গারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মানিক ও পুরানগড় ইউনিয়ন যুবদলের সংগঠক মোহাম্মদ রিদোয়ান ইসলাম দলবল নিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র  দিয়ে জাহেদকে কুপিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। একই সময় নতুনহাট থেকে প্রায় ২ থেকে ৩টি সিএনজিচালতি অটোরিকশা লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা জাহেদকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিড়িংঘাটা গ্রামে স্থানীয় রাজনীতি ও জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চন্দনাইশ উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খোকাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মিষ্টি জসিমের শ্যালক। আর ওই মামলায় নিহত জাহেদুল ইসলাম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হারুনর রশীদ বলেন, ঘটনার শুরুতে আমি মনে করেছিলাম দুর্ঘটনা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি জাহেদ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। অপর পাশে তার মোটরসাইকেলটিও পড়ে ছিল। তার মাথার আঘাতের চিহ্ন দেখে কেউ তার কাছেই যাচ্ছিলেন না। পরে আমরা সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে একটি অটোরিকশায় তুলে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম।

নিহতের মামা শাহেদ আলী বলেন, মিষ্টি জসিম, রিদোয়ান, মানিক, মিষ্টি টিপু, হাবীব, রাজা মিয়া ও তার ছেলেসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ আমার ভাগিনাকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। এরপর দীর্ঘক্ষণ তার রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়ে ছিল। আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শীগ্রই মামলা দায়ের করব।

এদিকে নিহত জাহেদুল ইসলামের মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আহত মোহাম্মদ ওয়াহিদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের নিকট ঘটনার সময় মানিক, রিদোয়ান, হাবীব ও মিষ্টি টিপুকে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জাহেদ হঠাৎ করে নতুনহাটে এসে অহেতুক মানিককে মারধর করে দ্রুত সটকে পড়েন। একই সময় আমরা বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রস্তুতি সভা করছিলাম। পরে আমি বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব চুরির বিষয়ে এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও ওসির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ছিলাম। পরে জাহেদের বিষয়টি আমি বাড়িতে যাওয়ার পর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠে না। এ অভিযোগ সত্য নয়।

অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গেলেও তারা সটকে পড়ায় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

তবে এ বিষয়ে উত্তর সাতকানিয়ার সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী রাজিব ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, অপরাধীর কোন দলীয় পরিচয় নাই। সে যেই হোক না কেন আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে,  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত জাহেদুল ইসলাম এর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী ও দুই ছেলে আগেই মারা গেছে। পুরো সংসার চালানোর ভার ছিল আমার জাহেদের কাঁধের উপর। এখন আমার চার মেয়ে, ছেলের বউ ও পাঁচ ও দেড় বছর বয়সী দুই নাতি-নাতনী রয়েছে। আমার ছেলেকে বিনা দোষে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার ছেলে দোষ করলে তো আইন আছে, বিচার আছে ও শাস্তি আছে। অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমার পুরো পরিবারের ভরণ পোষণ কে চালাবে ? সরকারের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই।

জাহেদুলের স্ত্রী নুসরাত জাহান হিরা বলেন, আমার দুই সন্তানের বাবাকে যারা হত্যা করেছে এবং আমাকে যারা বিধবা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের স্বজন ও আহত ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। পরে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। থানায় এখনো মামলা হয়নি।

*মোটরসাইকেলর গতিরোধ করে যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জাহেদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের ভাঙারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহেদুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কালীনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ সর্বহারা নুরুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

এ ছাড়াও নিহত জাহেদুল এর মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা মোহাম্মদ ওয়াহিদ (২৮) আহত হয়েছেন। তিনি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুরুল আবছারের ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে গেছেন।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের সামনে থেকে ২টি আকাশমণি গাছ চুরির ঘটনা ঘটে। পরে গাছগুলো বাজালিয়া ইউনিয়নের শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে নিলামের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর কয়েকদিন পর রাতের আঁধারে ওই গাছগুলো কাটার মুহুর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিহত জাহেদকে দেখা না গেলেও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন মানিক গাছ চুরির সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেন৷

আরও জানা গেছে, রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নতুনহাটে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমের নেতৃত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সময় রাত ৮টার দিকে জাহেদ নতুনহাটে গেলে মানিককে দেখতে পেয়ে গাছ চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল, এমন মিথ্যা অভিযোগে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর মানিকসহ সেখানে থাকা অন্যান্যরা জাহেদকে ধাওয়া দিলে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়ার দিকে পালিয়ে যান। একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ ও তার বন্ধু মোহাম্মদ ওয়াহিদ বাজালিয়া থেকে

মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ পুরানগড় ভাঙ্গারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মানিক ও পুরানগড় ইউনিয়ন যুবদলের সংগঠক মোহাম্মদ রিদোয়ান ইসলাম দলবল নিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র  দিয়ে জাহেদকে কুপিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। একই সময় নতুনহাট থেকে প্রায় ২ থেকে ৩টি সিএনজিচালতি অটোরিকশা লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা জাহেদকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিড়িংঘাটা গ্রামে স্থানীয় রাজনীতি ও জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চন্দনাইশ উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খোকাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মিষ্টি জসিমের শ্যালক। আর ওই মামলায় নিহত জাহেদুল ইসলাম এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন।

পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হারুনর রশীদ বলেন, ঘটনার শুরুতে আমি মনে করেছিলাম দুর্ঘটনা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি জাহেদ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। অপর পাশে তার মোটরসাইকেলটিও পড়ে ছিল। তার মাথার আঘাতের চিহ্ন দেখে কেউ তার কাছেই যাচ্ছিলেন না। পরে আমরা সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে একটি অটোরিকশায় তুলে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম।

নিহতের মামা শাহেদ আলী বলেন, মিষ্টি জসিম, রিদোয়ান, মানিক, মিষ্টি টিপু, হাবীব, রাজা মিয়া ও তার ছেলেসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ আমার ভাগিনাকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। এরপর দীর্ঘক্ষণ তার রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়ে ছিল। আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শীগ্রই মামলা দায়ের করব।

এদিকে নিহত জাহেদুল ইসলামের মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আহত মোহাম্মদ ওয়াহিদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের নিকট ঘটনার সময় মানিক, রিদোয়ান, হাবীব ও মিষ্টি টিপুকে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জাহেদ হঠাৎ করে নতুনহাটে এসে অহেতুক মানিককে মারধর করে দ্রুত সটকে পড়েন। একই সময় আমরা বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রস্তুতি সভা করছিলাম। পরে আমি বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব চুরির বিষয়ে এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও ওসির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ছিলাম। পরে জাহেদের বিষয়টি আমি বাড়িতে যাওয়ার পর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠে না। এ অভিযোগ সত্য নয়।

অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গেলেও তারা সটকে পড়ায় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

তবে এ বিষয়ে উত্তর সাতকানিয়ার সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী রাজিব ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, অপরাধীর কোন দলীয় পরিচয় নাই। সে যেই হোক না কেন আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে,  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত জাহেদুল ইসলাম এর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী ও দুই ছেলে আগেই মারা গেছে। পুরো সংসার চালানোর ভার ছিল আমার জাহেদের কাঁধের উপর। এখন আমার চার মেয়ে, ছেলের বউ ও পাঁচ ও দেড় বছর বয়সী দুই নাতি-নাতনী রয়েছে। আমার ছেলেকে বিনা দোষে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার ছেলে দোষ করলে তো আইন আছে, বিচার আছে ও শাস্তি আছে। অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমার পুরো পরিবারের ভরণ পোষণ কে চালাবে ? সরকারের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই।

জাহেদুলের স্ত্রী নুসরাত জাহান হিরা বলেন, আমার দুই সন্তানের বাবাকে যারা হত্যা করেছে এবং আমাকে যারা বিধবা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের স্বজন ও আহত ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। পরে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। থানায় এখনো মামলা হয়নি।