নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বাজেটে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে দক্ষতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে। চুয়েটসহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
আজ মঙ্গলবার(০১ সেপ্টম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা ও গবেষণায় সরকারের বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী এসময় চুয়েটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত বেঞ্চমার্কিং এবং নিজেদের গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে পিয়ার রিভিউ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, সেই কাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কতটা ভালো হচ্ছে সেটিও যাচাই করতে হবে। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, গবেষণা ও উদ্ভাবন কীভাবে হচ্ছে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কেমন এসব বিষয়ে চুয়েটকে নিয়মিত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, গবেষণাগার, গবেষক ও প্রকাশনার মধ্যে কার্যকর সংযোগ থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন বাস্তব অর্থে দৃশ্যমান হয় এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী ও স্মার্ট। তবে তাদের জন্য উন্নত গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা, দক্ষ শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক্সপোজারের সুযোগ আরো বাড়াতে হবে।
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এখানে ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং অবকাঠামোও তৈরি হয়েছে। এখন বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। ইনকিউবেটরটি বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা ও কার্যকর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর, ফ্রি জোন ও বিস্তৃত লজিস্টিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় চুয়েটকে তার প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশলগত সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকায় যে ধরনের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো করছে, চুয়েটকেও তার সক্ষমতা অনুযায়ী সেসব কাজে প্রতিযোগিতা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের সক্ষমতা ও বিশেষায়িত দক্ষতা সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করতে আগ্রহী। কারণ অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত অধিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। চুয়েটের যে বিশেষায়িত সক্ষমতা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার সহযোগিতা করবে।
এসময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবন ও গবেষণার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও গবেষণাকে বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মালয়েশিয়ার Universiti Teknologi PETRONAS (UTP)-এর পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ইর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওইনসার।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিকক্ষ, কর্মকর্তা, ছাত্র, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
Post Views: 10




