দি ক্রাইম প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)’র মূল কাজ হচ্ছে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো ও রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন এবং সুপরিকল্পিতভাবে আবাসন নির্মাণের অবকাঠামো তৈরী করে দেওয়া। এছাড়াও সরকারী রাজস্ব আহরণের জন্য আবাসিক,বানিজ্যিক ও কলখারখানা এবং হাইরাইজ ভবন নির্মাণের নকশা প্রদান করা। এ প্রতিষ্ঠান জম্ম হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম শহরে কতগুলো ভবন নির্মাণ হয়েছে তার কোন সঠিক হিসাব এ প্রতিষ্ঠানে নেই বললেই চলে।

রাজউক এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তা প্রশস্থকরনের জন্য সারেন্ডার ল্যান্ড(এস এল) এর জায়গা রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে ভুমির মালিক বা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চউক’র নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম বোর্ড সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪(১) ও ৫৪(২) অনুযায়ী ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মুখস্থ রাস্তার ন্যূনতম প্রস্থ ৬.০০ মিটার নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের সময় সারেন্ডার ল্যান্ড দেখানো হলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় দখল হয়ে যায়, ফলে রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। আবার এই ক্ষেত্রে সারেন্ডার ল্যান্ড পুনরায় দখলের ক্ষেত্রে চউক’র কিছু অসাধু ইমারত পরিদর্শক ও জডিত রয়েছে মর্মে জানা যায়।

রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিল প্রথা চালু হলে চউক এর অভ্যন্তরে এই অসাধু চক্রের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হবে মর্মে সচেতন মহল মনে করেন।

উল্লেখ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাজউক ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা আরো অনেকদিন পূর্বে চালু করেছে।

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে সারেন্ডার ল্যান্ড নিশ্চিত করার কার্যক্রম চউক এর আরো অনেক পূর্বে গ্রহণ উচিত ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চউক এর একাধিক প্রকৌশলী এ প্রতিবেদকে জানান, নকশা অনুমোদন এর এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট এর কারণে এই কার্যক্রম বারবার ব্যহত হয়েছে।

এ বিষয়ে চউক এর সদস্য প্রকৌশল ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান দি ক্রাইমকে বলেন, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন থেকে ইমারত নির্মাণ নকশা দাখিলকালে আবেদনকারীকে নিজ খরচে রাস্তার জন্য ছাড়কৃত জায়গা অর্থাৎ সারেন্ডার ল্যান্ড এর সমপরিমান জায়গা নিজ খরচে চউক বরাবর রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর দিবেন।

এ বিষয়ে সদস্য প্রকৌশল ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান দি ক্রাইকে বলেন,এ আইন বা বিধি গ্রহণ না করলে অত্র শাখার লাঘমহীন দুর্ণীতি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ করা যাবেনা। একই সাথে যে সকল প্রতিষ্ঠান এল ইউ সি ও নকশাানুমোদনে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে তাদেরকে ডাটাবেইজ অনুযায়ী আইনের আওতায় আনা যাবে।

সহকারী প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈশা আনচারী দি ক্রাইমকে বলেন, এই যুগপোযোগী আইন আরও বহু আগে করা উচিত ছিল। আমি এই প্রস্তাবনা আরো বহু আগে কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনে কার কথা। এই আইনের জন্য আমি সিডিএ’র একটি মহলের কাছে হাসির পাত্র হয়েছিলাম। আমাদের সদস্য প্রকৌশল মহোদয় যখন এই প্রস্তাব গ্রহন করেন তখন আমি তাঁকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছি।

সিডিএ’র স্থাপত্য প্রকৌশলী গোলাম রাব্বানী দি ক্রাইমকে বলেন,এই আইন অত্যন্ত বাস্তবমুখী। এটি দ্রত আইন হিসাবে রুপ দিলে সিডিএ আইনগতভাবে বিভিন্ন বিড়ম্বনা থেকে রেহায় পাবে।

একই বোর্ড সভায় আরেকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে গৃহিত হয়। লক্ষ্য করা যায় যে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র ও নির্মাণ নকশা অনুমোদনের আবেদন দাখিলকালে আবেদনে প্রায়শঃ দাখিলকৃত দলিল, খতিয়ান, দাগ, জমির পরিমাণ, রাস্তার প্রশস্থতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তথ্যের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। আবেদন দাখিলের পর এসব ভুল সংশোধন ও পুনরায় যাচাই করতে গিয়ে অনুমোদন কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয় এবং চউকের সীমিত জনবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

এছাড়াও ইমারত নকশা অনুমোদন পরবর্তীতে নির্মীয়মান ভবনের ব্যত্যয় যাচাইকালে মূল অনুমোদন নকশায় স্বাক্ষরকারী কারিগরী ব্যক্তি (স্থপতি/প্রকৌশলী)গণ তাদের স্ব-স্ব পেশাজীবি সংগঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয় বিধায় চউক এর মাধ্যমে এসব কারিগরী ব্যক্তিবর্গকে সরাসরি শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তাই এই সব পেশাজীবিদের দায়বদ্ধ করার লক্ষে ব্যক্তির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান চউক বরাবর নিবন্ধনের লক্ষে চউক বোর্ড সদস্য জাহিদুর রহমান কচিকে আহবায়ক করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রকৌশল এবং বর্তমান প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান সুদুর প্রসারী পরিকল্পনায় ভবনের ডাটাবেইজ তৈরীর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে স্থাপত্য প্রকৌশলী, নকশা প্রকৌশলী ও প্রকৃত সার্ভেয়ারদের চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করে তালিকাভুক্তির সনদ গ্রহণ করতে হবে।

সুত্রটি জানান, বর্তমানে স্থাপত্য প্রকৌশলীরা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে বসে নকশা প্রকৌশলীদের ডিজাইন করা নকশায় ইমারত বিধিমালার কোন তোয়াক্কা না করে নকশার তলাানুযায়ী ৩০/৪০/৫০ হাজার টাকা ফি নিয়ে দস্তখত করে মোটাংকের অর্থ উপার্জন করছে কিন্তু ভবনের কোন ক্ষতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেংঙ্গ চুরমার হয়ে গেলে এর দায়ভার তারা কস্মিনকালেও নেয়নি।

অন্যদিকে, ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদনের নথি জমা প্রদানের সময় প্রদর্শিত লেআউট নকশায় ইমরত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সার্ভেয়ার কর্তৃক তার পরিচিতিসহ দস্তখত করা আবশ্যক কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা না করে সিভিল ইন্জিঃনিয়ারের দস্তখত নিয়ে ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। যাহা বিধি সম্মত নহে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যদি এই আইন দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করে তাহলে ইমারত নির্মাণ কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্তকরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া ও কে বা কোন প্রতিষ্ঠান একাজে সহযোগিতা করেছে তাদের হদিশ বের করা সহজতর হবে এবং নকশা ও ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদনে আর্থিক দুর্ণীতির লাঘাম ঠেনে ধরতে পারবে।

ধারাবাহিক পর্ব-এক

(সোমবার প্রকাশিত হবে চউকের পারচেজ শাখাকে অচল করা নিয়ে) www.thecrimebd.net এ চোখ রাখুন

দি ক্রাইম প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)’র মূল কাজ হচ্ছে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো ও রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন এবং সুপরিকল্পিতভাবে আবাসন নির্মাণের অবকাঠামো তৈরী করে দেওয়া। এছাড়াও সরকারী রাজস্ব আহরণের জন্য আবাসিক,বানিজ্যিক ও কলখারখানা এবং হাইরাইজ ভবন নির্মাণের নকশা প্রদান করা। এ প্রতিষ্ঠান জম্ম হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম শহরে কতগুলো ভবন নির্মাণ হয়েছে তার কোন সঠিক হিসাব এ প্রতিষ্ঠানে নেই বললেই চলে।

রাজউক এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাস্তা প্রশস্থকরনের জন্য সারেন্ডার ল্যান্ড(এস এল) এর জায়গা রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে ভুমির মালিক বা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চউক’র নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম বোর্ড সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪(১) ও ৫৪(২) অনুযায়ী ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মুখস্থ রাস্তার ন্যূনতম প্রস্থ ৬.০০ মিটার নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের সময় সারেন্ডার ল্যান্ড দেখানো হলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় দখল হয়ে যায়, ফলে রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। আবার এই ক্ষেত্রে সারেন্ডার ল্যান্ড পুনরায় দখলের ক্ষেত্রে চউক’র কিছু অসাধু ইমারত পরিদর্শক ও জডিত রয়েছে মর্মে জানা যায়।

রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিল প্রথা চালু হলে চউক এর অভ্যন্তরে এই অসাধু চক্রের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হবে মর্মে সচেতন মহল মনে করেন।

উল্লেখ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাজউক ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা আরো অনেকদিন পূর্বে চালু করেছে।

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে সারেন্ডার ল্যান্ড নিশ্চিত করার কার্যক্রম চউক এর আরো অনেক পূর্বে গ্রহণ উচিত ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চউক এর একাধিক প্রকৌশলী এ প্রতিবেদকে জানান, নকশা অনুমোদন এর এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট এর কারণে এই কার্যক্রম বারবার ব্যহত হয়েছে।

এ বিষয়ে চউক এর সদস্য প্রকৌশল ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান দি ক্রাইমকে বলেন, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন থেকে ইমারত নির্মাণ নকশা দাখিলকালে আবেদনকারীকে নিজ খরচে রাস্তার জন্য ছাড়কৃত জায়গা অর্থাৎ সারেন্ডার ল্যান্ড এর সমপরিমান জায়গা নিজ খরচে চউক বরাবর রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর দিবেন।

এ বিষয়ে সদস্য প্রকৌশল ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান দি ক্রাইকে বলেন,এ আইন বা বিধি গ্রহণ না করলে অত্র শাখার লাঘমহীন দুর্ণীতি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ করা যাবেনা। একই সাথে যে সকল প্রতিষ্ঠান এল ইউ সি ও নকশাানুমোদনে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে তাদেরকে ডাটাবেইজ অনুযায়ী আইনের আওতায় আনা যাবে।

সহকারী প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈশা আনচারী দি ক্রাইমকে বলেন, এই যুগপোযোগী আইন আরও বহু আগে করা উচিত ছিল। আমি এই প্রস্তাবনা আরো বহু আগে কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলাম। কিন্তু শুনে কার কথা। এই আইনের জন্য আমি সিডিএ’র একটি মহলের কাছে হাসির পাত্র হয়েছিলাম। আমাদের সদস্য প্রকৌশল মহোদয় যখন এই প্রস্তাব গ্রহন করেন তখন আমি তাঁকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছি।

সিডিএ’র স্থাপত্য প্রকৌশলী গোলাম রাব্বানী দি ক্রাইমকে বলেন,এই আইন অত্যন্ত বাস্তবমুখী। এটি দ্রত আইন হিসাবে রুপ দিলে সিডিএ আইনগতভাবে বিভিন্ন বিড়ম্বনা থেকে রেহায় পাবে।

একই বোর্ড সভায় আরেকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে গৃহিত হয়। লক্ষ্য করা যায় যে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, বিশেষ প্রকল্প ছাড়পত্র ও নির্মাণ নকশা অনুমোদনের আবেদন দাখিলকালে আবেদনে প্রায়শঃ দাখিলকৃত দলিল, খতিয়ান, দাগ, জমির পরিমাণ, রাস্তার প্রশস্থতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তথ্যের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। আবেদন দাখিলের পর এসব ভুল সংশোধন ও পুনরায় যাচাই করতে গিয়ে অনুমোদন কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয় এবং চউকের সীমিত জনবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

এছাড়াও ইমারত নকশা অনুমোদন পরবর্তীতে নির্মীয়মান ভবনের ব্যত্যয় যাচাইকালে মূল অনুমোদন নকশায় স্বাক্ষরকারী কারিগরী ব্যক্তি (স্থপতি/প্রকৌশলী)গণ তাদের স্ব-স্ব পেশাজীবি সংগঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয় বিধায় চউক এর মাধ্যমে এসব কারিগরী ব্যক্তিবর্গকে সরাসরি শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তাই এই সব পেশাজীবিদের দায়বদ্ধ করার লক্ষে ব্যক্তির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান চউক বরাবর নিবন্ধনের লক্ষে চউক বোর্ড সদস্য জাহিদুর রহমান কচিকে আহবায়ক করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রকৌশল এবং বর্তমান প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রহমান সুদুর প্রসারী পরিকল্পনায় ভবনের ডাটাবেইজ তৈরীর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে স্থাপত্য প্রকৌশলী, নকশা প্রকৌশলী ও প্রকৃত সার্ভেয়ারদের চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করে তালিকাভুক্তির সনদ গ্রহণ করতে হবে।

সুত্রটি জানান, বর্তমানে স্থাপত্য প্রকৌশলীরা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে বসে নকশা প্রকৌশলীদের ডিজাইন করা নকশায় ইমারত বিধিমালার কোন তোয়াক্কা না করে নকশার তলাানুযায়ী ৩০/৪০/৫০ হাজার টাকা ফি নিয়ে দস্তখত করে মোটাংকের অর্থ উপার্জন করছে কিন্তু ভবনের কোন ক্ষতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেংঙ্গ চুরমার হয়ে গেলে এর দায়ভার তারা কস্মিনকালেও নেয়নি।

অন্যদিকে, ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদনের নথি জমা প্রদানের সময় প্রদর্শিত লেআউট নকশায় ইমরত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সার্ভেয়ার কর্তৃক তার পরিচিতিসহ দস্তখত করা আবশ্যক কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা না করে সিভিল ইন্জিঃনিয়ারের দস্তখত নিয়ে ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। যাহা বিধি সম্মত নহে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যদি এই আইন দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করে তাহলে ইমারত নির্মাণ কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্তকরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া ও কে বা কোন প্রতিষ্ঠান একাজে সহযোগিতা করেছে তাদের হদিশ বের করা সহজতর হবে এবং নকশা ও ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদনে আর্থিক দুর্ণীতির লাঘাম ঠেনে ধরতে পারবে।

ধারাবাহিক পর্ব-এক

(সোমবার প্রকাশিত হবে চউকের পারচেজ শাখাকে অচল করা নিয়ে) www.thecrimebd.net এ চোখ রাখুন