ক্রাইম প্রতিবেদক : ‘কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন’ নামক একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান পরিচালকদের গ্রেফতার ও আমানত ফেরত দেওয়ার দাবীতে একাধিকবার অফিস ঘেরাও, মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কোন সুরাহ পায়নি গ্রাহকরা। উল্টো গ্রাহকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানী করছেন।
জানা যায়, চকরিয়া শপিং সেন্টারে কর্ণফুলী কো-অপারেটিভ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকবৃন্দ গ্রাহকদের নানা লোভনীয় ব্যবসার নাম দিয়ে শতশত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার প্রবাসী পরিবার গুলোকে টার্গেট করে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকার জন্য কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনে আসলেও বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন। গ্রাহকের তিলে তিলে জমানো টাকা ফেরত পেতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। গ্রাহকরা সর্বশান্ত হয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক মামলাও করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের ও মাল্টি পারপাস কো অপারেটিভের চেয়ারম্যান শাহজাহান ফেরদৌস দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছে। হঠাৎ করে নিজেকে অপহরণ করে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর নাটক সাজিয়ে অপপ্রচার করছেন। নিজেকে বাঁচানোর জন্য চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে গ্রাহকদের হয়রানি করছেন জানান এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী নাজমা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের শমসের পাড়ার নিজ বাড়িতে ভুক্তভোগী কফিল উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা আক্তার জানান, চকরিয়া শপিং কমপ্লেক্সের দোতালায় অফিস ভাড়া নিয়ে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস নামে একটি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন কাকারা ইউনিয়নের শাহউমরাবাদ এলাকার বাসিন্দা গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মচারী শাহাজাহান ফেরদৌস। আমার স্বামী কফিল উদ্দিন ১২ বছর মালশিয়া প্রবাস থেকে দেশে ফিরে জমানো সাড়ে ২৪ লক্ষ টাকা জমা রাখে। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণীর নারী পুরুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন চলে যায়। গ্রাহকরা তাদের টাকা উদ্ধার দাবীতে মানববন্ধন সহ বিভিন্ন শান্তি পূর্ণ সমাবেশ করে। অনেকে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এসব বিষয়ে আমার স্বামী সহযোগিতা করায় গত বুধবার ফেজবুকে বক্তব্য দিয়ে শাহজাহান ফেরদৌসের স্ত্রী তসলিমা ফেরদৌস বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে। গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে উল্টো নিজেকে অপহরণের অভিযোগ তুলে মিথ্যা প্রপাগন্ডা ছড়াচ্ছে। আমি এসবের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগি পরিবার গুলো।




