দি ক্রাইম ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একই বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার একদিনের মাথায় সিলেট থেকে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেট হয়ে তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা চলছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তারা সিলেটের সেই বাস কাউন্টারে গোয়াইনঘাটগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। পুলিশ ধারণা করছে, তারা কোনো পাচারকারী চক্রের পাল্লায় পড়েছিল। চক্রটি তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের তিনজন সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এবং একজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে চারজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সারা দিনেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। বিদ্যালয় ও প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ওই দিন তারা সেখানে যায়নি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের অবস্থান সিলেটে শনাক্ত করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে সিলেট থেকে চারজনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “জিডি পাওয়ার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাদের সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কী কারণে তারা সেখানে গিয়েছিল, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে তারা সিলেটে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি মানব পাচারচক্র প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তারা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা হয়ে সিলেটে গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




