নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সারা দেশের মতো রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যালয়টিতে এখনও রয়ে গেছে সেই ধ্বংসযজ্ঞ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষতচিহ্ন। সংস্কারের অভাবে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম, তেমনই জননিরাপত্তা পড়েছে চরম হুমকির মুখে।
সরেজমিনে ডিএনসিসি ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ৫ আগস্টের পর দুর্বৃত্তদের চালানো তান্ডবের ছাপ এখনও স্পষ্ট। কার্যালয়ের জানালার কাচসহ ভেতরের অন্যান্য আসবাবপত্রের ভাঙা কাচ এখনও সেভাবেই পড়ে রয়েছে, যা আজ পর্যন্ত মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে নজরদারির জন্য থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা দুর্বৃত্তরা সম্পূর্ণ ভেঙে নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই সিসি ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপন না করায় পুরো এলাকা এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাউন্সিলর অফিসের সামনের রাস্তাটা আগে সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় সবাই নিশ্চিন্তে চলাচল করত। কিন্তু ক্যামেরাগুলো ভেঙে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এই রাস্তা এখন মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের মূল আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিসি ক্যামেরা না থাকার সুযোগ নিয়ে দিন দিন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং ছিনতাইকারীদের আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই মোড়ে মাদক কেনাবেচা ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আশেপাশের বাসা-বাড়ি এবং দোকানে চুরির ঘটনাও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। জননিরাপত্তার এই চরম বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসি ২০নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব) বলেন, “৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সিসি ক্যামেরাগুলো খোয়া যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে তা সত্য। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। খুব দ্রুতই বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে জানালার কাচ মেরামত এবং নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, “কাউন্সিলর কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করেছি। তবে অপরাধী শনাক্তকরণ ও স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আমরাও সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত ক্যামেরাগুলো সচল করার অনুরোধ জানিয়েছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো অজুহাতে জননিরাপত্তাকে এভাবে ঝুঁকিতে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থে অতি দ্রুত কাউন্সিলর কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরাগুলো পুনরায় স্থাপন করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।




