*মেয়রের নির্দেশ অকাযকর

*উচ্ছেদ করলে আবার বসে

*চাঁদা যায় কার পকেটে ?

আহমদ কবির: সর্বত্র দাপট চলছে হকারদের। শত চেষ্ঠা করেও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা তাদের। মনে হয় যেন হকাররাই আইনের উর্ধ্বে। আর প্রশাসন
তাদের গোলাম। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ হকারদের কারণে নগরীর আনাছে কানাছে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে। আইনশৃংখলার অবনতি হচ্ছে। চোর ডাকাত ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হচ্ছে রাস্তাঘাট। হরহামেশা ঘটছে ছিনতাইসহ নানা রকম অপরাধ।

নগরীর পুরো ফুটপাত দখল হয়ে যেন পণ্য বেচাকেনার হাটে পরিণত হয়েছে। তারা পুলিশ এমনকি নগর পিতার নির্দেশও মানতে চাচ্ছেনা। চসিক মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন এর নির্দেশ বারবার অমান্য করা হচ্ছে। তিনি পুনর্দখল রোধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কাজের কাজ কোন কিছুই হচ্ছে না। বরং উল্টো নগরীর সব সড়ক ফুটপাত দখল আরো পাকাপোক্ত হচ্ছে।

নগরীর এসব সড়ক পথ থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। চাঁদার একটি নির্দিষ্ট ভাগ কতিপয় পুলিশের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীতে ৬টি হকার সমিতি ও এক সমন্বিত সংগঠন মিলিয়ে ৭টি সংগঠনের মাধ্যমে তারা ব্যবসা করছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তালিকা অনুযায়ী ৮হাজার ৫৯৯জন হকার রয়েছে। সংখ্যা আরো কম বেশি হতে পারে। নগরীতে সবচেয়ে দখলবাজি চলছে নগরীর নিউ মার্কেট, ষ্টেশন রোড, আদালত অঙ্গন, বহদ্দারহাট এবং আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায়। সেখানে তারা রীতিমতো সড়ক রাস্তা দখল করে মার্কেটে পরিণত করেছে। কেনাবেচার হাট বসিয়েছে।পথচারীদের যেন হাটা পর্যন্ত দায় হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী সমিতিগুলো যেন তাদের কাছে হার মেনেছে।

শুধু ব্যবসায়ী নহে, নগরীর পুরো প্রশাসনও তাদের কাছে হার মেনেছে। যেন পরিণত হয়েছে মগের মুল্লুকে। তবে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানও চলে। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর আবার বসে হকার। উচ্ছেদকালে পুলিশ ব্যবসায়ীদের সাথে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয় তারা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হতে। আইনি পন্থায় সুনির্দিষ্ঠ পরিকল্পনার অভাবে বারবার হকারদের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ব্যর্থ হতে হচ্ছে। যা লজ্জাকর বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলছে হকরদের ব্যবসার দখলবাজি। কেউ তাদের রুখার সাধ্য নেই। নগরীর এমন কোন জায়গা সড়ক নেই যা তাদের দখলে চলে যায়নি। সর্বত্র চলছে দখলবাজি খেলা।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, পুলিশকে নিরবতা পালন করতে। আবার এর মধ্যে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি টহল পুলিশকে চাঁদা আদায় করতে। দিনে অন্তত তিনবার হকারকে পুলিশ চাঁদবাজদের একটি নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে হয় বলে নাম প্রকাশে একজন হকার অভিযোগ করেছেন।

একজন ভ্যানওয়ালা বলেছেন, তিনি চকবাজার এলাকার ফুটপাতে ভ্যানগাড়ি নিয়ে নতুন পুরাতন শার্ট বিক্রি করেন। তাকে সন্ধার পরে কয়েক ঘন্টার জন্য
২শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। সাথে ট্রাফিক পুলিশকেও খুশী করতে হয় বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম কলেজের উত্তর গেট হয়ে কেয়ারী গুলজার অলি খাঁ মসজিদ হয়ে চকববাজার কাঁচা বাজার পর্যন্ত হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার হকার বসেন। আগে এসব হকার থেকে আওয়ামী লীগের বিশেষ করে কাউন্সিলর টুনুর লোকজন প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করতেন। এখন টুনুর লোকজন নেই। এই স্থান দখল করে নিয়েছেন বিএনপির নামধারী লোকজন। একইভাবে নগরীর অন্যন্যা এলাকা থেকেও সমানতালে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। মানুষ মনে করছিল,এক সরকার বিদায় হয়েছে এবার হয়তো দেশের আমুল পরিবর্তন হবে। না কিছুই হয়নি। বরং সবক্ষেত্রে অপশাসন আর অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ আর উৎকণ্ঠা।

সুত্র আরো জানান, এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে যন্ত্রনা আর সহ্য না হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পুরো নগরীতে অভিযান পরিচলনা করবেন এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার পর জনবল নিয়ে নেমে পড়েন মাঠে। যেমন কথা তেমন কাজ।

চলতি মাসের ৬তারিখে সিটি ম্যাজিষ্ট্রেট সোয়েব উদ্দীন খান এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু করেন। তিনি নিউ মার্কেট, সদরঘাট রোড পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে বসা ২শ’র অধিক ভাসমান দোকানকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালায় চসিক। এভাবে কয়দিন চালাবেন উচ্ছেদ এ ধরনের কথা বার্তাও চলছে অনেকের মাঝে।

এই অভিযানের পর মেয়র শহাদাত হোসেন নির্দেশ দিয়েছেন হকারদের আর ফুটপাতে বসতে দেয়া হবেনা। কিন্তু পরক্ষনে আবার বসে যায় হকাররা। বুঝা যাচ্ছে প্রশাসন থেকে হকারদের ক্ষমতা বহুগুনে বেশি। শক্তিশালী ৭হকার সমিতি। তাদের আছে হাজার হাজার লাঠিয়াল হকার। হুকুম দিলেই এক মুহুর্তে নগরীকে রণক্ষেত্রে পরিণত করার ক্ষমতা রাখেন।

কথায় আছে ছেড়ে দে মা কেঁধে বাঁচি অবস্থা নগর প্রশাসনের। কঠিন পদক্ষেপ না নিলে সড়ক থেকে লাঠিয়াল এসব অবৈধ হকারকে উচ্ছেদ সম্ভব না।

অভিযোগ রয়েছে, নগরী থেকে প্রতিমাসে অন্তত ৩কোটির অধিক চাঁদা আদায় হয়। এ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে সেটি আগে হিসাব করতে হবে।

*মেয়রের নির্দেশ অকাযকর

*উচ্ছেদ করলে আবার বসে

*চাঁদা যায় কার পকেটে ?

আহমদ কবির: সর্বত্র দাপট চলছে হকারদের। শত চেষ্ঠা করেও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা তাদের। মনে হয় যেন হকাররাই আইনের উর্ধ্বে। আর প্রশাসন
তাদের গোলাম। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ হকারদের কারণে নগরীর আনাছে কানাছে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে। আইনশৃংখলার অবনতি হচ্ছে। চোর ডাকাত ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হচ্ছে রাস্তাঘাট। হরহামেশা ঘটছে ছিনতাইসহ নানা রকম অপরাধ।

নগরীর পুরো ফুটপাত দখল হয়ে যেন পণ্য বেচাকেনার হাটে পরিণত হয়েছে। তারা পুলিশ এমনকি নগর পিতার নির্দেশও মানতে চাচ্ছেনা। চসিক মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন এর নির্দেশ বারবার অমান্য করা হচ্ছে। তিনি পুনর্দখল রোধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কাজের কাজ কোন কিছুই হচ্ছে না। বরং উল্টো নগরীর সব সড়ক ফুটপাত দখল আরো পাকাপোক্ত হচ্ছে।

নগরীর এসব সড়ক পথ থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। চাঁদার একটি নির্দিষ্ট ভাগ কতিপয় পুলিশের পকেটেও যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীতে ৬টি হকার সমিতি ও এক সমন্বিত সংগঠন মিলিয়ে ৭টি সংগঠনের মাধ্যমে তারা ব্যবসা করছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তালিকা অনুযায়ী ৮হাজার ৫৯৯জন হকার রয়েছে। সংখ্যা আরো কম বেশি হতে পারে। নগরীতে সবচেয়ে দখলবাজি চলছে নগরীর নিউ মার্কেট, ষ্টেশন রোড, আদালত অঙ্গন, বহদ্দারহাট এবং আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায়। সেখানে তারা রীতিমতো সড়ক রাস্তা দখল করে মার্কেটে পরিণত করেছে। কেনাবেচার হাট বসিয়েছে।পথচারীদের যেন হাটা পর্যন্ত দায় হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী সমিতিগুলো যেন তাদের কাছে হার মেনেছে।

শুধু ব্যবসায়ী নহে, নগরীর পুরো প্রশাসনও তাদের কাছে হার মেনেছে। যেন পরিণত হয়েছে মগের মুল্লুকে। তবে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানও চলে। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর আবার বসে হকার। উচ্ছেদকালে পুলিশ ব্যবসায়ীদের সাথে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয় তারা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হতে। আইনি পন্থায় সুনির্দিষ্ঠ পরিকল্পনার অভাবে বারবার হকারদের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ব্যর্থ হতে হচ্ছে। যা লজ্জাকর বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলছে হকরদের ব্যবসার দখলবাজি। কেউ তাদের রুখার সাধ্য নেই। নগরীর এমন কোন জায়গা সড়ক নেই যা তাদের দখলে চলে যায়নি। সর্বত্র চলছে দখলবাজি খেলা।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, পুলিশকে নিরবতা পালন করতে। আবার এর মধ্যে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি টহল পুলিশকে চাঁদা আদায় করতে। দিনে অন্তত তিনবার হকারকে পুলিশ চাঁদবাজদের একটি নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে হয় বলে নাম প্রকাশে একজন হকার অভিযোগ করেছেন।

একজন ভ্যানওয়ালা বলেছেন, তিনি চকবাজার এলাকার ফুটপাতে ভ্যানগাড়ি নিয়ে নতুন পুরাতন শার্ট বিক্রি করেন। তাকে সন্ধার পরে কয়েক ঘন্টার জন্য
২শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। সাথে ট্রাফিক পুলিশকেও খুশী করতে হয় বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম কলেজের উত্তর গেট হয়ে কেয়ারী গুলজার অলি খাঁ মসজিদ হয়ে চকববাজার কাঁচা বাজার পর্যন্ত হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার হকার বসেন। আগে এসব হকার থেকে আওয়ামী লীগের বিশেষ করে কাউন্সিলর টুনুর লোকজন প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করতেন। এখন টুনুর লোকজন নেই। এই স্থান দখল করে নিয়েছেন বিএনপির নামধারী লোকজন। একইভাবে নগরীর অন্যন্যা এলাকা থেকেও সমানতালে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। মানুষ মনে করছিল,এক সরকার বিদায় হয়েছে এবার হয়তো দেশের আমুল পরিবর্তন হবে। না কিছুই হয়নি। বরং সবক্ষেত্রে অপশাসন আর অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ আর উৎকণ্ঠা।

সুত্র আরো জানান, এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে যন্ত্রনা আর সহ্য না হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পুরো নগরীতে অভিযান পরিচলনা করবেন এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার পর জনবল নিয়ে নেমে পড়েন মাঠে। যেমন কথা তেমন কাজ।

চলতি মাসের ৬তারিখে সিটি ম্যাজিষ্ট্রেট সোয়েব উদ্দীন খান এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু করেন। তিনি নিউ মার্কেট, সদরঘাট রোড পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে বসা ২শ’র অধিক ভাসমান দোকানকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালায় চসিক। এভাবে কয়দিন চালাবেন উচ্ছেদ এ ধরনের কথা বার্তাও চলছে অনেকের মাঝে।

এই অভিযানের পর মেয়র শহাদাত হোসেন নির্দেশ দিয়েছেন হকারদের আর ফুটপাতে বসতে দেয়া হবেনা। কিন্তু পরক্ষনে আবার বসে যায় হকাররা। বুঝা যাচ্ছে প্রশাসন থেকে হকারদের ক্ষমতা বহুগুনে বেশি। শক্তিশালী ৭হকার সমিতি। তাদের আছে হাজার হাজার লাঠিয়াল হকার। হুকুম দিলেই এক মুহুর্তে নগরীকে রণক্ষেত্রে পরিণত করার ক্ষমতা রাখেন।

কথায় আছে ছেড়ে দে মা কেঁধে বাঁচি অবস্থা নগর প্রশাসনের। কঠিন পদক্ষেপ না নিলে সড়ক থেকে লাঠিয়াল এসব অবৈধ হকারকে উচ্ছেদ সম্ভব না।

অভিযোগ রয়েছে, নগরী থেকে প্রতিমাসে অন্তত ৩কোটির অধিক চাঁদা আদায় হয়। এ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে সেটি আগে হিসাব করতে হবে।