রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোহমর্ষক ঘটনা ঘটেছে। পাশবিক এই নির্যাতনের সময় অপরাধীরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. বাদশা মিয়াকে (৩৬) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকায় সংঘটিত অপরাধের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে সময়মতো পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে থানা হেফাজতে নেয়।

 এর আগেরদিন শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাদশাকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরেরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ৭ দিনের রিমান্ডে আনার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিমপাড়ার মো. ছাবেরের ছেলে মো. সাইফুল (২৭) এবং পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মুকতুল্লা টিলার মো. জালালের ছেলে মো. মাহাবুব ওরফে মালু (৩০)। আর গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মাতব্বর টিলার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা পেশায় একজন কৃষক। গত ২৪ মে সকালে তাদের তিনটি ছাগল স্থানীয় নুরুল কবির হুজুরের বাড়ির সামনের মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য রেখে আসা হয়। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরী মাঠে সেগুলোকে খুঁজতে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, মাঠে কিশোরীকে একা পেয়ে আসামি বাদশা মিয়া হঠাৎ তার মুখ চেপে ধরে পাশের নির্জন জঙ্গলের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে অপর দুই সহযোগী সাইফুল ও মাহাবুবকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। সেখানে আসামিরা ভীতি প্রদর্শন করে কিশোরীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।

এ প্রতিবেদকে তার স্বজনরা জানায়, পাশবিক এই নির্যাতনের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। অবর্ণনীয় এই নির্যাতনের মুখে কিশোরী আসামিদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে আকুতি জানিয়ে বলেছিল, “আংকেল, আমার সাথে এসব না করে আমাকে বরং বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন।” কিন্তু পাথর হৃদয় অপরাধীদের মন তাতে গলেনি। উল্টো পাশবিক নির্যাতন শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। লোকলজ্জা ও চরম ভিডিও ফাঁসের ভীতির কারণে শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও, পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে পরিবারের কাছে কিশোরী ঘটনাটি খুলে বলে। এ সময় তাকে ঔষধের একটি পাতা দিয়ে এগুলো খাওয়ার জন্যেও বলে বলে জানান তারা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পদুয়া রাজারহাট বাজার। সেখান থেকে আরও ৫ কিলোমিটারের অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাঙ্গুনিয়া ও পার্বত্য বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় ঘটনাস্থলটির অবস্থান।

জয়নগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি চিহ্নিত চক্র এলাকাটিকে মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথেও এই চক্রের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে এখনও আসামিদের মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ঝোপের ভেতর পাতা বিছানো স্পট দৃশ্যমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে, একই এলাকায় একটি দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটে।

পার্শ্ববর্তী জয়নগর এলাকার প্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, সন্ধ্যায় ৪ জন মুখবাঁধা যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে এবং তার সন্তানদের হাত-মুখ বেঁধে ফেল রাখে। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করে। দস্যু দলটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। জেসমিন আক্তারের প্রবল সন্দেহ, গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়াই এই দস্যুতার মূলহোতা এবং এই ঘটনায় তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগীর পিতার লিখিত এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোহমর্ষক ঘটনা ঘটেছে। পাশবিক এই নির্যাতনের সময় অপরাধীরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. বাদশা মিয়াকে (৩৬) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকায় সংঘটিত অপরাধের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে সময়মতো পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে থানা হেফাজতে নেয়।

 এর আগেরদিন শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাদশাকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরেরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ৭ দিনের রিমান্ডে আনার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিমপাড়ার মো. ছাবেরের ছেলে মো. সাইফুল (২৭) এবং পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মুকতুল্লা টিলার মো. জালালের ছেলে মো. মাহাবুব ওরফে মালু (৩০)। আর গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মাতব্বর টিলার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা পেশায় একজন কৃষক। গত ২৪ মে সকালে তাদের তিনটি ছাগল স্থানীয় নুরুল কবির হুজুরের বাড়ির সামনের মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য রেখে আসা হয়। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরী মাঠে সেগুলোকে খুঁজতে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, মাঠে কিশোরীকে একা পেয়ে আসামি বাদশা মিয়া হঠাৎ তার মুখ চেপে ধরে পাশের নির্জন জঙ্গলের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে অপর দুই সহযোগী সাইফুল ও মাহাবুবকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। সেখানে আসামিরা ভীতি প্রদর্শন করে কিশোরীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।

এ প্রতিবেদকে তার স্বজনরা জানায়, পাশবিক এই নির্যাতনের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। অবর্ণনীয় এই নির্যাতনের মুখে কিশোরী আসামিদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে আকুতি জানিয়ে বলেছিল, “আংকেল, আমার সাথে এসব না করে আমাকে বরং বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন।” কিন্তু পাথর হৃদয় অপরাধীদের মন তাতে গলেনি। উল্টো পাশবিক নির্যাতন শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। লোকলজ্জা ও চরম ভিডিও ফাঁসের ভীতির কারণে শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও, পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে পরিবারের কাছে কিশোরী ঘটনাটি খুলে বলে। এ সময় তাকে ঔষধের একটি পাতা দিয়ে এগুলো খাওয়ার জন্যেও বলে বলে জানান তারা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পদুয়া রাজারহাট বাজার। সেখান থেকে আরও ৫ কিলোমিটারের অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাঙ্গুনিয়া ও পার্বত্য বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় ঘটনাস্থলটির অবস্থান।

জয়নগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি চিহ্নিত চক্র এলাকাটিকে মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথেও এই চক্রের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে এখনও আসামিদের মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ঝোপের ভেতর পাতা বিছানো স্পট দৃশ্যমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে, একই এলাকায় একটি দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটে।

পার্শ্ববর্তী জয়নগর এলাকার প্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, সন্ধ্যায় ৪ জন মুখবাঁধা যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে এবং তার সন্তানদের হাত-মুখ বেঁধে ফেল রাখে। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করে। দস্যু দলটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। জেসমিন আক্তারের প্রবল সন্দেহ, গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়াই এই দস্যুতার মূলহোতা এবং এই ঘটনায় তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগীর পিতার লিখিত এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”