কক্সবাজার প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবস্থিত এমএমবি ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় স্ক্যাভেটর (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে পাহাড় কেটে ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস, সড়ক ধস এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লামা-ফাইতং সড়কের পাশেই ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন চলছে। পাহাড় কেটে গভীর খাদ তৈরি করায় সড়কের একাংশ ধসে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই স্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাহাড় কাটা চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ না হলে সড়কসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “পাহাড় আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
পরিবেশ বিষয়ে সচেতন ব্যক্তিদের মতে, পাহাড় ধ্বংসের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে, মাটির ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘমেয়াদে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকিতে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে এমএমবি ব্রিকফিল্ডের মালিক বশির মোল্লার কাছে ইটভাটা পরিচালনা ও পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো ফিল্ডের অনুমতি নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতি সিজনে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই আমরা ফিল্ড চালু করি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি মনে হয় নতুন এসেছেন, তাই এ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। ইটভাটা যেহেতু আছে, পাহাড় কাটতেই হবে।” বৈধ কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। ফলে তার কাছ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ এবং পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




