নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ফুটপাতগুলো এখন হকার ও অবৈধ দখলদারদের কবলে। উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পথচারীদের হাঁটার জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বরং রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সাধারণ পথচারীদের এখন মূল রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ফুটপাত নয়, যেন ওপেন মার্কেট

বনানীর ওয়্যারলেস গেট মোড়ে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার চিত্র। মোড়ে অবস্থিত বনানী থানা বিএনপি অফিসের পাশে সিটি কর্পোরেশন পথচারীদের বিশ্রামের জন্য যে বসার জায়গা করে দিয়েছিল, সেখানে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পুরো এলাকাটি দখল করে নিয়েছে চা ও সিগারেটের অবৈধ দোকান। শুধু ফুটপাতই নয়, ব্যস্ত রাস্তার তিন ভাগের দুই ভাগই এখন ভাসমান হকারদের দখলে। বৈশাখীর সামনের রাস্তার অর্ধেক ভ্যান গাড়ি পার্কিং এর দখলে থাকায় নামকরণ হয়েছে ভ্যান চত্বর! এমনকি মোড়ের ব্যস্ত সড়কে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হওয়ার পর ফুটপাতে ওঠার জায়গাটুকুও ফাঁকা রাখা হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে টিঅ্যান্ডটি স্কুল রোড, মহাখালী মডেল স্কুল রোড, ক্যান্সার হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রমজান মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে আসার আগে রাতারাতি এসব এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরদিনই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

নেপথ্যে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল দখলদারিত্বের পেছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে। ওয়্যারলেস গেট মোড় ২০নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত জ-ইউনিট বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান এই এলাকার দোকানপাট থেকে চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করেন। টিভি গেট এলাকা থেকে বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়ার লোকজন এখান থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে। টিঅ্যান্ডটি স্কুল রোড থেকে ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে এখানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্কয়ার বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকা থেকে বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আলম রাসেলের ছোট ভাই জাহিদ ও তার ‘কিশোর গ্যাং’ বাহিনী এই এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবীব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা যদি চাঁদা না নেয়, তবে এই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ হচ্ছে না কেন? আমরা কি ট্যাক্স দিয়েও নিরাপদে ফুটপাতে হাঁটতে পারব না? অবৈধ দোকানদাররা কি নেতাদের চেয়েও শক্তিশালী?”

বিষয়টি নিয়ে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকার উচ্ছেদ মূলত সিটি কর্পোরেশনের কাজ। তবে জনস্বার্থে আমরা নিয়মিত টহল দেই। চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেব। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “আমরা বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালাই, কিন্তু আমাদের টিম চলে যাওয়ার পরই আবার দোকান বসে যায়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শুধু অভিযান দিয়ে ফুটপাত চিরস্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা কঠিন। আমরা খুব দ্রুত এই এলাকায় বড় ধরনের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করব।”

বনানীর সাধারণ মানুষের দাবি, এই দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফুটপাতগুলো পুনরায় পথচারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ফুটপাতগুলো এখন হকার ও অবৈধ দখলদারদের কবলে। উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পথচারীদের হাঁটার জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বরং রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সাধারণ পথচারীদের এখন মূল রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ফুটপাত নয়, যেন ওপেন মার্কেট

বনানীর ওয়্যারলেস গেট মোড়ে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার চিত্র। মোড়ে অবস্থিত বনানী থানা বিএনপি অফিসের পাশে সিটি কর্পোরেশন পথচারীদের বিশ্রামের জন্য যে বসার জায়গা করে দিয়েছিল, সেখানে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পুরো এলাকাটি দখল করে নিয়েছে চা ও সিগারেটের অবৈধ দোকান। শুধু ফুটপাতই নয়, ব্যস্ত রাস্তার তিন ভাগের দুই ভাগই এখন ভাসমান হকারদের দখলে। বৈশাখীর সামনের রাস্তার অর্ধেক ভ্যান গাড়ি পার্কিং এর দখলে থাকায় নামকরণ হয়েছে ভ্যান চত্বর! এমনকি মোড়ের ব্যস্ত সড়কে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হওয়ার পর ফুটপাতে ওঠার জায়গাটুকুও ফাঁকা রাখা হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে টিঅ্যান্ডটি স্কুল রোড, মহাখালী মডেল স্কুল রোড, ক্যান্সার হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রমজান মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে আসার আগে রাতারাতি এসব এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরদিনই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

নেপথ্যে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল দখলদারিত্বের পেছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে। ওয়্যারলেস গেট মোড় ২০নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত জ-ইউনিট বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান এই এলাকার দোকানপাট থেকে চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করেন। টিভি গেট এলাকা থেকে বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়ার লোকজন এখান থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে। টিঅ্যান্ডটি স্কুল রোড থেকে ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে এখানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্কয়ার বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকা থেকে বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আলম রাসেলের ছোট ভাই জাহিদ ও তার ‘কিশোর গ্যাং’ বাহিনী এই এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবীব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা যদি চাঁদা না নেয়, তবে এই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ হচ্ছে না কেন? আমরা কি ট্যাক্স দিয়েও নিরাপদে ফুটপাতে হাঁটতে পারব না? অবৈধ দোকানদাররা কি নেতাদের চেয়েও শক্তিশালী?”

বিষয়টি নিয়ে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকার উচ্ছেদ মূলত সিটি কর্পোরেশনের কাজ। তবে জনস্বার্থে আমরা নিয়মিত টহল দেই। চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেব। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “আমরা বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালাই, কিন্তু আমাদের টিম চলে যাওয়ার পরই আবার দোকান বসে যায়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শুধু অভিযান দিয়ে ফুটপাত চিরস্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা কঠিন। আমরা খুব দ্রুত এই এলাকায় বড় ধরনের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করব।”

বনানীর সাধারণ মানুষের দাবি, এই দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফুটপাতগুলো পুনরায় পথচারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।