বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: ঈদুল ফিতর সামনে, কিন্তু প্রতিশ্রুত সেই প্রত্যাবাসনের স্বপ্ন আজও অধরাই। এক বছর আগে দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের ঈদের আগেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরানোর কথা থাকলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফেরেনি। উল্টো পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গত ১৫ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পে বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
২০২৫ সালের ১৪ মার্চ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ইফতার অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস উপস্থিত থেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০২৬ সালের ঈদ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে উদযাপন করতে পারবে। সেই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখেছিল শরণার্থী শিবিরের মানুষগুলো। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রিয়াজ বলেন, “সেই সময় আমরা খুব আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু এখনো আমরা ক্যাম্পেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছি।
একই হতাশা প্রকাশ করেছেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের।
তিনি বলেন, “ঈদ নিজ দেশে করার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাবাসনের প্রধান বাধা রয়ে গেছে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া। গত আট বছরে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি বলেন, “প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। অবকাঠামোগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, “প্রতিশ্রুতি ছিল বড়, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। নতুন সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। ঈদ আসে, ঈদ যায়—কিন্তু বদলায় না রোহিঙ্গাদের ভাগ্য। প্রতিশ্রুতির ভারে নুয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—আর কত অপেক্ষা?




