মাহবুবুর রহমান: নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রের পুরো পরিপ্রেক্ষিতকে আঘাত বা সুরক্ষা দেয়। যখন দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ—নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তখন প্রশ্ন উঠে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অর্থাৎ ইউনূস সরকার কি এই পরিস্থিতি থেকে দায় এড়াতে পারবে?

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা এবং ভোটার আস্থা। নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি অনুপস্থিত থাকলে প্রতিযোগিতার মান স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়। ভোটাররা অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক হতে পারে, কারণ মনে হয় ফলাফল আগেই ঠিক হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপিয়ে পড়ে।

ইউনূস সরকারকে শুধু ভোটের দিন কেন্দ্র স্থাপন বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে না। তাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচনকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক রাখা। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা, সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দেওয়া এবং ফলাফল বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রকাশ—এই দায়িত্বগুলো প্রশাসনিক এবং নৈতিকভাবে সরকারের ওপর চাপিয়ে দেয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক যুক্তিও আছে। কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, সেটি তার রাজনৈতিক অধিকার। সংবিধান অনুযায়ী ভোট স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের নেই। তবে যে দায়িত্ব থেকে সরকার নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে, তা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, ভোটার আস্থা এবং প্রতিযোগিতার মান—এই সবই সরকারের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে।

ভোটার দৃষ্টিকোণও জটিল। একটি বড় দলের অনুপস্থিতি অনেক ভোটারের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। ভোটাররা ভাবতে পারে, ভোটের ফলাফল আগেই নির্ধারিত। এতে ভোটের উপস্থিতি কমে যায়, অংশগ্রহণ সীমিত হয়, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে কিছু ভোটার মনে করেন, প্রতিযোগিতাহীন হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই দ্বন্দ্বই নির্বাচনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তোলে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউনূস সরকারকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে, প্রধান দল অনুপস্থিত থাকলেও ভোট প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যর্থ হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, “ইউনূস সরকার চাইলে নির্বাচনকে শুধু প্রক্রিয়াগতভাবে পরিচালনা করতে পারে, কিন্তু ফলাফল গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার দায় এড়ানো যায় না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্রের মৌলিক মান ক্ষুণ্ণ হয়।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি নৈতিকও বটে। কোনো রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি থাকলেও ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের মূল কর্তব্য। ভোটার আস্থা, প্রতিযোগিতার মান, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা—সবই সরকারের ওপর নির্ভরশীল।

ইউনূস সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। যদি ভোটের ফলাফল বিতর্কিত হয় বা ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বড় রাজনৈতিক দল না থাকলে ভোট কেবল একটি অনুষ্ঠান হয়; গণতন্ত্রের বাস্তব মান সেখানে বজায় থাকে না।

সংক্ষেপে, আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটি স্বাভাবিক। তবে প্রশ্ন হলো—নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য হবে? এটাই নির্ধারণ করবে ইউনূস সরকারের কার্যকারিতা। সরকারি দায়িত্ব থেকে নিজেদের বাঁচানোর কোনো পথ নেই। দায়িত্ব পালন ব্যর্থ হলে, শুধু ভোটের ফল নয়, দেশের গণতন্ত্রও ক্ষুণ্ণ হয়।

ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলো গণতন্ত্রের রক্ষক। কোনো দলের অনুপস্থিতি এড়িয়ে গিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর কেবল সংবিধান নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রের আস্থা ও স্থিতিশীলতার পরম পরীক্ষা।

 

মাহবুবুর রহমান: নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রের পুরো পরিপ্রেক্ষিতকে আঘাত বা সুরক্ষা দেয়। যখন দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ—নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তখন প্রশ্ন উঠে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অর্থাৎ ইউনূস সরকার কি এই পরিস্থিতি থেকে দায় এড়াতে পারবে?

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা এবং ভোটার আস্থা। নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি অনুপস্থিত থাকলে প্রতিযোগিতার মান স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়। ভোটাররা অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক হতে পারে, কারণ মনে হয় ফলাফল আগেই ঠিক হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপিয়ে পড়ে।

ইউনূস সরকারকে শুধু ভোটের দিন কেন্দ্র স্থাপন বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে না। তাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচনকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক রাখা। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা, সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দেওয়া এবং ফলাফল বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রকাশ—এই দায়িত্বগুলো প্রশাসনিক এবং নৈতিকভাবে সরকারের ওপর চাপিয়ে দেয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক যুক্তিও আছে। কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, সেটি তার রাজনৈতিক অধিকার। সংবিধান অনুযায়ী ভোট স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের নেই। তবে যে দায়িত্ব থেকে সরকার নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে, তা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, ভোটার আস্থা এবং প্রতিযোগিতার মান—এই সবই সরকারের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে।

ভোটার দৃষ্টিকোণও জটিল। একটি বড় দলের অনুপস্থিতি অনেক ভোটারের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। ভোটাররা ভাবতে পারে, ভোটের ফলাফল আগেই নির্ধারিত। এতে ভোটের উপস্থিতি কমে যায়, অংশগ্রহণ সীমিত হয়, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে কিছু ভোটার মনে করেন, প্রতিযোগিতাহীন হলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই দ্বন্দ্বই নির্বাচনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তোলে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউনূস সরকারকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে, প্রধান দল অনুপস্থিত থাকলেও ভোট প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যর্থ হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

একজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, “ইউনূস সরকার চাইলে নির্বাচনকে শুধু প্রক্রিয়াগতভাবে পরিচালনা করতে পারে, কিন্তু ফলাফল গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার দায় এড়ানো যায় না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্রের মৌলিক মান ক্ষুণ্ণ হয়।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি নৈতিকও বটে। কোনো রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি থাকলেও ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের মূল কর্তব্য। ভোটার আস্থা, প্রতিযোগিতার মান, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা—সবই সরকারের ওপর নির্ভরশীল।

ইউনূস সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। যদি ভোটের ফলাফল বিতর্কিত হয় বা ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বড় রাজনৈতিক দল না থাকলে ভোট কেবল একটি অনুষ্ঠান হয়; গণতন্ত্রের বাস্তব মান সেখানে বজায় থাকে না।

সংক্ষেপে, আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটি স্বাভাবিক। তবে প্রশ্ন হলো—নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য হবে? এটাই নির্ধারণ করবে ইউনূস সরকারের কার্যকারিতা। সরকারি দায়িত্ব থেকে নিজেদের বাঁচানোর কোনো পথ নেই। দায়িত্ব পালন ব্যর্থ হলে, শুধু ভোটের ফল নয়, দেশের গণতন্ত্রও ক্ষুণ্ণ হয়।

ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলো গণতন্ত্রের রক্ষক। কোনো দলের অনুপস্থিতি এড়িয়ে গিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তব্য। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর কেবল সংবিধান নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রের আস্থা ও স্থিতিশীলতার পরম পরীক্ষা।