নগর প্রতিবেদক: আনোয়ারা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রাঙ্গাদিয়া এবং একই দিন রাত দেড়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

সবশেষ ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতিতে হয় গোলাগুলি। এতে তিন পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ১৫ জন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় একটি প্রাইভেট কার। একই সঙ্গে পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হাসান ওরফে হাসান চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হাসান চেয়ারম্যান পক্ষের অভিযোগ, রোববার রাতের ঘটনার পর তাদের পক্ষের ইলিয়াস, সুজন ও মোতালেবকে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যে সুজনকে সোমবার ভোর রাতে একটি দোনলা বন্দুক দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বাকি দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মালামাল সরবরাহ নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

অন্যদিকে হেলাল উদ্দিনের পক্ষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। তাদের প্রতিরোধ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- আব্দুল গফুর, শাহজাহান, আব্দুল জব্বার, গিয়াসউদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, আশফাকুল হাসান চৌধুরী, এমদাদ হোসেন, মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ হেলাল, আব্দুর রশিদ ও আবুল কাশেম। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, আনোয়ারা উপজেলার বঙ্গোপসাগর উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানোর একটি কাজ চলছে। জাহিদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন আল-হাসান ট্রেডিং ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রকল্পে ইট, বালু ও কংকর সরবরাহ করে আসছে। তবে এতে বাধা দেয় হেলাল উদ্দিনের গ্রুপ। তাদের পক্ষের দাবি, হাসান চেয়ারম্যান মালামাল সরবরাহ করলে তাদের চাঁদা দিতে হবে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল।

সম্প্রতি ওই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হেলাল গ্রুপ চাঁদা দাবি করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গতকাল (রোববার) দুপুরে প্রকল্প এলাকা থেকে ফেরার পথে হেলাল গ্রুপের লোকজন হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীদের ওপর হামলা করে।

ওই ঘটনায় আহত আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, দুপুরে হামলার পর অভিযুক্তরা আমাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় আমি এবং জব্বার ও শাহজাহান গুরুতর আহত হই। পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করি। এ ঘটনার রোববার রাতে থানায় অভিযোগ দিই। ফেরার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় আমাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে আমাদের তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল কবির রানা, গাজী ফোরকান, জিয়াউর কাদের জিয়া, মোহাম্মদ সাদেক, জাবেদ, মোহাম্মদ রাশেদ, এরশাদ, নুর শাহেদ খান রিপন, মো. রফিক ও মঈন উদ্দিন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীরা আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে আনোয়ারা উপজেলায় ভীতিকর মিছিল দিতে থাকে। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার ভিডিও লাইভে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতে বিএনপির লোকজন তাদের প্রতিরোধ করে। একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় আমাদের এক বিএনপি নেতার জায়গা দখল করা নিয়ে এর আগে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে চলাফেরা করছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে অবহিত করব।

অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপি সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হাসান বলেন, রোববার দুপুরে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় আহত হয় বিএনপি নেতা গফুর। রাতে তাকে নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ জমা দিতে যাই। ফেরার পথে হেলালের অনুসারীরা ‘অভিযোগ কেন জমা দিয়েছি প্রশ্ন করে’— আমাদের ওপর ফের হামলা চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে তিনজনকে অপহরণ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পরও বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার বিষয়টি মানা যাচ্ছে না।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। একপক্ষের লোকজন একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তরালে বিষয়টি এ রকমই।

নগর প্রতিবেদক: আনোয়ারা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রাঙ্গাদিয়া এবং একই দিন রাত দেড়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

সবশেষ ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতিতে হয় গোলাগুলি। এতে তিন পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ১৫ জন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় একটি প্রাইভেট কার। একই সঙ্গে পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হাসান ওরফে হাসান চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হাসান চেয়ারম্যান পক্ষের অভিযোগ, রোববার রাতের ঘটনার পর তাদের পক্ষের ইলিয়াস, সুজন ও মোতালেবকে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যে সুজনকে সোমবার ভোর রাতে একটি দোনলা বন্দুক দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বাকি দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মালামাল সরবরাহ নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

অন্যদিকে হেলাল উদ্দিনের পক্ষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। তাদের প্রতিরোধ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- আব্দুল গফুর, শাহজাহান, আব্দুল জব্বার, গিয়াসউদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, আশফাকুল হাসান চৌধুরী, এমদাদ হোসেন, মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ হেলাল, আব্দুর রশিদ ও আবুল কাশেম। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, আনোয়ারা উপজেলার বঙ্গোপসাগর উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানোর একটি কাজ চলছে। জাহিদ ইকবাল নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন আল-হাসান ট্রেডিং ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রকল্পে ইট, বালু ও কংকর সরবরাহ করে আসছে। তবে এতে বাধা দেয় হেলাল উদ্দিনের গ্রুপ। তাদের পক্ষের দাবি, হাসান চেয়ারম্যান মালামাল সরবরাহ করলে তাদের চাঁদা দিতে হবে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল।

সম্প্রতি ওই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হেলাল গ্রুপ চাঁদা দাবি করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গতকাল (রোববার) দুপুরে প্রকল্প এলাকা থেকে ফেরার পথে হেলাল গ্রুপের লোকজন হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীদের ওপর হামলা করে।

ওই ঘটনায় আহত আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, দুপুরে হামলার পর অভিযুক্তরা আমাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় আমি এবং জব্বার ও শাহজাহান গুরুতর আহত হই। পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করি। এ ঘটনার রোববার রাতে থানায় অভিযোগ দিই। ফেরার পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় আমাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে আমাদের তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল কবির রানা, গাজী ফোরকান, জিয়াউর কাদের জিয়া, মোহাম্মদ সাদেক, জাবেদ, মোহাম্মদ রাশেদ, এরশাদ, নুর শাহেদ খান রিপন, মো. রফিক ও মঈন উদ্দিন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, হাসান চেয়ারম্যানের অনুসারীরা আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে আনোয়ারা উপজেলায় ভীতিকর মিছিল দিতে থাকে। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করার ভিডিও লাইভে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতে বিএনপির লোকজন তাদের প্রতিরোধ করে। একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় আমাদের এক বিএনপি নেতার জায়গা দখল করা নিয়ে এর আগে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে চলাফেরা করছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে অবহিত করব।

অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপি সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হাসান বলেন, রোববার দুপুরে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় আহত হয় বিএনপি নেতা গফুর। রাতে তাকে নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ জমা দিতে যাই। ফেরার পথে হেলালের অনুসারীরা ‘অভিযোগ কেন জমা দিয়েছি প্রশ্ন করে’— আমাদের ওপর ফের হামলা চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে তিনজনকে অপহরণ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পরও বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার বিষয়টি মানা যাচ্ছে না।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটেছে। একপক্ষের লোকজন একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্তরালে বিষয়টি এ রকমই।