নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, জীবনটা নুষের জন্য স্বল্প। স্বল্প জীবনে যারা সমাজকে কিছু দিয়ে যেতে পারে তাঁরাই স্মরণীয় ও বরণীয় হতে পারেন। ডা. ফজলুল আমীন তৎকালীন অবহেলিত, অন্ধকরাচ্ছন্ন পশ্চাদপদ সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আলোকিত মানুষ তৈরীর কাজে আত্মনিয়োগ করে একজন প্রকৃত সমাজ সেবকের প্রতিচ্ছবি হয়েছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে ডা. ফজলুল হাজেরা ডিগ্রী কলেজের মিলনায়তনে ডা. ফজলুল আমীনের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ডা. আমীন ছিলেন একজন বিনয়ী মানুষ। বিনয় ছিল তার অহংকার। এই বিনয় দিয়ে মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে বলে পশ্চাদপদ এলাকা আজ আলোকিত হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আসলাম হোসেন’র সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক মনোজ কুমার দেবের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ আলম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান কলিম সরওয়ার।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অধ্যাপক মো. ইসমাইল, নুরুল আমিন, মো. ইলিয়াছ, ফজলুল আমীনের পুত্র এরশাদুল আমীন, নাতি মাহিদ আমীন, স্বপন কুমার নাথ, জয়নাল আবেদীন, অহিদুল আমীন, অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, আলহাজ্ব মো. নাসির, মো. রফিক, কান্ত লাল দাশ, আসলাম সওদাগর, প্রাক্তন ছাত্র আশরাফুল আলম, ছাত্রী রাহনুর আশরাফ মীম প্রমুখ।
মেয়র আরো বলেন, ডা. ফজলুল আমীন দক্ষিণ কাট্টলীতে প্রাইমারী থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নিজের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। শুধু তা নয় তিনি মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত জায়গা তার স্ত্রীর নামে রেখে গেলে সেই রকম অনেক জায়গা শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নামে তার স্ত্রী দান করে গেছেন। এরকম মহিয়সী নারী আজকের সমাজে বিরল বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। মেয়র ডা. ফজলুল আমীনের নামে রাস্তার নামকরণের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রস্তাবণা দিতে দায়িত্ব প্রদান করেন।
প্রধান বক্তা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, তিনি গরীব রোগীদের থেকে ফিস নিতেন না। প্রয়োজনে ঔষধপত্রও দিয়ে দিতেন। তিনি গরীবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেবা ধর্মকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। মানুষের সেবার মধ্যেই ছিল তার সুখ। প্রতিদান হিসেবে তিনি পেয়েছেন মানুষের ভালবাসা, স্বীকৃত হয়েছেন মানববন্ধু রূপে।
বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট সাংবাদিক কলিম সরওয়ার বলেন, ডা. ফজলুল আমীন অবহেলিত, অন্ধাকারাচ্ছন্ন এবং পশ্চাদপদ সমাজের আলোকবর্তিকা ছিলেন। তাঁর চিন্তা চেতনা ছিল তৎকালীন পশ্চাদপদ সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ একটি জাতির ভিত্ তখনই মজবুত হয় যখন সে জাতিতে শিক্ষার হার বেশি থাকে।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচিতে সকালে মরহুমের কবর পুষ্পস্তবক অর্পন, জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, ডা. ফজলুল আমীন’র জীবনীর উপর রচিত রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ, কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত ছিল।




